• রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

জাতীয় স্বার্থেই মৎস্য সম্পদের সংরক্ষণে তৎপর হতে হবে

  সম্পাদকীয়

২২ জুলাই ২০১৯, ১৬:২৬
মৎস্য

দেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, দারিদ্র্যবিমোচন এবং মানুষের পুষ্টির চাহিদা যথাযথভাবে পূরণে মৎস্য খাতের ভূমিকা অনস্বীকার্য৷ মাছ চাষে উদ্দীপনা সৃষ্টির মাধ্যমে এ খাতের অমিত সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের লক্ষ্যে 'মাছ চাষে গড়বো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে ‘জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৯’।

কৃষিপ্রধান অর্থনীতির এ দেশে মাছ চাষ সব সময়ই দারুণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করছে৷ বাংলাদেশে দেশীয় মাছের প্রজাতির সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৩০০। এছাড়া রয়েছে ১২ প্রজাতির বিদেশি মাছ এবং ২৪ প্রজাতির চিংড়ি।

প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার’ (আইইউসিএন) কর্তৃক বাংলাদেশের বিপন্ন প্রাণীর তালিকা প্রস্তুতের উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি জরিপ বলছে, ২০০০ সাল পর্যন্ত এদেশে ৫৪ প্রজাতির মাছকে বিপন্ন মাছ হিসেবে চিহ্নিত করা গেছে।এরপর ২০১৫ সালে তাদের সর্বশেষ জরিপে এর সাথে আরও ৬৪ প্রজাতির মাছ যুক্ত হয়। 

ময়মনসিংহে বাংলাদেশের একমাত্র মৎস্য জাদুঘরের নিকট থেকেও জানা গেছে, গত ১০ বা ২০ বছরে দেখা যায়নি এমন বিপন্ন প্রজাতির মাছের সংখ্যা বর্তমানে ১১৮টি। এসব প্রজাতির মাছগুলো প্রায় বিলুপ্ত, মহাবিপন্ন ও বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে সরপুঁটি, রানী, মেনী, রিটা, বাঘাইর, বাচা, কালবাউশ, গনিয়া, চিতল, মধুপাবদা, শিং, নাপতেকই, লাল চান্দা, নামা চান্দা, তেলিটাকি, বাটা উল্লেখযোগ্য৷ এছাড়া 'প্রায় বিলুপ্ত' হবার পথে রয়েছে বাঘাইর, পিপলা শোল বা বাক্কা মাছ, মহাশোল, নান্দিলা মাছ, চান্দা, ভাঙ্গান বাটা, খরকি মাছ, কালো পাবদা, চেনুয়া মাছসহ বেশ কিছু মাছ।

মৎস্য সম্পদের এ রকম ধারাবাহিক অপ্রত্যাশিত অবনমনের পেছনে বড় দাগে যে কারণগুলো কাজ করছে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শহর ও গ্রাম দুস্থানেই নদী ও খালসহ সব ধরণের জলাশয়ের সংখ্যা হ্রাস পাওয়া। এর সাথে সাথে হ্রাস পাচ্ছে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত মাছের পরিমাণও। এছাড়া জমিতে সার ও কীটনাশকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলস্বরূপ এগুলো বৃষ্টির পানির সাথে মিশে খালবিলসহ জলাশয়গুলোতে পড়ছে। ফলে একদিকে মাছের মৃত্যু যেমন বাড়ছে, তেমনি কমছে প্রজনন হারও। 

কলকারখানার বর্জ্য নিকটস্থ জলাশয়ে ফেলার কারণেও মাছের মৃত্যুহার বাড়ছে। এসবের পাশাপাশি অপরিকল্পিতভাবে মৎস্য আহরণ, প্রজনন মৌসুমে মাছ ও মাছের পোনা ধরা, কারেন্ট জালের ব্যবহার এবং মাছের আবাসস্থল ধ্বংস করাও মৎস্য সম্পদ বিপন্ন হবার অন্যতম কারণ।

 সম্প্রতি সুন্দরবন এলাকায় বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার মতো ঘটনাও সামনে এসেছে। এসব সমস্যা সমাধানের দিকে আমাদের নজর দিতে হবে। পাশাপাশি মাছের বংশ বৃদ্ধি, বিস্তার ও উৎপাদনের জন্য কয়েকটি দিকে লক্ষ রেখে কাজ করতে হবে। কিছু প্রজাতির প্রজনন ও বিচরণের জন্য বিশেষ পরিবেশ প্রয়োজন হয়৷ প্রয়োজনীয় এ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আবার কিছু প্রজাতির প্রজননের পর প্রয়োজন হয় বিশেষ পরিচর্যার। সেগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

মৎস্য সম্পদ যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করা না গেলে সবচেয়ে বড় যে সমস্যায় আমাদের পড়তে হবে, তা হলো মৎস্য সম্পদের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া৷ তাছাড়া বিলুপ্ত ও বিলুপ্ত-প্রায় প্রজাতির মধ্যে অধিকাংশ মাছ গ্রামের সাধারণ মানুষের পুষ্টিরও উৎস৷ সরপুঁটি, পাবদা, ভেদা, বাটা, নামা, চান্দা, গনিয়া, শোল, টাকি, বাঘা, ফলি, বাচা, একঠোঁটা ইত্যাদি মাছ আগের মতো পাওয়া যায় না বিধায় দরিদ্র জনসাধারণ আমিষের চাহিদা পূরণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

 আবার জেলে সম্প্রদায়সহ দরিদ্র মানুষের জীবিকা নির্বাহের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত বেশকিছু প্রজাতি হারিয়ে যাওয়ার ফলে অনেক জেলেই কর্মসংস্থান হারাচ্ছে। জাতীয় আয়সহ রপ্তানি আয়ের ওপর সরাসরি এর প্রভাব পড়ছে৷

তাই সব দিক মাথায় রেখে মৎস্য সম্পদ রক্ষায় আমাদের সর্বস্তর থেকে সমন্বিত প্রয়াস চালাতে হবে। এ কথা তো অনস্বীকার্য যে, উপরোল্লিখিত সমস্যাগুলোর বেশিরভাগের পেছনে মানুষই মূলত দায়ী৷ মানবসৃষ্ট এসব সমস্যা নিরসনে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও তৎপর হতে হবে। সেই সাথে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকেও আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড