• বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মনোজাগতিক ভুবনের ছাপ যখন শিল্পীর ছবিতে

  অধিকার ডেস্ক

২৪ জুন ২০১৯, ১১:১৩
প্রদর্শনী
ছবি : সম্পাদিত

শিল্পকলার জগতে ‘ভ্রমণ’ শব্দটি ইদানিং খুব জনপ্রিয়, অর্থাৎ শিল্প ভ্রমণ । এটি তো নিঃসন্দেহে ঠিক যে, প্রত্যেক শিল্পীই তার একটি নিজস্ব জগৎ তৈরি করতে চায়। একটি আত্মপরিচয়ের নিজস্ব সাকিন গড়ে তুলতে চায়। এটিই বোধহয় শিল্প ভ্রমণের মূল লক্ষ্য। 

আমাদের দেশের শিল্পীদের মধ্যে নিজস্ব পরিচয় নিয়ে দাঁড়ানোর প্রবণতা বেশ জোরালো। তবে একাডেমিক আর্ট ও মূলধারার শিল্পচর্চার মধ্যে যে দ্বন্দ্ব, তা অনেক ক্ষেত্রেই শিল্পীদের চর্চার ক্ষেত্রে অনেকগুলো প্রশ্নবোধক চিহ্ন এঁকে দেয়। বাস্তবধর্মীতাই যখন একাডেমিক আর্টের চূড়ান্ত বিবেচ্য, তখন নবীন শিল্পীদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণরেখা অতিক্রম করে মনোজাগতিক ভুবনের অবাস্তবিক চিহ্নধর্মীতার শিল্পীযাত্রায় পা বাড়ানো মোটেই সহজ বিষয় নয়। তবে এক্ষেত্রে নবীন শিল্পী ইকবাল বাহার চৌধুরী বলতে গেলে সেই অসাধ্যই সাধন করেছেন।  

ইকবাল বাহার চৌধুরী ছাপচিত্র মাধ্যমের এক কুশলী শিল্পী। এই ছাপচিত্রী নানা ধরনের অপ্রচলিত মাধ্যমে ছাপাই ছবি নির্মাণ করে ইতোমধ্যে শিল্পরসিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ছাপাই ছবি বলতে আমরা প্রচলিতভাবে বুঝি এচিং, লিথোগ্রাফ, উডকাঠ ইত্যাদি। কিন্ত ইকবাল প্রচলিত মাধ্যমের গন্ডি পেরিয়ে এক ভিন্নধর্মী নিরীক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত করেছে। হার্ডবোর্ডের উপর আঁচড় কেটে কখনো ইন্টাগলিও পদ্ধতিতে, আবার নানা উপাদান যুক্ত করে কোলাজ পদ্ধতিতে ছাপ নিয়ে একেবারেই ছাপাই ছবির একটি অন্য দিগন্ত উন্মোচন করেছে। 

ছাপাই ছবির এই পদ্ধতি একাডেমিকভাবে সেইভাবে স্বীকৃত না হলেও, ইকবাল তার এই নিরীক্ষাধর্মীতার পথ থেকে বিচ্যুত হয়নি। শেষ বিচারে ইকবালেরই জয় হয়েছে। দেশ বিদেশে নানা প্রদর্শনীতে ইকবালের শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর জন্য মনোনীত হয়েছে, প্রশংসিত হয়েছে, পুরষ্কৃত হয়েছে। নবীন এই শিল্পীর শিল্পযাত্রার সময় খুব বেশী না হলেও ভাবনার ব্যাপ্তি অনেক। এই বয়সেই তার একটি নিজস্ব ভুবন সৃষ্টি হয়েছে, যা স্বকীয়তায় ভাস্বর।

ইকবালের ছাপাই ছবিতে বস্তুগত উপস্থিতি অতিক্রম করে মনোজাগতিক ভুবনের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পরিশীলিত রঙ ও কুশলী রেখায়নের মধ্য দিয়ে ঐন্দ্রজালিক রহস্যময়তার এক অনির্বচনীয় জগত তৈরি হয়েছে। ইকবালের ছবিতে যেমন প্রাগৈতিহাসিক টোটেম-ট্যাবুর চিহ্নসমূহ উঠে এসেছে নানা আঙ্গিকে আবার অন্তরজগতের বিষয়গুলো যেমন, ভালবাসা, দ্বন্দ্ব, ভয় ইত্যাদিও প্রকাশিত হয়েছে রঙ রেখার আবহে। এক্ষেত্রে আমরা তুলনা করতে পারি এডভার্ড মুঙ্কেওর সাথে। মুঙ্কও আমাদের সামনে এক রহস্যময়তার জগত উন্মোচন করেছিলেন।

শিল্পের মহাভূবনে সদ্য পা রেখেছে ইকবাল। এর মধ্যে তার নিষ্ঠার প্রমাণ আমরা পেয়েছি। নিজস্ব নান্দনিকতাবোধ ও সৃজনশীল মননের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তার শিল্পকর্মে। শিল্পীর এই পথচলা দীর্ঘতর হোক।

আলিয়ঁস ফ্রসেজ দো ঢাকার লা গ্যালারিতে শিল্পী ইকবাল বাহার চৌধুরী এর ‘নুড়ি ও কণা’ শীর্ষক একক চিত্রকর্ম প্রদশর্নী চলছে। প্রদশর্নীতে শিল্পীর ৬৪টি চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে। 

প্রদশর্নীটি সবার জন্য উন্মুক্ত।

প্রদশর্নীটি চলবে- ২৯ শে জুন ২০১৯ পর্যন্ত। 

সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার- বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। 

 শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদশর্নীটি খোলা থাকবে।

লেখক- ড. রশীদ আমিন, চারুকলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

ওডি/এনএম 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড