• শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

আজকের কবিতা

সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নিছক প্রেমের গল্প’

  প্রযুক্তি ডেস্ক

০৯ আগস্ট ২০১৯, ১১:৪২
কবিতা
ছবি : প্রতীকী

দু’আনা তার দুঃখ ছিল।
চোদ্দো আনা সুখ
জানালাপারের গন্ধমাখা।
চম্পাবরণ মুখ
সেও যদি যায় ঝাপসা হয়ে
সমীকরণ স্পষ্ট
দু’আনা তার সুখ বাঁচে ‘আর
চোদ্দো আনা কষ্ট

কন্যে মুখে কিছুই বলো না
কন্যে তোমার সকল ছলনা

ডাইনির মতন চুল এলো করে ওইভাবে জানালার পাশে বসে আছিস কেন? কী হয়েছে তোরে, রাগ? আধ ঘণ্টা বসে আছি।
চুপ করে। চলে যাব?
রাগ করব কার উপরে?
ঠিক এই কথাটাই আমি জানতে চাইছিলাম। রাগ করছিস কার উপরে?
আমি রাগ করিনি। আমার কথা বলতে ভাল লাগছে না, আর কিছু বলবি?
না বলব না কিছু। আমি চললাম, তোরে রোদে পোহানো দেখার জন্য আমি বসে থাকতে পারব না।
কোথায় যাবি এখন?
জাহান্নামে, তোকে বলব কেন?
রাগলে তোরে কানগুলো বেগুনি হয়ে যায়, জানিস সেটা?
বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু!
একটা কবিতা শুনবি?
পারব না।

চম্পাবরণ রোদে নেমেছে ঠিক দুপ্পুরবেলা
চম্পাবরণ কন্যে তোমার চক্ষে মেঘের খেলা

শাড়িটা পরে তোকে বেশ কেমন একটা ইয়ে লাগছে।
ইয়েটা কী? জঘন্য লাগছে বলতে বাধছে বুঝি? তোরে মুখেও কিছু আটকায় তা হলে!
জানিস না, বড়রা কি বলেছেন, ‘সত্যম ব্রুয়াত, প্রিয়ম বড়ুয়া’।
অপ্রিয় সত্য বলতে নেই আসলে।
জঘন্য লাগছে তো?
আমি কি তাই বললাম? আসলে শাড়ি পরে তোকে অন্যরকম লাগছে। বিকেলবেলার রোদটা সরে গেলে বোধ হয় তোকে আবার তোর মতন লাগবে।
এখন কার মতন লাগছে?
তোরে মতনই, তবু যেন তুই নয়। আচ্ছা, তোর চুলগুলো কি মেঘবরণ?
রাজকন্যা বলছিস আমাকে?
তাই কখনও বলতে পারি! রাজা-গজার খুব আকাল দেশে। শেষ অবধি রাজপুত্তুর জোটাবি কোথা থেকে?
রাখাল ছেলে কি জুটবে না এক-আধটা?
ঠাকুরমার ঝুলি হাতড়ে দ্যাখ, পেতেও পারিস। আসলে তাকে বোধ হয় খুব সুন্দর লাগছে আর মনে হচ্ছে তুই অনেক দূরে।
ট্রাম লাইনের উপরে, ওটা কী পাখি রে?
কাক নয়, চড়ুই, শালিখও নয় দেখছি। এই শহরে পাখি বলতে আর একটাই।
ওটা মন পাখি।

চোখের কোণে মুকুতা দোলে হাসলে করে আলো
নীলাম্বরী উপচানো তার কেশের বরণ কালো

কনুইতে ব্যান্ড-এজ লাগিয়েছিস কেন?
কেটে গেছে।
কাটল কী করে?
একটা কঠিন ক্যাচ নিতে গিয়ে।
এখনও ক্রিকেট খেলে যাচ্ছিস? পরীক্ষার ক’টা দিন বাকি?
পরীক্ষার সঙ্গে ক্রিকেটের সম্পর্ক যে ব্যস্তানুপাতিক সেটা জানা ছিল নাতো!
সেভেনথ পেপারের প্রিপারেশন কেমন হয়েছে?
ফেল করব ওটাতে।
আর এইটথ পেপার?
ডাহা ফেল।
বলতে একটুও লজ্জা করছে না
আমার মতন খারাপ ছাত্র কিছু না থাকলে ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি যে লাটে উঠবে। বছর বছর একজামিনেশন ফিজ দিয়ে টিকিয়ে রেখেছি তো আমরাই।
ক’ঘন্টা পড়ছিস দিনে?
সারা রাত। সকালে প্রথম ট্রামটাকে রওনা করে দিয়ে তবে ঘুমাতো যাই।।
সারা রাত পড়ছিস?
সারা রাত জাগছি অন্তত।
কী করিস, সারা রাত জেগে?
ঘুমিয়ে পড়লে কলকাতা শহরকে খুব বোকা বোকা লাগে। ল্যাম্পপোস্ট হাই তোলে মাঝে মাঝে। আমার পড়ার টেবিলের সামনে যে জানলাটা,
ওটার ঠিক উল্টোদিকের রাস্তায় একটা টিউবওয়েল আছে। ওইটা ঘুমের মধ্যে খুব কথা বলে। তখন নেড়িগুলো এইসা ধমক লাগায় কী বলবো!
সারা রাত এইসব পাগলামি?
পাগলামি কেন হবে, এ ছাড়াও পরীক্ষায় পাস করার জন্য কত কসরত করি। কাল রাতেই খাতা ভর্তি করে তোর নাম লিখেছি, প্রতি পাতায় ১০৮ বার।
কেন?
তোর মতন ভাল ছাত্রী আমাদের ডিপার্টমেন্টে আর আছেটা কে? যদি তাের নাম জপ করে উতরে যাই কোনওমতে।
শুধুই তাই?
না, এছাড়াও আছে। তোর নামটা লিখলে বেশ লাগে দেখতে।

কন্যে কন্যে চম্পাবরণ
কাজল চক্ষু বশীকরণ

পরীক্ষার পরে কী করবি?
ইচ্ছে আছে জেএনইউতে পড়ার। তুই কিছু ভেবেছিস?
ভাবার কিছু নেই তো। পরের বার পরীক্ষা দেবার জন্য আবার তৈরি হব।
তুই সত্যি দিল্লি চলে যাবি?
যদি সুযোগ পাই, যাব।
পারবিই না যেতে। কাকু কিছুতেই তোর মতন একটা পুঁচকে মেয়েকে দিল্লিতে একা থাকতে দেবেন না।
আমি তোর থেকে তিন সপ্তাহের বড় বয়সে এটা মনে রাখিস। আর দিল্লিতে একা থাকব কেন? মাসির বাড়ি আছে তো।
কেন, মাসি দিল্লিতে থাকেন কেন? আর জায়গা পেলেন না থাকার!
মাসির দিল্লিতে থাকার কারণটা খুব সহজ। মেসোমশাই থাকেন ওইখানে তাই। কিন্তু তাের এত রাগ কেন দিল্লির উপরে?
তুই দিল্লিতে যেতে চাইছিস কেন?
পড়াশুনো করবার জন্য।
পড়াশুনো করার জন্য কলকাতা ছেড়ে চলে যাবি?
হ্যাঁ যাব।
তুই জানিস, তুই চলে গেলে কলকাতা শহর মুখ গোমড়া করে বসে থাকবে, ভিক্টোরিয়ার পরি ঘুরবে না আর ফুচকাওয়ালারা কবিরাজি ওষুধের কোঅপারেটিভ স্টোর খুলবে?
আর তুই কী করবি?
তোর সঙ্গে আমার কী? আমি কিছুই করব না।করব নাই বা কেন? সারাদিন ক্রিকেট খেলব, রোজ বিকেলে দুটো করে এগ রোল খাব সেনাপতির দোকান থেকে আর সারা রাত্তির ফুটপাথের সাথে গল্প করব। যা ইচ্ছে করব, যা খুশি করব। কী দরকার তোর এত পড়াশোনা করার শুনি?
তুই সারাদিন ক্রিকেট খেলবি, সারা রাত ফুটপাথের সঙ্গে গল্প করবি, বছর বছর পরীক্ষা দিবি, যা ইচ্ছে করবি। আমি যদি পড়াশোনা করে
চাকরি না করি, রোজ বিকেলে তোকে দু’টো করে এগ রোল খাওয়াবে কে?

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড