• রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

এ যুগের একজন সৃজনশীল শিক্ষক

  রহমান মৃধা

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:১৯
এ যুগের একজন সৃজনশীল শিক্ষক
ফাইজারের প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের সাবেক পরিচালক রহমান মৃধা (ছবি : সংগৃহীত)

গল্প হলেও সত্য কারণ এ গল্প জীবনের পাতা থেকে নেওয়া। ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে সুইডেনে উচ্চ মাধ্যমিক এবং পরবর্তী পড়াশোনা সম্পন্ন করে এখানেই চাকরি করি। বিয়ে-শাদি করে ছেলে-মেয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত প্রবাসে আছি। পরে অনেক বন্ধু যাদের সঙ্গে ছোটবেলার দিনগুলো কেটেছে, তারা অন্তরে থাকলেও বহুকাল তাদের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ ছিল না। তবে ফেসবুকের কল্যাণে বহু পুরাতন মানুষ ও বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে এখন যোগাযোগ পুনঃ স্থাপন হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে, যা অত্যন্ত আনন্দের বিষয় বটে।

আমি গঙ্গারামপুর স্কুলে নবম ও দশম শ্রেণিতে মাত্র দুবছর পড়েছি। সেই গঙ্গারামপুর (মাগুরা জেলা) স্কুলের শ্রেণিকক্ষে একের পর এক প্রিয় শিক্ষকদের আগমন ও আকর্ষণীয় লেকচার, সেই সব প্রিয় বন্ধু, বিশাল স্কুল মাঠ, নবগঙ্গা নদী, খেয়াঘাট, খেয়ার মাঝি, বাজার প্রভৃতি সবকিছুই আমার স্মৃতিতে এখনো উজ্জ্বল হয়ে আছে।

২০১৭ সালে প্রথম আলো পত্রিকায় আমার ছেলে-মেয়ে ও তাদের টেনিসের উপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

গঙ্গারামপুরের অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীর নজরে পড়ে সেটি। প্রথম আলোর সেই প্রতিবেদনে একটি কমেন্টস আমার নজরে পড়ে এবং তৎক্ষণাৎ আমি সেই কমেন্টসের উত্তর দেই। সে হলো ওই স্কুলেরই এক ছোট ভাই (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক), যার কথা আমার আদৌ কিছু মনে নেই। তবে এই আবেগঘন মন্তব্য এবং সেই মন্তব্যের জবাবদানের মধ্য দিয়ে তার সঙ্গে আমার ফেসবুকে বন্ধুত্ব হয়। একদিন হঠাৎ করে সে আমাকে ফোন করে, ‘আপনি কি সাধন স্যারকে ভুলে গেছেন?’

গঙ্গারামপুর স্কুলের সব শিক্ষক ছিলেন আমার প্রিয়। তাদের মধ্যে সাধন স্যার ছিলেন বিশেষভাবে প্রিয়। দরদী শিক্ষক বলতে যা বোঝায় তিনি ছিলেন ঠিক তাই। স্কুলের ওই ছোট ভাই যশোরের একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক। যখনই সে বাড়ি যায় তখনই সাধন স্যারের সঙ্গে দেখা করে। ছাত্রজীবনে সে তার প্রিয় শিক্ষকের সঙ্গে যেভাবে মিশেছে এখন মিশছে আরেক ভাবে, একান্তে পাশাপাশি বসে। শিক্ষক ও পরিণত ছাত্রের মধ্যে নানা বিষয়ে কথা হয়।

সাধন স্যার তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমার সাথে রহমান মৃধার যোগাযোগ নেই? যদি কোনোদিন যোগাযোগ হয় আমার কথা বলো।’ সে জানায় তার সাথে রহমান মৃধার কোনো যোগাযোগ নেই। এভাবে বেশ ক'বছর চলে যায়। এরপর ওই ছোট ভাইয়ের সাথে আমার ফেসবুকে বন্ধুত্ব হলে সে প্রথমেই জানতে চায় আমি সাধন স্যারকে ভুলে গেছি কি না। প্রশ্নটি শুনে আমি হতচকিয়ে পড়ি, যেন আমার দীর্ঘ ঘুম ভাঙ্গে। তাইতো, আমার প্রিয় শিক্ষক আমাকে ভুলেননি অথচ আমি ভুলে গেছি! আমি কেমন ছাত্র? তৎক্ষণাৎ জানিয়ে দিই-

- না আমি আদৌ ভুলিনি, ভুলতে পারি না।

- আপনি কি স্যারের সঙ্গে কথা বলতে চান।

- অবশ্যই। অবশ্যই। কিন্তু কীভাবে?

পরদিনই সে স্যারের বাড়িতে যায় এবং তার ফোনের মাধ্যমে স্যারকে আমার সঙ্গে যুক্ত করে দেয়। ৩৫ বছর পর আমি স্যারের সঙ্গে কথা বলি। যে আবেগ আর উত্তেজনা আমার মধ্যে সৃষ্টি হয়েছিল তা বলে বা লিখে বোঝান যাবে না। সেই থেকে ওই ছোট ভাইয়ের প্রতি আমার মধ্যে এক ধরনের কৃতজ্ঞতাবোধ জেগে ওঠে।

আমি বহু বছর দেশের বাইরে থাকার কারণে বাংলা ভাষায় লেখালেখি করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। আইফোনে বাংলা ভাষা অ্যাড করি, তারপর গোপাল স্যারের বাড়ি করার ব্যাপারে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিই। তাতে ছিল অজস্র বানান ভুল। বাক্য ছিল এলোমেলো। সেখানে খুলনার একজন আমাকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন। আমার মধ্যে জিদ চেপে যায় বাংলা ভাষা চর্চা করার। কিন্তু লিখতে চাইলেই তো লেখা যায় না।

যতোই হোক মাতৃভাষা, প্রায় তিন যুগ যে ভাষার চর্চা থেকে আমি দূরে, সে ভাষায় হঠাৎ করে লেখা সহজ নয়। তারপরও আমি লিখতে শুরু করলাম। কারও কোনো সহযোগিতা নিতেও শুরু করলাম। দেশের পত্র-পত্রিকাগুলো প্রথম দিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে তারা গুরুত্ব দিতে থাকে। শিক্ষা নিয়ে, বিশেষ করে সুশিক্ষা নিয়ে আমার লেখা শুরু। আমার দৃষ্টিতে বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা হলো সুশিক্ষার অভাব।

আরও পড়ুন : সোনার বাংলা গড়তে সঠিক পরিকল্পনা ও দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি দরকার

পরে ওই ছোট ভাইয়ের সাথে আমার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে কথা হয়। শিক্ষা, রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ দর্শন, ধর্ম কোনোকিছুই বাদ যায় না। এগুলো সম্পর্কে সে শুধু জানে তাই নয়, অনেক ভালোভাবে জানে, গভীরভাবে জানে। আমি মাঝেমধ্যে অবাক হই। পরে মনের জানালা খুলে দেখতে শুরু করলাম, কেন এত পরিবর্তন তার মাঝে অন্যদের থেকে?

এত দূরের দু'টি ভিন্ন সমাজ ও সংস্কৃতিতে বসবাস করার কারণে আমার এবং তার চিন্তা-চেতনার মধ্যে ব্যাপক ব্যবধান হবার কথা। আমি কর্মের সুবাদে বহু দেশ ভ্রমণ করে বহু সমাজ ও সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসেছি। বহু অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছি। কিন্তু সে তো থাকে বাংলাদেশের এক মফস্বল শহরে। শিক্ষকতাও করে নামীদামী কোনো কলেজে নয়। কাজেই আমার অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানের সাথে তার আকাশ-পাতাল ফারাক হওয়ার কথা, কিন্তু না। আমি যে বিষয় নিয়েই তার সঙ্গে আলোচনা করি না কেন আমার কাছে মনে হয়েছে সে নিজেকে কখনো শিক্ষক বলে মনে করে না। সে সর্বদাই নিজেকে একজন শিক্ষার্থী বলে মনে করে।

সে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে ‘বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র।’ এছাড়া সকল বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা অর্জন করা আদৌ সম্ভব নয়। আমার ধারণা সে নানান বিষয়ে প্রচুর বইপত্র পড়ে। সে শুধু পড়ে না, পুঁথিগত বিদ্যাকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করে।‌ হ্যাঁ এটাই তো সুশিক্ষার একটা বৈশিষ্ট্য। যে শিক্ষা বাস্তবে প্রয়োগ করা যায় না সেটি শিক্ষা নয়। সুশিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে সে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

এরপর থেকে এই তরুণ (ছোট ভাই) শিক্ষকের সাথে বাংলাদেশের নানা সমস্যা নিয়ে আমার আলোচনা হতে থাকে। তার মধ্যে অন্যতম একটা বিষয় তা হলো, তার ও আমার উভয়ের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কৃষ্ণ গোপাল ভট্টাচার্য্য অত্যন্ত দীনহীনভাবে জীবন যাপন করছিলেন, যা আমাকে মারাত্মকভাবে মর্মাহত করেছিল।

এই তরুণ শিক্ষকের মাধ্যমে ওই শিক্ষকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ স্থাপন করি এবং তার খোঁজ খবর নিতে শুরু করি। আমি চেয়েছিলাম নিবেদিতপ্রাণ বাংলাদেশের শিক্ষকদের জন্য রাষ্ট্র, সমাজ ও তাদের প্রাক্তন ছাত্ররা যেন স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে কিছু পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসেন। আশ্চর্যের বিষয় এই যে অনেকেই একই জায়গাতে বাস করেও এতদিন একজন অবসরপ্রাপ্ত দরিদ্র শিক্ষকের দীনহীন অবস্থার কথা কেন উপলব্ধিতে আনতে পারেনি।

তাদের আশে পাশেই তো এমন অনেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রয়েছেন, যারা ৩০/৩৫ বছর এই মহান শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত থেকে হাজার হাজার আলোকিত মানুষ তৈরি করে শূন্য হাতে বা অতি সামান্য অর্থ পেয়ে অবসরে গিয়েছেন। এখন তারা সন্তান, সংসার বা সমাজের গলগ্রহ হয়ে ধুকে ধুকে মরছেন।

আবার অনেক শিক্ষক তার জীবদ্দশায় তার প্রাপ্যটাও পাননি। এই সর্বংসহা প্রকৃতি কী কারো মানব চেতনাকে একেবারে অবশ করে রেখেছে? না, দারিদ্রক্লিষ্ট হাজার সমস্যার এই দেশে এটাকে কেউ কোন সমস্যায় মনে করে না? পারিপার্শ্বিকতা ও আবহাওয়া কি সবাইকে অনেক বেশি অমানবিক করে তুলেছে? আমার থেকে অন্যের এই বিরাট পার্থক্যের কারণ তাহলে কী?

কারণ একটাই। তা হলো হাজারো সমস্যা তাদেরকে বাধ্য করেছে মনের দুয়ার বন্ধ করে রাখতে। যাই হোক এই তরুণ শিক্ষকের সঙ্গে প্রায় প্রতিদিন কথা হয় এবং আমরা শেষে গঙ্গারামপুরের সকল ছাত্র-ছাত্রী মিলে আমাদের সেই প্রাক্তন শিক্ষকের ঘর থেকে শুরু করে যা প্রয়োজন সব করে দিতে পেরেছি। কিছু দিন আগে আমাদের সেই শিক্ষক দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন।

তিনি ছিলেন অকৃতদার। কাজেই তার স্ত্রী পুত্র বা সন্তানাদি ছিল না। সুতরাং তার মৃত্যু পরবর্তী ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান করা সম্ভব ছিল না। এখানেও এগিয়ে আসে সেই ছোট ভাই। আমার সঙ্গে এবং কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনা করে সে অনুষ্ঠানগুলো করার উদ্যোগ নেয়।

প্রথমত, সাধন স্যারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক পুনঃ স্থাপন করা।

দ্বিতীয়ত, গোপাল স্যারের জন্য বাড়ি করার উদ্যোগ নেয়া এবং তৃতীয়ত, তার মৃত্যুর পর পুত্রের মতো দায়িত্ব পালন করা। এই তিনটি ক্ষেত্রেই ওই ছোট ভাইয়ের সম্পৃক্ততা আমাকে একের পর এক মুগ্ধ করে চলেছে। মূলত তাকে নিয়ে আজকের এই গল্প।

এ যুগে এমন মানবিক গুণাবলি এবং অসাম্প্রদায়িক উদার দৃষ্টিভঙ্গি আমি খুব কম লোকের মধ্যে দেখেছি। তার সম্পর্কে আমি আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠি। সে আমাকে ভাবিয়ে তোলে। না, এখানেই শেষ নয়। এখানে শেষ হলে তাকে নিয়ে আমার লেখার প্রয়োজন হতো না। এর মধ্যে তার সাথে আমার সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকে। এ সম্পর্ক জ্ঞানের সম্পর্ক, নৈতিকতার সম্পর্ক, মূল্যবোধের সম্পর্ক।

প্রবাসী হলেও আমি নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছি বাংলাদেশের মানুষের জন্য কিছু করতে। যেমন সুইডেনে কী সমস্যা আছে, তা বাংলাদেশের মানুষের জানা নেই, তবে বাংলাদেশ সম্পর্কে আমি সচেতন।

এই তরুণ শিক্ষকের নিঃসন্দেহে যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বা বাইরে ভালো কিছু করার মত কোয়ালিটি এবং ক্যাপাবিলিটি রয়েছে। তা সত্ত্বেও অন্য কোনো পেশা গ্রহণ না করে সে বেছে নিয়েছে শিক্ষকতা, তাও কলেজে!

ভাবতে অবাকই লাগে। কারণ বাংলাদেশে তো রাজনীতি ও শিক্ষকতা করে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যখন অন্য কোনো গতি না থাকে, বিশেষ করে বর্তমান যুগে। এমন নয় যে সে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় বা খুব নামকরা কলেজের একজন শিক্ষক সে একটি সাধারণ কলেজের শিক্ষক মাত্র। তবে সে তার পেশার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং মনোযোগী। তার ভেতরে রয়েছে এক অসাধারণ প্রতিভা এবং যতটুকু তাকে নেড়েচেড়ে দেখেছি, তাতে মনে হয়, সে এই শিক্ষকতাকে মন-প্রাণ দিয়ে ভালবাসে এবং সে জানতে হলে পড়তে হবে এই কনসেপ্টে বিশ্বাসী।

একজন ভালো শিক্ষক হতে হলে (জানি না সব সময় সঠিক কিনা, তবে এটা প্রমাণিত হয়েছে আমার অভিজ্ঞতা থেকে) একজন ভালো ছাত্র হওয়া প্রয়োজন। কারণ এমন দু’জন ব্যক্তিকে আমি চিনি, তারাই তার প্রমাণ এবং তারা বেছে নিয়েছে শিক্ষকতাকে। আমার বড় ভাই প্রফেসর ড. মান্নান মৃধা এবং এই তরুণ শিক্ষক যাকে আমি নতুন করে খুঁজে পেয়েছি ৩৬ বছর পরে।

আরও পড়ুন : টেনিস জগতে নতুন ইতিহাসের এক পূর্বাভাস

আমি আমার বিশেষায়িত শিক্ষক প্রশিক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের জন্য যে সব কোয়ালিটি পূর্ণ শিক্ষকদের কথা মনের মাঝে ধরে রেখেছি তাদের মধ্যে আমার বড় ভাই প্রফেসর ড. মান্নান মৃধা এবং এই তরুণ শিক্ষককে নিঃসন্দেহে রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করি, যখনই শিক্ষা প্রশিক্ষণ নিয়ে লেখালেখি করি।

ভাল মানুষ, ভাল বন্ধু এবং ভাল শিক্ষক তিনটি গুণের সমন্বয়ে এই তরুণ শিক্ষককে দেখে মনের মাঝে দোলা দিয়েছে সেই শুরুতেই, যে বাংলাতেই তার মত সোনার মানুষ রয়েছে, তবে কেন সম্ভব হবে না বাংলাকে সোনার বাংলা করা বা স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করা? তাই তো মনের মাঝে দোলা দিয়েছে, সুশিক্ষাই করতে পারে বাংলাকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে। এই স্বপ্নকে সত্য করতে হলে সকলের সমন্বেয় ঘটাতে হবে। দেশের পরিকাঠামোকে মজবুত করতে হবে।

এখন অনেকের ধারণা টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আধিপত্যের কারণে ভবিষ্যতের একটি প্রজন্মের শিশুরা অশিক্ষিত হবে।

অনেকের মতে স্মার্টফোনের ব্যবহার এবং প্রচুর পরিমাণে ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের কারণে নাটকীয়ভাবে তরুণ প্রজন্মের যোগাযোগের পদ্ধতি বদলে যাচ্ছে। আর এসবের কারণে তারা হারাচ্ছে বই পড়ার অভ্যাসও।

শুধু তরুণ প্রজন্মই নয়, বলতে গেলে সবাই বইয়ের প্রতি আর তেমন মনোযোগ দিতে পারছে না। কারণ তাদের মনোযোগের একটা বড় অংশ চলে যায় সেই স্ক্রিন টাইমের পেছনে। আমি আগে যে পরিমাণ বই পড়তে অভ্যস্ত ছিলাম এখন আর পড়তে পারি না। আমার মনোযোগ চলে যায় ইলেকট্রনিক সব পর্দার দিকে। আমি সাদা কাগজের ওপর আলোর ছাপ চাই।

হয়তবা আগামী ২০ বছরের মধ্যে আমরা এমন শিশুদের পাবো যারা পুঁথিগত বিদ্যা পড়তে পারবে না।

পশ্চিমা বিশ্বেই সাহিত্য শিক্ষার মান অনেক নেমে গেছে। বয়স্কদের মধ্যেই সাহিত্য পড়ার হার সবচেয়ে কম।শুধু তাই নয়, প্রতিদিনই বাড়ছে তরুণদের অনলাইনে কাটানো সময়ের হার।

বর্তমানে কিশোর বয়সীদের মধ্যে একাকীত্বের মাত্রা সবচেয়ে বেশি এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্যেরও অবনতি ঘটেছে। কিশোর-কিশোরীদের বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময়ের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে।

আমি এতক্ষণ নানা দেশের নানা মানের জ্ঞানীগুণী বা বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং বিভিন্ন পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য তুলে ধরেছি।

আসুন এবার জানতে চেষ্টা করি কী কারণ রয়েছে এর পেছনে এবং কী করনীয় ও কী বর্জনীয়।

বিনোদন কী এবং কেন আমরা সবাই সেটা পছন্দ করি? বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সব কিছু জানা বা দেখার সুযোগ রয়েছে যা পুঁথিগত বিদ্যার মাঝেও আছে। কিন্তু সঠিকভাবে সেটাকে ভিইচুয়ালিজম না করতে পারার কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।

যার ফলে নতুন প্রজন্ম বই পড়া থেকে সরে সোসাল মিডিয়ার দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে। যে জিনিসে মজা নেই তা বোরিং, অসহ্য এবং বিরক্তিকর। শিক্ষা প্রশিক্ষণের ধরণ সেই পুরনো নিয়মানুযায়ী চলছে কোনো রকম পরিবর্তন ছাড়া। যার ফলে বই পড়ার অধঃপতন দিন দিন বেড়ে চলছে।

পুঁথিগত বিদ্যার ধরণ এবং করণের পরিবর্তন আনতে হবে। পুঁথিগত বিদ্যাকে বইয়ের মধ্যে বন্দি না করে ডিজিটালাইজেশন করতে হবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে শ্রেণিকক্ষে প্রশিক্ষণ দিতে হবে লার্নিং বাই ডুইং কনসেপ্টের মাধ্যমে। পড়ালেখায় মজা ধরাতে হলে যুগোপযোগী এবং চাহিদা ভিত্তিক করে তুলতে হবে। বিশ্বের অনেক তরুণ সমাজ প্রযুক্তিকে সঠিক ভাবে কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি টাকা রোজগার করছে। অনেকে ইউটিউবে ভিডিয়ো তৈরি করছে।

বিশেষ করে যার যেটা ভালো লাগে যদি সে তা করার সুযোগ পায় তবে সাফল্য আসবেই। সে ক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হলো, যেমন কোডিং শেখার জন্য নিজের উপর চাপ নয় বরং তোমার যদি রান্না পছন্দ হয়, তবে রান্না করো। নাচতে ভালো লাগলে সেটাই করো। শুধু নিজেকে সেরা করতে যেটা ভালো লাগে সেটা কর।

আরও পড়ুন : দেখা হয়েছিল পূর্ণিমা রাতে

অনেকেই করোনা প্যান্ডামিকের সময় প্রতিনিয়ত নানাভাবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রদান করে চলছে, তবে এই তরুণ শিক্ষক সব সময় কিছুটা ভিন্ন ধরণের। আমি অনেক সময় তার ভিডিয়োগুলো দেখেছি, অনেক কিছু শিখেছি। সুন্দর পরিপাটির মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের মাঝে আলোর পথ দেখানো প্রযুক্তির মাধ্যমে যা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই তরুণ শিক্ষকের মত সৃজনশীল লাখ লাখ আদর্শ শিক্ষক দেখতে চাই সারা বাংলাদেশে।

লেখক : রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন।

[email protected]

ওডি/কেএইচআর

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড