• শনিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২২, ৮ মাঘ ১৪২৮  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শহর ছেড়ে গ্রামে বাস সবাই বলে সর্বনাশ

  রহমান মৃধা

০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭:১৩
শহর ছেড়ে গ্রামে বাস সবাই বলে সর্বনাশ
ফাইজারের প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের সাবেক পরিচালক রহমান মৃধা ও তার সহধর্মিণী মারিয়া (ছবি : সংগৃহীত)

গ্রাম ছেড়ে শহরে বাস, দেশ ছেড়ে বিদেশে বাস, এটা নতুন কিছু না। যুগে যুগে মানুষ জাতি এবং পশুপাখি প্রয়োজনের তাগিদে পরিবার, সমাজ এবং দেশ ছেড়ে দূরপরবাসে পাড়ি দিয়েছে/ দিচ্ছে। পাখিরা সাধারণত খাবারের সন্ধানে আর মানুষ জাতি ভালো সুযোগের সন্ধানে বা গুড টু বেটার লাইফ পেতে এ কাজটি করে। আমি যেমন সেই চল্লিশ বছর আগে দেশে ছেড়ে বিদেশে এসেছি নতুন কিছু জানা, শেখা এবং শেয়ার করার জন্য।

প্রশ্ন হতে পারে আমি নিজ দেশ ছেড়ে বিদেশে এসে কি ভালো আছি, সুখে আছি?

এমন প্রশ্নের জবাব দেবার আগে ভালো বা সুখে থাকার উপর একটু বিশ্লেষণ করতে হবে। প্রথমত ভালো বা সুখে থাকা এটা ব্যক্তি কেন্দ্রিক, এটা একেক জনের কাছে একেক রকম। দ্বিতীয়ত যদি তুলনা করি যারা আমার সমবয়সী এবং আজীবন নিজ দেশে আছে তাদের সঙ্গে, তবে দেখা যাবে হয়ত অর্থে পার্থক্যে থাকতে পারে। যদিও আমি মনে করি ভালো বা সুখী থাকতে খুব একটা বেশি কিছুর দরকার পড়ে না যদি চাহিদা সারাক্ষণ দৌড়ের উপর না রাখে এবং যদি কারো সঙ্গে কারো তুলনা না করা হয়।

সত্যি কথা বলতে মানুষ জাতি ভেতরে ভেতরে প্রতিযোগিতা পছন্দ করে আর সেই পছন্দের কারণে তুলনা করাটা অভ্যাসে পরিণত হয়, যার ফলে কথায় বলে ‘সুখে থাকলেও মাঝে মধ্যে ভুতে কিলায়।’ তারপর আমাদের মধ্যে রয়েছে অনুভূতি, যেমন আমরা হাসতে পারি, কাঁদতে পারি। আমাদের মধ্যে রয়েছে লোভ, লালসা কামনা, বাসনা ইত্যাদি। সব মিলে ভীষণ কঠিন ব্যাপার স্বতন্ত্র ভাবে জীবন যাপন করা।

আরও পড়ুন : মেঘের আড়ালে সূর্য হাসে

ভালো এবং সুখ কি? এর উত্তর বরং এভাবে দেওয়া যেতে পারে। আমি ইচ্ছে করলে সৃজনশীলভাবে যা করার বা যা দরকার সেটা করতে বা পেতে পারি, সে সামর্থ্য আমার রয়েছে। ইচ্ছে হলে যেখানে খুশি যেতে পারি, যা কিছু খেতে মন চাই, তা খেতে পারি। ফলে বলতে পারি ভালো না থাকলে দূরপরবাসে এত বছর বসবাস করা সম্ভব হতো না। ভালো আছি, সুখে আছি এগুলো না বলে বরং বলা যেতে পারে ‘I have chosen my choice and I have control over my choices.’

তাহলে বলা যেতে পারে চয়েস বা পছন্দ একটি সুন্দর শব্দ। পছন্দ যতক্ষণ আয়ত্তাধীন ততক্ষণ যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। এই যেতে পারার নাম চেঞ্জ বা পরিবর্তন। সেটা হতে পারে যেমন জীবনের পরিবর্তন। জীবনের পরিবর্তন ঘটাতে একদিন যেমন নিজ দেশ ছেড়ে দূরপরবাসে এসেছিলাম এবার ঠিক সেই জীবনের পরিবর্তনের জন্য সুইডেনের শহর ছেড়ে গ্রামে বসবাস শুরু করেছি।

অনেকে অবাক হয়েছে, অনেকে প্রশ্ন করেছে, কী কারণে আমি শহর ছেড়ে গ্রামে বসবাস শুরু করলাম ইত্যাদি। আসুন জানা যাক কিছু অপ্রিয় সত্য তথ্য। আমরা সবাই এখন গুগলের www ( ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব)- এর সঙ্গে খুব ভালোভাবে যুক্ত। হিন্দু, মুসলিম, বৌধ্য, খ্রিস্টান, জাত, অজাত, শিক্ষিত, অশিক্ষিত ঘুষখোর, ধর্ষক, দুর্নীতিবাজ, ধান্দাবাজ যাই বলি না কেন, মত, দ্বিমত যাই থাকুক না কেন, কিছু যাই আসে না।

আশ্চর্য এত ঘৃণা একে অপরকে, তারপরও ব্যবহারিক দিক দিয়ে একই জিনিষ দেদারছে ব্যবহার চলছে। ঘটনা কি? কেউ কি আমাকে এর একটি সঠিক উত্তর দিতে পারবে? যাই হোক আমরা হয়ত এখনো ভালোভাবে বাংলাদেশের অবকাঠামো বা পরিকাঠামো করতে পারিনি। তবে বিশ্ব পরিকাঠামোর সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে শুরু করেছি গুগল তারই একটি উদাহরণ।

আরও পড়ুন : মরার সময়ও নেই

আমি সুইডেনে থাকি। এখানে রাজার যে সুযোগ সুবিধা রয়েছে আমারও ঠিক শতভাগ না হলেও প্রায় সমপরিমাণ সুযোগ সুবিধা রয়েছে। এখানে গ্রাম বা শহর বলে কথা নেই, সব কিছুই সব জায়গাতে বিরাজমান রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো, শিক্ষা, চিকিৎসা বিলাসিতাসহ সব ধরনের সুযোগ থাকার কারণে শহর ছেড়ে গ্রামে বসবাস। ঘরে বসে অফিস করা, স্কুল করা থেকে শুরু করে বেশিরভাগ কাজ করার ব্যবস্থা রয়েছে। এত সব সুযোগ সুবিধা থাকা স্বত্বেও অনেকে এখনো শহর কেন্দ্রিক কারণ সেটা তাদের ব্যক্তিগত চয়েস।

এবার চলুন কিছুক্ষণের জন্য ভাবনার জগত থেকে ঘুরে আসি। মনে করুন আপনি ঢাকা শহরের একটি বস্তি এলাকায় বসবাস করছেন। নুন আনতে পান থাকে না, এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে জীবন চলছে। সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই, ঘরে খাবার নেই। গ্রামে থাকার জায়গা নেই, শুধু নেই আর নেই। হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে রাত পোহাতেই দেখতে পেলেন বাংলাদেশের সব কিছুর সঙ্গে সুইডেনের জীবন ব্যবস্থার যে বর্ণনা দিয়েছি, হুবহু মিল। কি করবেন তখন?

বাংলাদেশের ৫৫১২৬ বর্গ মাইলের যে কোন জায়গা বসবাস করতে চাইবেন। কারণ দেশের পরিকাঠামো, দেশের মানুষের মধ্যে কোন কোন পার্থক্য নেই। উপরের ভাবনকে বাস্তবে রূপ দিতে পারলে বাংলাদেশ সোনার বাংলা হবে। এই কথাগুলো শোনার সঙ্গে সঙ্গে সবাই বলবে আমাকে আমার মাথায় সমস্যা আছে। এটা জীবনেও হবে না। ছোট বেলা পড়েছিলাম ‘পারিবে না একথাটি বলিবে না আর একবারে না পারিলে দেখ শতবার।’

আরও পড়ুন : দেখা হয়েছিল পূর্ণিমা রাতে

আমরা একবারও এখন পর্যন্ত সেই চেষ্টাটিই করিনি অথচ সবাই বলবে সম্ভব নয়। সুইডেন ঠাণ্ডা বরফের দেশ, তারপর পাহাড় আর জঙ্গল ভরা, তারা যদি পারে শহর ছেড়ে গ্রামে বাস করতে, তাদের দেশে যদি লাউ গাছে লাউ ধরাতে পারি, তাহলে বাংলাদেশ কেন সুইডেনের মতো হতে পারবে না? খুব জানতে ইচ্ছে করে!

লেখক : সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন।

[email protected]

ওডি/কেএইচআর

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড