• রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সড়ক-শৃঙ্খলার স্বার্থে আইন প্রয়োগে কঠোর হতে হবে

  সম্পাদকীয়

২৬ অক্টোবর ২০১৯, ২২:১১

২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল- চার বছরে মৃতের সংখ্যা ২৯ হাজার ৩১৫, আহত প্রায় ৬৯ হাজার ৪২৮ জন। না, এটা কোনো যুদ্ধের পরিসংখ্যান নয়; বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান। যদিও এদেশে সড়ক দুর্ঘটনার যে মাত্রা, তাতে করে সড়কপথে চলাচল বর্তমানে কোনো যুদ্ধের চাইতে কম কিছু নয়। তথ্য বলছে, গত চার বছরে বাংলাদেশে সড়কে দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে প্রায় ২২ হাজারের মতো। আর এ সকল দুর্ঘটনায় মারা যায় দৈনিক গড়ে প্রায় ২০ জন মানুষ।

দিনকে দিন সড়কে এই যে লাশের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, দুর্ঘটনার মহাসমারোহ চলছে, এর পেছনে কারণ কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, মোটামুটি পাঁচটি প্রধান কারণ এর পেছনে কাজ করছে। এর মধ্যে সবচাইতে বড় কারণটি হচ্ছে যানবাহন চালকদের বেপরোয়া আচরণ। সড়কে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর প্রবণতার প্রত্যক্ষ ফল হচ্ছে ওভারটেকিং; আর ওভারটেকিং হচ্ছে দেশে সড়ক দুর্ঘটনাসমূহের সিংহভাগের মূল উদ্দীপক। এছাড়া চালকদের দক্ষতার অভাব, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিআরটিএর উদাসীনতা এবং পথচারীদের অসাবধানতাও সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

এ সকল দিক বিবেচনায় গত বছরের মাসাধিককালব্যাপী চলা শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তড়িঘড়ি করে পাস করা হয় 'সড়ক পরিবহণ আইন-২০১৮'।

 প্রস্তাবিত আইনে লাইসেন্স না থাকলে চালকের ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, দুই যানবাহনের পাল্লা পাল্লিতে দুর্ঘটনা ঘটলে চালকের তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা ২৫ লাখ টাকা জরিমানা, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতা অষ্টম শ্রেণি পাসসহ বেশকিছু বিধান রাখা হয়। তবে এক বছর আগে সংসদে পাস হওয়া আইনটি এখনও কার্যকর হয়নি।

সড়ক পরিবহণ আইনটি কার্যকর না করতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের চাপ রয়েছে বলে মনে করেন সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। শুরু থেকেই নতুন সড়ক পরিবহণ আইনের বিভিন্ন ধারার বিরোধিতা করে আসছিলেন পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরা। 

প্রস্তাবিত এ আইনের বিভিন্ন ধারা বাতিলের দাবিতে তারা আন্দোলনেও নেমেছেন। তাদের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পয়েন্টগুলো হচ্ছে- সড়ক পরিবহণ আইনের সব ধারা জামিনযোগ্য করা, সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রমিকের অর্থদণ্ড পাঁচ লাখ টাকার বিধান বাতিল করা, ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি করা ইত্যাদি। এরই মধ্যে পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের দাবির মুখে কার্যকরের আগেই নতুন আইনটি সংশোধন করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আইনটি কার্যকরে বিলম্ব হওয়ার ফলে সড়কে বিশৃঙ্খলা রোধে সরকারের সদিচ্ছার ব্যাপারটিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। 

অনেকেই মনে করছেন, পরিবহণ খাতের সাথে সম্পর্কযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মকর্তাগণ, পুলিশ এবং পরিবহণ মালিক ও শ্রমিকদের নিয়ে এক ধরনের দুষ্টচক্র গড়ে উঠেছে। এরা কোনোভাবেই পরিবহণ খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পক্ষে নয়। 

আবার পরিবহণ খাতে জবাবদিহিতার বিষয়টি নিশ্চিত না করতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মতো ঘটনাগুলো নিয়ন্ত্রণও করা সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতিতে সড়ক-যোগাযোগ ব্যবস্থায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা এ মুহূর্তে একটি বড় চ্যালেঞ্জই বটে।

এরই মধ্যে গত ২৩ জুলাই হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এক আদেশে ঢাকাসহ সারা দেশে লাইসেন্স নিয়ে ফিটনেস নবায়ন না করা গাড়িগুলোর ফিটনেস দুই মাসের মধ্যে নবায়ন করার নির্দেশ দেন। তথ্য বলছে, হাইকোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে ফিটনেস নবায়ন না করেই এখনও অবাধে চলাচল করছে প্রায় চার লাখ গাড়ি। বেঁধে দেওয়া দুই মাসে ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩২০টি গাড়ির মধ্যে ফিটনেস নবায়ন করা হয়েছে মাত্র ৮৯ হাজার ২৬৯টির।

এমন বাস্তবতার আগামী ১ নভেম্বর থেকে 'সড়ক পরিবহণ আইন- ২০১৮' কার্যকর হবার কথা রয়েছে। অত্যন্ত সময়োপযোগী এ আইনটি অনেক সম্ভাবনার আলোক ছড়ালেও এর যথাযথ প্রয়োগ নিয়ে সন্দিহান সংশ্লিষ্ট অনেকেই। তাই এ আইনটি কেবল প্রণয়নের মধ্যেই আটকে থাকবে না, বরং এর সুষ্ঠু প্রয়োগেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ যথাযথ উদ্যোগ নেবেন- এটাই এখন প্রত্যাশা। সড়কে মৃত্যুর এ মিছিল ঠেকাতে আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা একান্ত আবশ্যক।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড