• মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

‘জলকাব্য-২’ শিরোনামে এজ গ্যালারির চিত্ররাশি

  বাপ্পি লিংকন রায়

০১ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৪৭
প্রদর্শনী
ছবি : লেখক

‘রং যখন সমৃদ্ধ ও বৈভবশালী, গড়ন তখন পরিপূর্ণ ও প্রাচুর্যময়।’ শিল্পী সেজানের এই উক্তিটি যেন জলকাব্য-২ প্রদর্শনীর সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। যেখানে বাধনহীনভাবে রং ও জল নিয়ে চিত্র রচনা করেছে শিল্পীরা। মাধ্যমের বালাই না করে রঙই যেন মূখ্য হয়েছে এখানে।

তরুণ ও বরেণ্য মিলে ২৬ জন শিল্পীর কাজ নিয়ে সাজিয়েছে এজ গ্যালারির জলকাব্য-২। তাদের চিত্রের বিষয় ছিল ল্যান্ডস্কেপ, প্রকৃতি ও নদীর জীবনময়তা। যার স্পষ্ট ছাপ পাওয়া যায় গ্যালারির সকল শিল্পকর্মে।

নবীন ও তরুণ শিল্পীদের মধ্যে রয়েছে- আজমির হোসেন, নবরাজ রায়, নাফিউজ্জামান নাফি, নাজমুল হক বাপ্পি, সাবির আহমদ, মিন্টু দে, কায়সার হোসেন, কামরুজ্জোহা, শারমিন আক্তার লিনা, সোহাগ পারভেজ, সৈকত হোসেন, সুলতান ইসতিয়াক, ওয়ারির রহমান সামি, জাহাঙ্গির আলম, আল আখির সরকার, আনিসুর রহমান, খাকিন্নুহার কানন, প্রমুখ। তারা সকলেই নিজ অবস্থানে সমদ্বিত; অনেকে বিদেশে শিক্ষা গ্রহণ করে বর্তমানে দেশের শিল্পচর্চায় নিজের অবস্থান অক্ষুণ্ণ রাখছে। 

বরেণ্য শিল্পীদের মধ্যে রয়ে রয়েছে- অলোকেশ ঘোষ, হামিদুজ্জামান খান, জামাল আহমেদ, মনিরুল ইসলাম, সমরজিৎ রায় চৌধুরী, রনজিৎ দাশ, বিরেন সোম, আনিসুজ্জামান, আরিফুল ইসলাম, প্রমুখ। যারা সকলেই বাংলার শিল্প গুরুমান্য। তাদের অবদানে বাংলার শিল্পজগত হয়েছে সমৃদ্ধ ও উজ্জ্বল। তবে প্রবীণ শিল্পীরা কিছুটা আন্তরিক ও স্বজনপ্রিতী কর্মকাণ্ড ত্যাগ করলে নবীন শিল্পীদের সম্ভাবনার জন্য আগামীর পথ হবে দ্বীপ্তময়। 

শিল্পী আজমির হোসেন কাজ করেন জলরঙে। এই প্রদর্শনীতে ও রয়েছে তাঁর জল রঙের অর্ধ বিমূর্ত রচনার দুটি ছবি। শিল্পীর তুলি কী শব্দ মূর্ছনা তৈরি করে, এত বর্ণময়তা করছে, তা না দেখলে বোঝা মুশকিল। শিল্পী নবরাজ রায় কাজ করেছে বাংলার প্রকৃতি নিয়ে তবে তা উপস্থাপনে বিমূর্তা। বর্ণের অসংখ্য বিন্যাস, ফর্ম বিভাজন ও বুনট তার চিত্রকে দিয়েছে নিজেস্বতা। ছোট ছোট নানা ফর্ম নিয়েছে প্রকৃতি থেকে, তার সঙ্গে যুক্ত করেছে বর্ণ। সব মিলে দ্বিমাত্রিক পটে ত্রিমাত্রিক বিভ্রমতা। 

শারমিন আক্তার লিনা, মিন্টু দে, কামরুজ্জোহা, সৌকত হোসেন, এদের চিত্রগুলোও বাংলার রঙিন সব দৃশ্যায়ন। কিছু ছবি দেখে বর্ষার অনুভূতি পাওয়া যায়। অন্য শিল্পীদের কাজের কথা ও বলার অবকাশ রাখে না। সকলেই নিজ নিজ পরিপ্রেক্ষিত থেকে বাংলার রূপ তুলেছে। 

শিল্পী অলোকেশ ঘোষ এর জলরঙ এর চিত্র সর্বদাই দর্শকের মন করে। শিল্পী রনজিৎ দাশ তার চিত্রদ্বয় প্রদর্শনীর মধ্যে ভিন্ন কম্পোজিশনের কাজ। শিল্পী মনিরুল ইসলামের মিশ্র মাধ্যমে করা জলকাব্যের সঙ্গে সকলেই পরিচিত তবে বর্ণ ও কম্পোজিশনের ফর্মগুলো সার্থকতা পায়। তাদের ছাড়া অন্য প্রবীণ শিল্পীরাও তাদের নিজস্বতায় কাজ করেছে। তবে কিছু কিছু কাজ বাদ দিলে প্রদর্শনীর উপস্থাপনায় মান রক্ষা পেত বলে মনে হয়। 

সর্বোপরি এখানে রং ও জলের গল্পে উঠে এসেছে। জীবনের নানা ঘটনা, স্থান, অবস্থান কিংবা অনুভূতিদ্বয়। শিল্পীদের মৌলিক আবিষ্কার গুলো হলো তার চিত্রকর্ম। আর তা যদি দর্শকের মনেও মৌলিক কিছু আবেদন ও স্বপ্ন দেওয়া বা তৈরি করা যায়; তাতেই শিল্পীর স্বার্থকতা। 

প্রদশর্নী চলবে আগামী ১৬ অক্টোবর ২০১৯ পর্যন্ত।
প্রতিদিন সকাল ১০.০০ টা থেকে রাত ৮:০০ টা পর্যন্ত গ্যালারি খোলা।
স্থান: এজ গ্যালারি (বে’জ এস ওয়াটার অন এনই(ই), ১২ নর্থ এভিনিউ, গুলশান- ২, ঢাকা। 

ওডি/এনএম 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড