• শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

স্যার ফজলে হাসান আবেদ, একজন স্বপ্নদ্রষ্টা

  কাশপিয়া ইমতিয়াজ দৃষ্টি

২৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:১৩
ফজলে হাসান আবেদ
প্রয়াত স্যার ফজলে হাসান আবেদ (ছবি : সংগৃহীত)

পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল ঠিকই, তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত সেই দেশের অর্থনীতি বলে কিছুই ছিল না। ১৯৭২ সালে সাধারণ মানুষের দুঃখের সঙ্গী হয়ে গড়ে তোলেন প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ব্র্যাকের ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দারিদ্রতা দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হয়তো তিনি জানতেন না, ব্র্যাকের মাধ্যমে পৃথিবীর কাছে বাংলাদেশ ভিন্ন এক পরিচয়ে পরিচিত হতে পারবে। সেই মানুষটি স্যার ফজলে হাসান আবেদ।

সিলেটের হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জন্মস্থান হবিগঞ্জে প্রাথমিক পড়াশোনা শুরু করলেও পরবর্তীতে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ফিজিক্সে ভর্তি হওয়ার পরে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় নেভাল আর্কিটেকচারে পড়তে চলে যান।

কোর্স শেষ হওয়ার দুই বছর আগে তার মনে হলো এই পড়াশুনা তার নিজের দেশের কাজে কোনোভাবেই আসবে না। এরপর লন্ডনে গিয়ে ভর্তি হলেন কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টিংয়ে। ১৯৬৮ সালে দেশে ফিরে আসলেন এবং শেল ওয়েল কোম্পানিতে হেড অব ফিন্যান্স হিসেবে যোগ দিলেন।

ঠিক কিছুদিন পরেই প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পরে দেশ। প্রায় তিন লাখ মানুষের প্রাণহানি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি স্যার আবেদ। তিনি ৭০ এর ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী হেল্প নাম নিয়ে সাহায্য সংস্থার মাধ্যমে দেশের মাটিতে কল্যাণমূলক কাজের সূচনা করেছিলেন লন্ডনে পৌঁছে। লবণ-গুড়ের শরবত তত্ত্ব বই পুস্তকে প্রায় সবারই পড়া থাকলেও স্যার আবেদ বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কাছে এই শরবত পৌঁছে দিয়ে ডায়রিয়ার হার ও শিশু মৃত্যুর হার সফলভাবে কমিয়েছিলেন।

শিক্ষার প্রয়োজনটা অনুভব করে প্রথম শতভাগ জনগণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার ঘটানোর যেসব যুগোপযোগী পদক্ষেপ প্রয়োজন তার সঙ্গে তিনি এ দেশের মানুষকে পরিচয় করিয়েছেন। গত পাঁচ দশকে ব্র্যাকের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্কুলগুলোতে শিক্ষাগ্রহণ করেছে অন্তত ১ কোটি ২০ লাখ শিশু।

পাঁচ মৌলিক অধিকার অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা সর্বসাধারণের জন্য নিশ্চিত করার রূপরেখা পুরো পৃথিবীকে দেখিয়েছেন এই কিংবদন্তি।

হাজার স্মৃতি, সুখ-দুঃখ, ভালোবাসা, হাসি-কান্নায় পরিপূর্ণ তার প্রতিটি প্রতিষ্ঠান। এই সংস্থার অধীনে রয়েছে একটি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি ব্যাংক, একটি বীজ কোম্পানি, একটি মুরগির খামার, একটি ড্রাইভিং স্কুল এবং ২১টি ফ্যাশন বুটিকের একটি চেইন শপ। বাংলাদেশের বাইরে আরও দশটি দেশের মানুষ ব্র্যাকের কর্মসূচির আওতায় উপকৃত।

গত ২০ ডিসেম্বর ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। একজন মানুষের যতরকম গুণ থাকা দরকার তিনি তার চেয়েও বেশি গুণের অধিকারী ছিলেন।

নশ্বর এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে একদিন সবাইকে। কিন্তু তার জীবন আমাদের জন্য শিক্ষার, আদর্শের এবং গৌরবের। তবে স্যার আবেদের দেখানো পথে যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এগিয়ে যেতে পারে সেটাই এখন প্রত্যাশা। আপনি বেঁচে থাকবেন কোটি মানুষের হৃদয়ে, জীবনে।

লেখক : শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়

ওডি/এমএ

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড