• মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

দেশের ভবিষ্যৎ সুস্থতার পথে আছে কি?

  অধিকার ডেস্ক

১৪ জুন ২০১৯, ২০:৫৯
বাংলাদেশ

চারিদিকে যেভাবে ভেজাল খাবার, মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাদ্যদ্রব্যের খবর মিডিয়ার মাধ্যমে সামনে আসছে, তাতে করে আমরা এখনও কীভাবে সুস্থতার সাথে টিকে আছি- সেটাই একটা বড় প্রশ্ন।

একটি গল্প আছে এমন : এক ঘি-বিক্রেতা দীর্ঘদিন যাবত একই স্থানে ঘি বিক্রি করেন৷ একজন পুলিশ কর্মকর্তা আছেন তার নিয়মিত ক্রেতা। তো পুলিশ ভদ্রলোক বদলি হয়ে অন্য জেলায় চলে যাবেন। যাবার আগে শেষবারের মতো ঘি কিনতে গেলে বিক্রেতার মনে সমীহ জেগে উঠল। পরদিন ভদ্রলোক ঘি নিয়ে বাসায় ফিরলেন৷ খাওয়ার সময় দেখা গেল সেটা চরম বিস্বাদ৷ পরদিন ভেজাল ঘি বিক্রির অপরাধে ধমকধামক দিতেই ঘি-বিক্রেতা বলে উঠল, ‘এতদিনই ভেজাল ঘি দিয়েছি, আপনি শেষবারের মতো নিচ্ছেন বলে এবার আসল ঘি দিয়েছিলাম৷’

দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ গল্পটিও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সাম্প্রতিককালে খাদ্যদ্রব্যে ভেজালের যে ইতিহাস আমাদের চোখের সামনে উন্মোচিত হচ্ছে, যে সংখ্যক দ্রব্যের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে, যেসব উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে, তাতে করে আমরা যে ভেজাল খেতে খেতে অভিযোজিত হয় গেছি- সে ব্যাপারে সন্দেহের আর কোনো অবকাশই থাকে না।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- আমরা না-হয় কোনো না কোনোভাবে সব হজম করে ফেলছি, কিন্তু আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কী রেখে যাচ্ছি? তাদেরকে সুস্থ জীবনের নিশ্চয়তা দিতে পারছি কি? যে সময়ে শিশুর শরীর গঠন ও মানসিক বিকাশ ত্বরান্বিত হবে, যে সময়ে শরীর ও মন উভয়কে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে শিশুর পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবারগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, সে সময়ে তাদের আমরা যেসব খাবার সরবরাহ করছি, তা কি কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারবে?

এ তো গেল শারীরিক সুস্থতার দিক। মানসিকভাবে আমাদের শিশুদের বেড়ে ওঠাটা কতটা নিরাপদ আমাদের এ অস্থির জনপদে? চারিদিকে ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের এত এত ঘটনা ঘটছে, মিডিয়ার মাধ্যমে যেটুকু সামনে আসছে, নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে সেটা অতি ক্ষুদ্র অংশ। শিশুর বেড়ে ওঠার সময় এ ধরনের সংবাদের মুখোমুখি হওয়াটা তার মানসিক সাস্থ্যের জন্য নিঃসন্দেহে ক্ষতিকর। পারস্পরিক সম্মান, শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার বোধগুলো তৈরি হবার ক্ষেত্রে সামাজিক এসব অস্থিরতা একটি বড় বাধা। তাই অনাগত ভবিষ্যতকে নিরাপদ, নির্মল ও সুন্দর করে তোলার স্বার্থে নতুন প্রজন্মকে, আজকের শিশুকে এ সকল নেতিবাচক বলয় থেকে বাইরে রাখাটা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক বছরে ঘটে যাওয়া নেতিবাচক ঘটনাবলির নিরীখে শিক্ষকের প্রতি, বন্ধুর প্রতি, প্রতিবেশী গুরুজনের প্রতি যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে আমাদের বর্তমান সমাজে, তা দূর করে বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার সম্পর্কগুলোকে উজ্জীবিত করতে হবে। আজকের শিশু যেন আগামী দিনে কলুষমুক্ত সমাজের কথা ভাবতে পারে, সে রকম বোধ তার মধ্যে তৈরি হবার সুযোগ করে দিতে হবে। আর সে দায়িত্ব নিতে হবে আমাদেরকেই।

প্রতিটি পরিবারে শিশুর জন্য পুষ্টিকর এবং ভেজালমুক্ত খাবার নিশ্চিতের পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত হয় এমন ধরনের শিক্ষাপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে৷ সমাজের কোনো অস্থিরতাই যেন তাকে স্পর্শ করতে না পারে, কোনো কলুষতার কালিমা যেন তার ধারেকাছে ঘেঁষতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করা প্রয়োজন৷ এবং আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে এ বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার করার মানসিকতা গড়ে তোলাও অপরিহার্য৷ কেননা আজকের এ শিশুই আগামীর বাংলাদেশ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড