• মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে কেন পড়বো?

  আল মাহমুদ রাজ

২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:০২
প্রতীকী
ছবি : প্রতীকী

কম্পিউটার তো আসলে গণনা করার যন্ত্র, তাই না? তোমরা যারা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চাও তোমাদের জন্যই আজ এই লেখাটি। 

বাংলাদেশের সাবজেক্টগুলোর মধ্যে একটি হট সাবজেক্ট হলো কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং। কম্পিউটার সায়েন্স খুবই জনপ্রিয় একটা বিষয়। আজকাল অনেকেই উচ্চশিক্ষায় বেছে নিচ্ছে সিএসই। এ বিষয় পড়াশোনায় শিক্ষার্থীরা সর্বত্রই প্রযুক্তির ছোঁয়ায় থাকে বলে শিক্ষাকে শুধু পড়াশোনার চাপ হিসেবে না নিয়ে আনন্দ ও বিনোদনের অংশ খুঁজে পায়। অন্যদিকে গড়ে উঠতে থাকে চাকরির ক্যারিয়ারও। দিন দিন এ কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্টের চাহিদা যেমন বাড়ছে তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কর্মসংস্থানের সুযোগ। বাংলাদেশের অনেক সিএসই ইঞ্জিনিয়ারই বিশ্বের নামকরা প্রতিষ্ঠানে সাফল্যের সঙ্গে চাকরি করে আসছে।

আমার এই লেখার উদ্দেশ্য কম্পিউটার সায়েন্সে কি কি পড়ানো হয় সেটা সবাইকে জানানো, বিশেষ করে কম বয়সীদের যারা এখনো কোনো বিষয় বেছে নেয়নি এবং তাদের অভিভাবকদের জন্য।

বর্তমানে চারপাশের সবকিছু প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে গেছে, তাই যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবং স্মার্ট পেশা হিসেবে কম্পিউটার সাইন্স ইঞ্জিনিয়ারিং সঠিক পছন্দ হতে পারে। বাংলাদেশের মানুষের এক অংশের ধারণা কম্পিউটার সায়েন্সে ওয়ার্ড, পাওয়ার পয়েন্ট এসব শেখানো হয়, এবং এগুলো যেহেতু পাড়ার দোকানদারও ভালো পারে তাই কম্পিউটার সায়েন্স পড়ার কোনো মানে নাই। আবার কম্পিউটার সম্পর্কে ভালো জানে, টুকটাক প্রোগ্রামিংও কিছুটা জানে এমন মানুষের ধারণা এখানে শুধু এইচটিএমএল, পিএইচপিতে এ ওয়েবসাইট বানানো শেখায়, যেগুলো কম্পিউটার সায়েন্স না পড়লেও শেখা যায়, ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে এই ধারণাটা বেশি কাজ করে। 

কম্পিউটার সায়েন্স বললে অবধারিত ভাবে প্রথমে চলে আসে প্রোগ্রামিং। কম্পিউটার যেহেতু মানুষের ভাষা বুঝেনা তাকে বিশেষ ভাষায় বোঝাতে হয়। যাকে বলে প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ শিখে সফটওয়্যার, ওয়েবসাইট যেমন বানানো সম্ভব তেমনি গাণিতিক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব, রকেটের গতিপথ নির্ণয় করা সম্ভব, কোয়ান্টাম মেকানিক্স নিয়ে গবেষণা সম্ভব, ডিএনএ অ্যানালাইসিস করা সম্ভব। এককথায় বলতে গেলে প্রোগ্রামিংয়ের জ্ঞান আধুনিক যুগের সুপার পাওয়ার যেটা দিয়ে পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বলো তো গুগল কিভাবে লাখ লাখ ওয়েবসাইট থেকে চোখের পলকে দরকারি ডাটা খুঁজে আনে? কিভাবে লাখ লাখ টেরাবাইটের ডিএনএ সিকোয়েন্স থেকে খুঁজে বের করা হয় জীবনের রহস্য? এধরণের প্রবলেম সলভিং এর আলোচনা করা হয় অ্যালগরিদম কোর্সে। ফেসবুক কিভাবে এত মানুষের তথ্য সংরক্ষণ করে? এলোমেলো ভাবে সংরক্ষণ করলে তাড়াতাড়ি খুঁজে পাওয়া সমস্যা, তাই তথ্য সংরক্ষণ করার নির্দিষ্ট কিছু
টেকনিক আছে এগুলো আলোচনা করা হয় ডাটা স্ট্রাকচার কোর্সে।

মোটকথা, তুমি সিএসই পড়লে তোমাকে নিত্যনতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রযুক্তির প্রতি তোমার ভালোবাসা জন্মাতে হবে। এর মানে এই নয় যে তোমার হাই-পারফর্মেন্স পিসি লাগবে, স্মার্ট ফোন লাগবে, ম্যাক বুক লাগবে। তোমাকে প্রযুক্তির নতুন নতুন আপডেটগুলো জানতে হবে।

তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) জনপ্রিয় বিষয় তবে শুধু চাকরিই নয়, যারা সারাদিন অফিস করতে চান না তাদের জন্য রয়েছে ঘরে বসেই ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করে আয়ের সুযোগ। সুতরাং ক্যারিয়ার গড়ার জন্য সিএসই অবশ্যই বেছে নিতে পারো। যেসব শিক্ষার্থী চিন্তাশীল, একটি বিষয়ে ধৈর্য সহকারে লেগে থাকার মানসিকতা রাখে তারাই এ বিষয়ে ভর্তি হতে পারো।

লেখক : শিক্ষার্থী , ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)

ওডি/এমএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড