• শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কর্মী অভিবাসন ও ইমরান আহমদ

  আহমাদুল কবির

২১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৪:৩৪
কর্মী অভিবাসন ও ইমরান আহমদ
প্রবাসীদের সঙ্গে ক্যামেরাবন্দি হচ্ছেন মন্ত্রী ইমরান আহমদ (ছবি : অধিকার)

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি নাগরিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশের জনগণের বিদেশে কর্মসংস্থান এবং অভিবাসী কর্মী ও পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপির নেতৃত্বে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কাজ করছে। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি গ্রাম পর্যায়ে অভিবাসন সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার কাজ শুরু করেন।

জেলায় জনশক্তি অফিস শক্তিশালীকরণ এবং জেলায় জেলায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করছেন। একই সঙ্গে বিদেশের বন্ধ শ্রম কর্মসংস্থান চালু করা, বিদ্যমান কর্মসংস্থান সুদৃঢ় করা এবং নতুন নতুন কর্মসংস্থান চালু করার জন্য নিজেই সরাসরি বিভিন্ন দেশে গিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেন।

অভিবাসী পরিবারের কল্যাণের জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের আওতায় তিনি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। মহামারি করোনা ভাইরাসের ভয়াল তাণ্ডবের প্রেক্ষিতে প্রণোদনা দেওয়া, বিমানবন্দরে কোভিড-১৯ টেস্ট এবং বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেন। মন্ত্রী নিজেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন কিন্তু তিনি থেমে জাননি। এরই মধ্যে আরব আমিরাত ও গ্রীসে কর্মসংস্থানের চুক্তি সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘদিনের অচলায়তনে থাকা মালয়েশিয়ার সাথেও সম্পাদন করলেন কর্মসংস্থান চুক্তি।

মালয়েশিয়ার বিএন সরকারের রেখে যাওয়া কর্মী নিয়োগের পদ্ধতি সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও দুর্নীতির অভিযোগে বাতিল করে পাকাতান হারাপানের ডা. মাহাথির সরকার। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে চরম অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়। এতে থমকে যায় অভিবাসন প্রত্যাশী যুবকের স্বপ্ন।

তাৎক্ষণিক মন্ত্রী ইমরান আহমদ প্রথম মালয়েশিয়া সফর করে মানব সম্পদ মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং ড আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরু করার অনুরোধ করেন। তিনি তৎকালীন সরকারকে আশ্বস্ত করেন যে, আগের মতো সে রকম কোনো সিন্ডিকেট হতে দিবেন না। এমন প্রত্যয় নিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুখোড় মেধাবী ছাত্র ইমরান আহমদ।

তিনি বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্টের পারফরমেন্স ও সততার উপর ভিত্তি করে গ্রেডিং করেন এবং ভালো গ্রেড প্রাপ্তরা সুযোগ পাবে বলে আশ্বস্ত করেন। বঞ্চিতরা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের হাইকোর্টে মামলা করে। অপর দিকে রিক্রুটিং এজেন্টগুলো বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় নানান তৎপরতার খবর ছড়িয়ে পরে। তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ পক্ষ মালয়েশিয়ার সাথে সিরিজ বৈঠক করে, পত্র চালাচালি করে।

এর মধ্যেই দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সকল নিয়ম কানুন ভঙ্গ করে বায়রা মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরাসরি পত্র লিখলে প্রচেষ্টা হোঁচট খায় এবং মন্ত্রী বিপাকে পরেন। তবে তার সততা ও আন্তরিকতা দিয়ে সে পরিস্থিতি সামলে উঠেন।

মালয়েশিয়ার সরকার কর্মী নিয়োগের অনুমতি দিলে তৎকালীন মানব সম্পদ মন্ত্রী এম কুলাসেগারান চুক্তি করার লক্ষ্যে তার টিম নিয়ে ঢাকায় উপস্থিত হন। কিন্তু মালয়েশিয়া সরকার পদত্যাগ করায় কোনো বৈঠক ছাড়াই ফেরত আসে মালয়েশিয়া টিম। আবারও শুরু হয় অনিশ্চয়তা। মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরার জন্য সাধারণ ক্ষমা ব্যাক ফর গুড কর্মসূচি ঘোষণা করলে বাংলাদেশি কর্মীদের দেশে ফেরা শুরু হয়, তাদের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সুসম্পন্ন করার জন্য বিশেষ বাস বরাদ্দ করেন।

আরও পড়ুন : কর্মী নিয়োগে মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন

তিনি মালয়েশিয়ায় আসেন নতুন মানব সম্পদ মন্ত্রী এম সারাভানানের সাথে বৈঠক করেন। আসে মহামারি করোনা ভাইরাস, থমকে যায় স্বাভাবিক জীবন-যাত্রা, বন্ধ হয় কাজ কর্ম, আয় রোজগার না থাকায় চরম অনিশ্চয়তায় জীবন কাটে প্রবাসী কর্মীদের। তাদের জন্য বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করেন যা দূতাবাসের মাধ্যমে প্রকৃত চাহিদা সম্পন্নদের নিকট বিতরণ করা হয়।

তার আহ্বানে সারা দিয়ে প্রবাসী কমিউনিটিরাও সাহায্যের হাত প্রসারিত করেন। দুদেশের মধ্যে ফ্লাইট বন্ধ, বাংলাদেশের মানুষের মালয়েশিয়ায় প্রবেশ বন্ধ ইত্যাদি অবস্থা ক্রমশ হতাশা বাড়িয়ে দেয়। এমন অবস্থার মধ্যেই মালয়েশিয়ার মানব সম্পদ মন্ত্রী দাতুক শ্রী এম সারাভানানের সাথে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন।

এর মধ্যে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনার পরিবর্তন হলেন। করোনা ভাইরাসের মধ্যেও দুদেশের মধ্যে ভার্চুয়ালি দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে মালয়েশিয়া সরকার বৈধতাকরণ রিক্যালিব্রেশন কর্মসূচি শুরু করে। বাংলাদেশি কর্মীদের ভালো নিয়োগকর্তা এবং নিয়োগকর্তাদের কর্মী খুঁজে পাবার জন্য দূতাবাসের উদ্যোগে সৃষ্ট একটি অনলাইন প্লাটফরমের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী ইমরান আহমদ।

কর্মী অভিবাসন ও ইমরান আহমদ

চুক্তি স্বাক্ষর করছেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ এবং মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি এম সারাভানান (ছবি : অধিকার)

জানা যায়, মহামারি করোনার তাণ্ডব বৃদ্ধি পেলে শ্রম উইংয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মনোবল ধরে রেখে প্রবাসীদের জন্য কাজ করতে নিয়মিত ভার্চুয়ালি সভা করে উৎসাহ দিয়েছেন। এমনকি পরিবারের সকলের খোঁজ খবর নিয়েছেন, বারবার নির্বাচিত হওয়া এমপি ইমরান আহমদ।

আলোচনার মধ্যেই জিটুজি প্লাস সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার সময় ঘনিয়ে আসতে থাকে। সামান্য কিছু সংশোধন এবং সংযোজন, বিয়োজন করে সেই চুক্তিকেই পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেয় উভয় পক্ষ। কিন্তু কতটি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী প্রেরণ করবে এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় আলোচনা আর বেশি দূর এগোয়নি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পক্ষ প্রেস ব্রিফ করে। যে পদ্ধতি প্রশ্নবিদ্ধ সে রকম কোনো পদ্ধতি হবে, না কি সকলের জন্য উন্মুক্ত হবে এমন প্রশ্ন আসে বিভিন্ন মহল থেকে। সিন্ডিকেটের সময় ১০টি রিক্রুটিং এজেন্টের নাম উচ্চারিত হলেও বিএমইটির তথ্যানুযায়ী- ৩ শতাধিক বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণ করেছে।

মন্ত্রী ইমরান আহমদ মালয়েশিয়ার মানব সম্পদ মন্ত্রীকে সাফ জানিয়ে দেন যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা দেওয়া হবে বাকিটা মালয়েশিয়া সিদ্ধান্ত নিবে। তিনি বরাবরই বলে এসেছেন এমন কোনো সিন্ডিকেট হতে দিবেন না যা ক্ষতিকর।

উল্লেখ্য, গত ১০টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে বেছে নিয়েছিল মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ অসম্মত হলেও একপর্যায়ে মেনে নেয়। এর মধ্যে মালয়েশিয়া মানব সম্পদ মন্ত্রণালয় পূর্বের সকল আলোচনা ও সিদ্ধান্তকে এক পাশে রেখে একেবারে নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করার প্রস্তাব দেয় মন্ত্রী এম সারাভানান। এমন সিদ্ধান্তে বিস্মিত হলেও মন্ত্রী ইমরান আহমদ এই প্রচেষ্টাকেও স্বাগত জানান।

এ নিয়ে দুদেশের মন্ত্রণালয় কাজ করে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করার জন্য মন্ত্রী ইমরান আহমেদ মালয়েশিয়ার মানব সম্পদ মন্ত্রীর আমন্ত্রণ পান। কিন্তু সে সময় সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ থেকে লোক নিয়োগে মানব সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব মালয়েশিয়ার কেবিনেট অনুমোদন করে।

আরও পড়ুন : তৃণমূলের দখলেই থাকছে কলকাতা

সে প্রেক্ষিতে মানব সম্পদ মন্ত্রী এম সারাভানান মন্ত্রী ইমরান আহমদকে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে আমন্ত্রণ জানান। সমঝোতা স্মারকের ফলে উভয় দেশের মধ্যে দর কষাকষির ক্ষেত্র তৈরি হলো। এখানেই থামবেন না মন্ত্রী ইমরান আহমদ, তিনি সুন্দর ও যৌক্তিক রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কর্মী প্রেরণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

লেখক : আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া প্রবাসী সাংবাদিক।

[email protected]

ওডি/কেএইচআর

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড