• রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নাড়ির টানে বাড়ির পানে

  মাহবুব নাহিদ

০৪ এপ্রিল ২০২৪, ১৭:৪০
মাহবুব নাহিদ
মাহবুব নাহিদ

খবরের কাগজ খুললেই এই লেখাটা দেখা যাবে, টেলিভিশনে বারবার বলবে এই লাইনটা। সাথে জুড়ে যায় আরেকটি লাইন, গ্রামীণফোনের গান “স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার”

বাংলাদেশের মানুষের আবেগ বোধহয় পৃথিবীর সকল জাতের মানুষের চেয়ে বেশি। কারণ উৎসবের সময় এভাবে কষ্ট করে কাটখড় পুড়িয়ে বাড়িতে যাওয়া মানুষ পৃথিবীতে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। নাড়ির টানে বাড়ির পানে, কথাটা শুনলেই শরীরের মধ্যে একটা শিহরণ জাগে, হৃদয়ে স্ফুলিঙ্গ তৈরি হয়। নিজের মাঝে এক অন্য মানুষকে কল্পনা করা যায়।

নাড়ি শব্দটা এখানে আসলে কেন আসলো? অনেকেই এখানে নাড়ি এবং নারী দিয়ে মিলিয়ে ফেলে। কিন্তু বস্তুত এই নাড়ি শব্দটার সাথে দুই নাড়ি/নারী জড়িত। আমরা প্রত্যেকেই আমাদের মায়ের নাড়িকাটা ধন। মায়ের ঔরসে দশ মাস দশ দিন অবস্থান করার পর পৃথিবীর আলো দেখতে পাই আমরা। পড়াশোনা হোক কিংবা চাকরি, বাড়ির থেকে অনেকেরই দূরে থাকতে হয়। বাড়ি থেকে দূরে থাকা মানেই নাড়ি থেকে দূরে থাকা। ঈদের সময় আমাদের বড় একটা বন্ধ মেলে কর্মক্ষেত্র বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে। খুব কম মানুষেরই এই সময় স্ব স্ব জায়গায় থাকতে মন চায়। সবারই মনটা চায় মায়ের কাছে যেতে। মায়ের পাশাপাশি আমাদের জীবনের সাথে আরো অনেক নারী জড়িয়ে থাকে। যেমন আমাদের ভগ্নি কিংবা পত্নী! আমাদের মায়েরা বোনেরা স্ত্রী আমাদের জন্য চাতক পাখির মতো তাকিয়ে থাকে আমাদের অপেক্ষায়। তাদের মুখে একটু বাড়তি হাসি ফোটানোর জন্য হাতে কিছু একটা নিয়ে গেলে তো কথাই নেই। হয়তো একটা শাড়ি কিংবা অন্য যেকোনো কিছু। এই সামান্য সময়ের জন্য আমাদের অপেক্ষা পুরো এক বছরের।

“স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার” এই কথাটার আসলে অর্থ কী? স্বপ্নেরা আসলে কীভাবে বাড়ি যায়? স্বপ্নেরা লঞ্চে চড়ে, বাসে চড়ে, ট্রেনে চড়ে বাড়ি যায়। কিন্তু স্বপ্নটা আসলে কিসের?

ঈদ আসে মাত্র একটি দিনের জন্য। সারা বছরের অপেক্ষা শেষে একটি দিনের জন্য আসে ঈদ। ঈদের আনন্দটা হচ্ছে কচুপাতার উপরে থাকা পানির মতো। যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ হীরকের মতো চকচক করে, কিন্তু পড়ে গেলেই শেষ! তবুও ঐটুকু সময়কে যতটুকু উদযাপন করা যায় সেটাই বড়। ঐ সময়টুকুকে স্বপ্নের সাথে তুলনা করার কারণ হচ্ছে। আমরা হয়তো এই আয়োজন ভেঙে আবার যে যার কর্মক্ষেত্রে মিলিয়ে যাব। কিন্তু সামান্য সময়ের ঐ আনন্দগুলো স্বপ্নের মতোই হৃদয়ের মানসপটে থেকে যায়। এই সময়ের সুন্দর স্মৃতিগুলো আমাদের জোগায় কাজে কর্মে নতুন অনুপ্রেরণা।

যারা ঈদে যাত্রা করেন অনেক কষ্ট হয়, পথে বহু যাতনার শিকার হয়ে বাড়ি পৌঁছায় তারা। রাস্তায় নানান ধরনের সমস্যা হয়। যানজট থেকে শুরু মলম পার্টি, বহু যাতনার শিকার হতে হয়। তবুও মনের গহীন কোনে ওই যে এক তৃপ্তির ঢেকুর তা যে বাড়িতে গেলেই পাওয়া যায়।

প্রদীপের তলায় তো অন্ধকার থাকবেই, কারো তো বাড়িই নেই। কারো আবার বাড়ি থেকেও কেউ নেই, কারো বা সব থেকেও যাওয়ার সুযোগ নেই। কেউ থাকে দূর প্রবাসে, ঈদের দিনের আনন্দ তাদের ম্লান হয়ে যায়। হৈহল্লা না করে কেঁদে ভাসাতে হয় বুক। এই সব আয়োজন খুব নিকটেই মিলিয়ে যাবে, কর্মব্যস্ততায় ফিরে যাবে সবাই, হারিয়ে যাবে সব রঙ, মিলিয়ে যাবে নিয়মের কঠিন বাস্তবে।

অনেকেই আছেন কর্মব্যবস্তার কারণে বাড়িতে যেতে পারেন না। ডাক্তার, সংবাদ মাধ্যম, প্রশাসন, পরিবহন শ্রমিকসহ অনেকেই যেতে পারেন না বাড়িতে। তাদের কাছে ঈদের আনন্দ আসলে পেশাগত দায়িত্ব পালনের মাঝেই।

মুহুর্তেই শেষ হয়ে যাবে এই সকল আয়োজন, আবার ফিরে আসতে হবে কাজের ভীরে। তবুও এই সামান্য সময়ের স্মৃতিটাকে ধরে রেখে, মনের অন্তঃস্থলে একটা আশা লুকিয়ে রাখি "সামনের বছর আবার আসবে" সেই আশাটুকু বুকে নিয়েই সকল ক্লান্তি হতাশা মুছে ফেলে লেগে পড়ি যে যার কাজে, কঠিন বাস্তবে।

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড