• শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ক্ষুধা ও অপুষ্টি নিরসনে বাংলাদেশের সাফল্য আশাব্যঞ্জক

  সম্পাদকীয়

২২ অক্টোবর ২০১৯, ২২:২৯
ক্ষুধা

বিশ্ব খাদ্য দিবসকে উপলক্ষ করে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে বিশ্ব ক্ষুধা সূচক (Global Hunger Index বা GHI) ২০১৯ এর তালিকা। আইরিশ ত্রাণদায়ী সংগঠন ‘কন্সার্ট ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ এবং জার্মান সংস্থা ‘ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফা’ কর্তৃক যৌথভাবে প্রস্তুতকৃত এবারের সূচকে ১১৭টি দেশের মধ্যে ২৫ দশমিক ৮ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তে। ২০১৮ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের পয়েন্ট ছিল ২৬.১। 

আগের বছরের তুলনায় এবার বাংলাদেশের পয়ন্ট উন্নীত হবার ফলে চলতি বছরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ পেছনে ফেলেছে পাকিস্তান (৯৪) ও ভারতকে (১০২)।

মূলত চারটি নির্দেশক মেনে GHI স্কোর নির্ণয় করা হয়– ১. অপর্যাপ্ত পুষ্টি ২. শিশুদের ক্ষয়, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ক্ষয়ের পরিমাণ (অর্থাৎ উচ্চতার তুলনায় কম ওজন, যার মূলে থাকে পুষ্টির অভাব) ৩. শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি হ্রাস, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে বয়সের তুলনায় কম উচ্চতার হার (যার অর্থ হলো দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টি) এবং ৪. পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে মৃত্যুর হার। 

সূচকে দেখা যাচ্ছে, 'শিশুদের ক্ষয়' সূচক ছাড়া বাকি সবগুলো সূচকেই বাংলাদেশ লক্ষণীয় উন্নতি করেছে। ২০০০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রতিটি রিপোর্ট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গ্লোবাল হাঙ্গার সূচকে বাংলাদেশ প্রতি বছরই নিজের অবস্থান উন্নত করতে পেরেছে। এটি নির্দেশ করে- ক্ষুধা নিরসনে বাংলাদেশ যে দারুণ একটি ক্রমোন্নতির পথে হাঁটছে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

তবে বাংলাদেশ এখনও 'গুরুতর ক্ষুধা' বিভাগেই অবস্থান করছে। অপরদিকে চলতি বছরে শ্রীলঙ্কাকে উন্নীত করা হয়েছে ‘গুরুতর’ থেকে ‘মাঝারি’ ক্ষুধা বিভাগে, এবং চিন (২৫) আপাতত ‘নিম্ন’ ক্ষুধা বিভাগে স্থান পেয়েছে। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বিবেচনায় বাংলাদেশ বর্তমানে চিনের চাইতে ভালো অবস্থানে রয়েছে। 

গত কয়েক বছরে চিনের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার নিম্নগামী; পক্ষান্তরে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জিডিপি প্রবৃদ্ধি চলতি বছর রেকর্ড ফিগারে উন্নীত হবার আভাষ পাওয়া যাচ্ছে। চলতি বছরের সূচক অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর উচ্চতার তুলনায় কম ওজনের বিষয়টি (চাইল্ড ওয়েস্টিং) সবচেয়ে বেশি প্রকট হিসেবে দেখা যাচ্ছে যে তিনটি দেশে, তার মধ্যে একটি হলো পাশের দেশ ভারত। এ সূচকে বাংলাদেশের স্কোরও আগের বছরের চাইতে খারাপ। তবে সব দিক মিলিয়ে, ক্ষুধা ও অপুষ্টি নিরসনে প্রতিবেশী দুটি দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান যে আশাব্যঞ্জক, এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।

উল্লেখ্য যে, জাতিসংঘ ঘোষিত ২০১৬ থেকে ২০৩০ সাল মেয়াদি 'টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা'র আওতায় সর্বসম্মতিতে যে ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার প্রথমটি তিনটি হলো যথাক্রমে দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধামুক্তি এবং সুস্বাস্থ্য। সে হিসেবে গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স এর সূচকগুলো এ তিনটি লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনার অবকাশ রয়েছে। 

তাই সামনের দিনগুলোতে অপুষ্টি, শিশুমৃত্যু ও শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি হ্রাস সূচকে উন্নতি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি 'পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ক্ষয়ের পরিমাণ' সূচকে নিম্নগামিতাকে কাটিয়ে উঠতে হবে। তাহলে 'টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা' অর্জনে সরকারের নানাবিধ আশার বাণীতে আরও একটু আলোকস্ফূরণ যুক্ত হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড