• শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের করোনা জয়

  আহমেদ ইউসুফ

৩১ মে ২০২০, ২২:৪৮
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমজাদ হোসেন
ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লোক প্রশাসন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী বর্তমান চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমজাদ হোসেন অর্ণব। শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা যাওয়ায় গত ১৪ মে তিনি করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠান এবং ১৬ মে তার করোনা পরীক্ষার রেজাল্ট পজিটিভ আসে। 

ডাক্তারি পরামর্শ এবং কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করে কিভাবে তার ২য় এবং ৩য় ফলো-আপে করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসে, সেই কঠিন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন পাঠকদের উদ্দেশ্যে।

তিনি বলেন, ‘অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হবার পরের অভিজ্ঞতা জানতে চেয়েছেন। যারা এখনো করোনায় আক্রান্ত হননি (সৃষ্টিকর্তা সবাইকে সুস্থ রাখুক) এবং যারা আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে রয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যে আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা সংক্ষেপে শেয়ার করছি।’

প্রথমে বলে নিই আমি কিভাবে আক্রান্ত হলাম। মার্চের ৮ তারিখ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে মানুষের মাঝে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রায় প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে মাঠে থাকতে হয়েছে এবং নিয়মিত অফিস করতে হয়েছে। 
এছাড়াও মুজিববর্ষে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লক্ষ পরিবারের মধ্যে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান কর্মসূচির আওতায় এ জেলার পঞ্চাশ হাজার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত তালিকা যাচাইয়ের কাজ বাড়ি বাড়ি গিয়ে করেছি। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে গরীব ও দুস্থ মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছি। অসাবধানতাবশত কখন কিভাবে কার মাধ্যমে সংক্রমিত হলাম বুঝতেই পারিনি। 

কিন্তু যখন অনুভূত হল শরীরে হালকা জ্বর, সর্দি, কাশি তখনই দেরি না করে করোনা পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল পাঠাই। সন্দেহ অনুপাতে রিপোর্ট পজিটিভ আসে ।

রিপোর্ট শোনার পর আমার মনটা বিষণ্ণ হয়ে পড়ে। হাত-পা কাঁপতে শুরু করে এবং একটানা ৫-৬ দিন ১-২ ঘণ্টার বেশি ঘুমাতে পারিনি। বার বার মনে হয়েছে ঘুমিয়ে পড়লেই না জানি কি হয়ে যায়।

কিন্তু বসে না থেকে করোনা পজিটিভ হওয়ার পর বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা গ্রহণ করি। এর মধ্যে,
1) Tab.Zimax 500mg (0+0+1) 7days
2) Tab.Scabo 6/Ivera 6 (2 টা ট্যাবলেট একদিনে একবার)
3) Tab.Tofen 1mg(1+0+1) 15days
4) Nasal drop. Rynex 0.05%(2 drops in each nose 3-4 times daily) (সর্দি থাকলে)
5) Tab.Xinc 20mg(2+2+2) 15days
6) Tab.Ceevit Ds(1+0+1) 15days
7) Tab.Esonix 20mg(1+0+1) (খাওয়ার আগে)
8. Tab.Monas 10mg(0+0+1) 15days (প্রচণ্ড কাশি ও শ্বাসকষ্ট হলে)
9) Inhaler.Sulprex ( 2 puff /Chap 3-4 times daily) (শ্বাসকষ্ট হলে)
10) Tab. Napa 500mg (1+1+1) (জ্বর থাকলে) 

এছাড়াও আরও কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করেছি যেগুলো সুস্থ অবস্থায়ও যা আমাদের সকলকেই  অনুসরণ করা উচিত-

ক. মধু, আদা, লবঙ্গ, রসুন ও লেবুর রস মিশ্রিত চা/গরম পানি দিনে অন্তত ৪/৫ বার পান করেছি।
খ. দিনে অন্তত ৫ বার গরম পানির ভাঁপ নিয়েছি।
লবণ কিংবা ভিনেগার মিশ্রিত গরম পানি দিয়ে দিনে কমপক্ষে ৫ বার করে গার্গল করেছি।
গ. ডিম, দুধ, ভিটামিন সি ও ডি সমৃদ্ধ খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে খেয়েছি।
প্রতিদিন কমপক্ষে ২০-৩০ মিনিট রোদ পোহাতে হয়েছে।
ঘ. প্রতিদিন অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করেছি। (পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের ইমিউনিটি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে)

এছাড়াও নির্ধারিত কিছু বিষয় মেনে চলেছি যা আমাদের সবাইকে মানা উচিত। যেমন- নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করা, হাঁচি ও কাশির শিষ্টাচার মেনে চলা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, সর্বোপরি ঘরে থাকা এবং নিরাপদে থাকা।

আরও পড়ুন : করোনা মুক্ত নিকলী, আলো দেখাচ্ছে ভাইরাস প্রতিরোধ টিম

সকলের উদ্দেশ্যে বলব নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণ করলে যে কেউ করোনা থেকে সহজেই মুক্তি পাবে ইনশাআল্লাহ। 

একটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া উচিত তা হলো কোনোভাবেই আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। মনে সাহস রেখে ডাক্তারের চিকিৎসা অনুসরণ করে করোনা জয় করা সম্ভব। সত্যি কথা বলতে করোনা একটা আতঙ্ক ছাড়া কিছুই না। আতঙ্কিত হলেই সমস্যা।

আবারও নতুন উদ্যমে দেশের এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করবো। আমার কাছে দেশের এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে পারাটা গর্বের। সকলের দোয়া প্রত্যাশা করছি।ধন্যবাদ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড