• বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পদ্মা-মেঘনায় মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

জেলেরা মাথায় হাত

  বিশেষ প্রতিবেদক

০১ মার্চ ২০২৪, ২০:২৮
পদ্মা-মেঘনায় মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা
৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে নিষেধাজ্ঞা নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে মাঠে থাকবে কোস্টগার্ডসহ ১২টি টিম ৪০ হাজার জেলের জন্য চার মাসের চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির বরাদ্দ এরই মধ্যে বণ্টন হয়ে গেছে
জাটকা রক্ষায় আমাদের যত রকম প্রচেষ্টা, আমরা তা প্রয়োগ করব। জেলেরা কোনো ধরনের জালই পদ্মা-মেঘনার চাঁদপুর জলসীমানায় ফেলতে পারবেন না। আমার প্রশাসনের টিম সর্বদা সজাগ রয়েছে। কামরুল হাসান, জেলা প্রশাসক (চাঁদপুর)

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাসহ দেশের ছয়টি অভয়াশ্রমে দুই মাস সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গতকাল থেকে শুরু হয়েছে এই নিষেধাজ্ঞা, যা বলবৎ থাকবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।

নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বেকার থাকবেন চাঁদপুরের অর্ধলক্ষাদিক জেলে। যদিও ৪০ হাজার জেলের জন্য ৪০ কেজি করে চার মাসের চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের বরাদ্দ বণ্টন করা হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে জেলা মৎস্য অফিস।

শুধু চাল পেয়েই সন্তুষ্ট নন জেলেরা। তাদের কথা হচ্ছে– চাল ছাড়াও অনেক জিনিসপত্র লাগে সংসারে। এসব জোগাতে তাদের মাথায় বাড়তি চাপ। এরই মধ্যে নৌকা আর জাল তৈরিতে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন জেলেরা। সরকারি প্রণোদনার চালের মান নিয়েও প্রশ্ন জেলে এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের।

কথা হয় চাঁদপুরের মেঘনাপাড়ে আনন্দবাজার, রাজরাজস্বর, পুরানবাজার, হরিণার জেলেদের সঙ্গে। তারা জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হয় তাদের।

আনন্দবাজারের বাসিন্দা খোরশেদ আলম দুখু। বাবা না থাকলেও বৃদ্ধা মা, স্ত্রী-সন্তানসহ ছয় সদস্যের সংসার চলে তাঁর উপার্জনে। তিনি বলেন, কঠিন একটা সময় দিয়া যাইতে হয় আমাগো। নুন আনতে পানতা ফুরায়। এক সপ্তাহ বা দুই সপ্তাহ না, টানা দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকব। এমন পরিস্থিতিতে সংসার চালাতে কষ্ট হয়।

শুধু খোরশেদ আলম একা নন, চাঁদপুরের অন্য জেলেদেরও একই অবস্থা। মাছ ধরতে যেই জেলেদের জালের সঙ্গে মিতালি, সেই ব্যস্ত জেলেরা গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই অলস সময় কাটাচ্ছেন নদীর কিনারায়। এসব জেলের নেই নিজের পুঁজি। মহাজনের কাছ থেকে ধারদেনা আর এনজিওর ঋণ নিয়ে গড়তে হয় মাছ ধরার জাল ও নৌকা। মাছ ধরা বন্ধ হলেও ধারদেনা ও ঋণের কিস্তির চাপ তো আছেই।

দুই মাসের জাটকা রক্ষার অভিযানে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। কঠোর থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরেই জেলা ও নদী তীরবর্তী উপজেলায় দফায় দফায় সংশ্লিষ্টদের সভা হয়েছে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, জাটকা রক্ষায় আমাদের যত রকম প্রচেষ্টা, আমরা তা প্রয়োগ করব। কোনো ধরনের জালই পদ্মা-মেঘনার চাঁদপুর জলসীমানায় ফেলতে পারবেন না জেলেরা। আমার প্রশাসনের টিম সর্বদা সজাগ।

নৌ পুলিশ সুপার সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত এডিশনাল ডিআইজি মো. কামরুজ্জামান বলেন, আমাদের ১২টি টিম কাজ করবে। থাকবে কোস্টগার্ড। জাটকা বা অন্য কোনো মাছ ধরা, নদীপাড়ে আড়তে মাছ বেচাকেনা কোনোটাই চলবে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড