• শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে সক্ষমতা বাড়াতে হবে

  সম্পাদকীয়

২৪ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৫৪

গত কয়েক বছর ধরে জনস্বার্থ সংরক্ষণের প্রশ্নে যে বিষয়টি বারবার সামনে আসতে দেখা যায়, সেটি হলো অযাচিতভাবে  নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং অনিয়ন্ত্রিত বাজার-ব্যবস্থাপনা। এ বিষয়ক সমস্যার সমাধানে ২০০৯ সালে প্রণীত হয় 'জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯'। ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক বাজার তদারকি ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভোক্তার অভিযোগ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বাজার-ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম দূর করাই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অন্যতম প্রধান কাজ।

শুরুর দিকে নানাবিধ আশায় বুক বাঁধলেও সময় পরিক্রমায় দেখা যাচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে রমজানের মতো দুয়েকটি উপলক্ষ ছাড়া বলতে গেলে বছরের বাকি প্রায় পুরো সময়টাতেই ভোক্তাসাধারণ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের সুফল থেকে বঞ্চিত হন। বিশেষত ঢাকার দুই অংশ এবং বিভাগীয় শহরগুলো ব্যতীত দেশের অন্যত্র ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আওতায় অভিযান বা মনিটরিং তেমন একটা চোখে পড়ছে না। রাজধানীতে যে অভিযানগুলো পরিচালিত হয়, সেগুলোও পর্যাপ্ত নয় বলেই সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

জানা যায়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আওতায় বাজার তদারকিসহ ভোক্তা অধিকারের অন্যান্য সকল দিক পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতিটি জেলায় নিয়োগ রয়েছেন মাত্র একজন অফিসার ও একজন কম্পিউটার অপারেটর-কাম-অফিস সহকারী। বলাই বাহুল্য, এ রকম নামমাত্র জনবল দিয়ে পুরো একটি জেলা তো দূরের ব্যাপার, একটি উপজেলা দেখভাল করাই দুষ্কর। তারপরেও যতটুকু যা তৎপরতা বজায় রাখার সুযোগ রয়েছে, সেটুকুও ফলপ্রসূ হয়ে উঠছে না কার্যকরি বাজার কমিটির অভাবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বাজার কমিটিগুলো তেমন সক্রিয় নয়। সক্রিয় বাজার কমিটি বহাল থাকলে অনেক সময় ভোক্তা অধিকারের কাজ কিছুটা সহজ হয়ে যায়। বাজার কমিটিগুলোকে সক্রিয় করতে হলেও মূলত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মকর্তাদের কার্যকর ও দৃশ্যমান তৎপরতা প্রয়োজন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, রাজধানীতে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি সমন্বিত টিম কাজ করে থাকে যেখানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন, বিএসটিআই ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা থাকেন।

ঢাকার দুই সিটিতে এ রকম দুটি টিম অভিযান পরিচালনা করে থাকে। এছাড়াও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তিন থেকে চারটি টিম প্রতিদিন বাজার অভিযান পরিচালনা করছে। একই ধরনের প্রক্রিয়া জেলা-উপজেলা পর্যায়েও গ্রহণ করা যেতে পারে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সমন্বয়ে টিম প্রস্তুত করা গেলে বাজার-ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনয়নের কাজটি আরও সুসংহত হবে। সেই সাথে বাজার মনিটরিংয়ের সাথে সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যপরিধি উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণের ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাজার মনিটরিং কার্যক্রমকে আরও সময়োপযোগী করে তুলতে ইতোমধ্যেই নতুন ২ হাজার ৩০০ পদ সৃষ্টির প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এটি কার্যকর হলে ভোক্তা অধিকার সম্পর্কিত কাজগুলো গতি পাবে সন্দেহ নেই।

বাজারে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি মজুদদারি ও চাঁদাবাজির মতো ঘটনা নিয়ন্ত্রণেও কাজ করার অবকাশ রয়েছে। এটা বিবেচনায় নিয়ে মোবাইল কোর্টের পাশাপাশি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষকে যার যার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের ব্যাপারে সচেষ্ট হতে হবে।

ভোক্তা অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, নিরাপদ খাদ্য আইন, ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইনসহ নানাবিধ সময়োপযোগী ও কার্যকরি আইন দেশে ইতোমধ্যেই বহাল রয়েছে। এগুলোর যথাযথ প্রয়োগে স্থানীয় পর্যায়ের প্রশাসনকেও তৎপর হতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে এসব আইনকানুন সম্পর্কে অবগত করা এবং স্বীয় অধিকারের ব্যাপারে তাদের সচেতন করে তোলারও কোনো বিকল্প নেই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড