• শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬  |   ২০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মুস্তাফিজের সুদিন ফিরবে কবে?

  ক্রীড়া ডেস্ক

২৪ জানুয়ারি ২০২০, ২১:০৫
মুস্তাফিজুর রহমান
মুস্তাফিজুর রহমান (ছবি: সংগৃহীত)

ভারতের বিপক্ষে বিবর্ণ বোলিং দিয়ে ২০১৯ সাল শেষ করেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। পুরো সিরিজে ৯.৪ ওভার বোলিং করে ৯২ রান দিয়ে ছিলেন উইকেট শূন্য। নতুন বছরের শুরুটাও বাজে বোলিং দিয়ে করলেন তিনি। আল আমিন- শফিউলের কিপটে বোলিংয়ের দিনে ৪ ওভারে তিনি দিয়েছেন ৪০ রান।

১৪২ রানের পুঁজি নিয়েও লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেয় বাংলাদেশ। মূলত বোলারদের কল্যাণেই ম্যাচ গড়ায় শেষ ওভারে। এদিন বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন আল আমিন-শফিউলরা। ৪ ওভার বোলিং করে মাত্র ১৮ রানে ১ উইকেট শিকার করেন আল আমিন। শফিউল ৪ ওভারে ২৭ রানে নেন ২ উইকেট। এছাড়া লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলামও বেশ কিপটে ছিলেন এদিন। ৪ ওভারে ১ উইকেট নিতে তিনি খরচ করেন ২৮ রান।

১ উইকেট পেলেও দু'হাত ভরে রান দিয়েছেন মুস্তাফিজ। ৪ ওভারে তিনি ডট দিয়েছেন ৭টি যেখানে শফিউল ১২টি ও আল আমিন ১১টি ডট বল আদায় করেছেন। একসময় ব্যাটসম্যানদের কাটারে কুপোকাত করা মুস্তাফিজ যেন এখন প্রতিপক্ষের রান মেশিনই বনে গেছেন। তার বলে ৬ টি চার হাঁকিয়ে বাউন্ডারি থেকে ২৪ রান নিয়েছে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা। দুই দলের আর কোনো বোলারই ম্যাচে বাউন্ডারি থেকে এত রান দেয়নি।

তবে মাশরাফির ক্যারিয়ের শেষ সময়ে মুস্তাফিজ জাতীয় দলে আশার আলো নিয়ে এসেছিলেন। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে অভিষেক হয় তার। অভিষেকেই আলোড়ন তোলেন তিনি। ম্যাচে ৪ ওভার বোলিং করে মাত্র ২০ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট তুলে নেন কাটার মাস্টার খ্যাত এ বোলার। এরপর একই বছর আরও ৪টি টি-টুয়েন্টি খেলেন তিনি। সে বছর মোট ৫ ম্যাচ খেলে ১৯.৩ ওভার বোলিং করে মাত্র ১১২ রান দেয় মুস্তাফিজ। পুরো বছরে মাত্র ৬ উইকেট নিলেও রান দেন ৫.৭৪ গড়ে।

পরের বছর আরও দুর্দান্ত বোলিং করেন এ বোলার। ২০১৬ সালে তিনি খেলেন ৮টি টি-টুয়েন্টি। ৩১.৫ ওভার বোলিং করে ১৯৫ রানের বিনিময়ে শিকার করেন ১৬ উইকেট। ৬.১২ গড়ে রান দেওয়া মুস্তাফিজ সে বছর একবার ম্যাচে ৫ উইকেটও শিকার করেন যা এখন পর্যন্ত তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২২ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। ২০১৬ সালে মুস্তাফিজের আইপিএল অভিষেকও হয়। অভিষেক আসরে ১৬ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে হন টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান ক্রিকেটার।

২০১৭ সালটাও খারাপ কাটেনি মুস্তাফিজের। ৪টি টি-টুয়েন্টি খেলে ১৪ ওভার বোলিং করে ৯৬ রানে নেন ৫ উইকেট। সে বছর তার ইকোনোমি রেট ছিল ৬.৮৫। তবে মুস্তাফিজ সে বছরই নিজেকে হারিয়ে ফেলা শুরু করেন।

২০১৬ সালেই যেন নিজেকে হারিয়ে খুঁজতে থাকেন এ বোলার। এ বছর মোট ১৩ টি-টুয়েন্টিতে রান দেন ৯.৮৫ গড়ে। ৪৫.১ ওভার বোলিং করে ৪৪৫ রানের বিনিময়ে নেন ২১ উইকেট। উইকেট শিকার করলেও প্রতিপক্ষের রান মেশিনে পরিণত হন তিনি। আর গত বছর ৭ ম্যাচে ২৪.৪ ওভার বোলিং করে ৮.৭৯ গড়ে রান দেন ২১৭। গত বছর ৭ ম্যাচে মাত্র ৪ উইকেট শিকার কতে পারেন তিনি।

মুস্তাফিজ ফুরিয়ে গেছেন- ভক্ত-সমর্থকদের মনে এ আশঙ্কা প্রবল হওয়ার মাঝে ফিরে আসার ইঙ্গিত দেন। বঙ্গবন্ধু বিপিএলে আবারও বল হাতে ফিরে আসেন পুরনো ফর্মে। টুর্নামেন্টে ২০ উইকেট শিকার করে হন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। তাই তার নেতৃত্বেই পাকিস্তান সফরের পেস ডিপার্টমেন্ট গড়ে ম্যানেজম্যান্ট। তবে ম্যানেজম্যান্টের আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি এ বোলার। সিরিজের প্রথম ম্যাচেই হতাশ করলেন মুস্তাফিজ।

ওডি/এমএমএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড