• বুধবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭  |   ১৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বিজয়ের ৪৯তম বছরে তরুণ-তরুণীদের ভাবনা

  মামুন সোহাগ

১০ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬:০৭
বিজয়ের মাস ডিসেম্বর
বিজয়ের ৪৯তম বছরে তরুণ-তরুণীদের ভাবনা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। যেখানে তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। এরই মধ্যে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের দ্বারপ্রান্তে দেশ। ইতিহাসের এমনই এক সন্ধিক্ষণে উপনীত এবারের বিজয় দিবস। দিবসটির প্রাসঙ্গিকতায় যুক্ত হয়েছে নানা মাত্রা, নানা তাৎপর্য। বিজয়ের মাসে কী ভাবছেন বর্তমান তরুণ-তরুণীরা?

এ বিষয়ে কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ-তরুণীর ভাবনা জানাচ্ছেন মামুন সোহাগ-

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মো. শাহ্ নেওয়াজ বলেন, ডিসেম্বর হচ্ছে অহংকার, স্বাধীনতার পর থেকে এই পর্যন্ত দেশের নানা অর্জন থাকলেও ১৯৭১ সালে যে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই দেশের মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল, আজ বিজয়ের ৪৯ বছর পরও সেই উদ্দেশ্য সম্পূর্ণভাবে পূরণ হয়নি। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্নীতিসহ নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এখনো দেখতে পাইনি, অর্জন করতে পারেনি স্বাধীনতার মূল উদ্দেশ্য। আমাদের বিজয় সেদিনই সফল হবে, যেদিন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কাজে লাগিয়ে সকল ধরনের প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে এগিয়ে যাবে দেশ। সেদিন থাকবে না কোনো দুর্নীতি, থাকবে না কোনো অনাহারী, থাকবে না মৌলিক অধিকারে কোনো বাধা, থাকবে না অশিক্ষিত মানুষ। পৃথিবীর মানচিত্রে লাল-সবুজের বাংলাদেশ হবে নবজাগরণে উদ্দীপ্ত বাংলাদেশ।

রাজধানীর তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থী নাজিয়া বিনতে বলেন, এ বছর আমরা পুরো পৃথিবী করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করছি। যার ফলে সেই পরিসরে বিজয় দিবস কিংবা বিজয়ের মাস পালিত হবে না। বাংলাদেশের ইতিহাসে লড়াই কিংবা চ্যালেঞ্জের অভাব নেই, এবারও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বিশাল বড় একটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি আমরা। তবে আমরা তরুণ সমাজ এই সময়ে বিজয় দিবস উপলক্ষে নানা উদ্যোগ নিতে পারি, যাতে বিজয়ের মাসের গুরুত্ব যে কোনো অবস্থানে পালন করে পুরো পৃথিবীর সামনে তুলে ধরতে পারি। ১৯৭১ সালে তরুণ সমাজ যুদ্ধে যেভাবে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে, আমরাও আবারও একইভাবে উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে পারব এই সময়েও।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মো. সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস এক সংগ্রামের ইতিহাস। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের অর্জিত বিজয় নিশ্চয়ই গৌরবের। ডিসেম্বর আসলেই বিজয়কেতন বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মনে নবরূপে উড়তে থাকে। মুক্তিযুদ্ধের মূল দর্শন ছিল অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও অর্থনৈতিক সাম্যের দেশ গড়া। যখন দেশকে অস্থিতিশীল করতে অসাম্প্রদায়িক শক্তির শক্ত অবস্থান এবং দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে মানুষের অসহায়ত্ব দেখি, তখন নিশ্চয়ই স্বাধীন বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে কষ্ট পেতে হয়। বিজয়ের প্রায় অর্ধশত বছর পরও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন আমাদের জন্য সুখকর নয়। কষ্টার্জিত এই বিজয় আমাদের অস্তিত্ব, এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে আমাদের লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস। আর তাতে অনুপ্রেরণা হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।

এ দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বাংলা কলেজ শিক্ষার্থী তানিয়া মুক্তি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। ১৯৭১-এ ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে ছিনিয়ে আনা এই দেশ এই বিজয়। এই বিজয় অর্জন করা বিজয়। তরুণদের ভূমিকা যেখানে ছিল অবর্ণনীয়। বিজয় মানে শুধু একটি পতাকা বা পাওয়া একটি ভূ-খণ্ডই নয়। সময় এখন সেই অর্জিত ভূ-খণ্ডকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। বিজয় মানে হলো এমন একটি দেশ, যেখানে থাকবে না কোনো বৈষম্য এবং থাকবে মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা। স্বাধীনতার ৫০ বছরে রয়েছে নানা অসামঞ্জস্যতা, অক্ষমতা। সেই সাথে রয়েছে অনেক প্রাপ্তি অনেক শক্তি আর অনেক অর্জন। এখন সময় তাই সকল অক্ষমতাকে জয় করে দেশ ও দেশের মানুষকে সামনে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রেরণা তৈরির।

তরুণ সাংবাদিক ও লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ শিক্ষার্থী জুনাইদ আল হাবিব বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার তরুণদের চেতনার সঙ্গে আজকের তরুণদের একটা মিল খুঁজে পাওয়া যায়। আজকের তরুণরা হয়তো মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পারেনি, কিন্তু প্রতিনিয়ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে এই তরুণরা লালন করছে। সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছে তারা। আজকে কোথাও যদি রাষ্ট্রবিরোধী কোনো শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তখন সর্বপ্রথম এই তরুণেরাই প্রতিরোধ গড়ে তোলে। নিজেরা বিভিন্নভাবে এ দেশের সম্মান ছড়াচ্ছে বিদেশের মাটিতে। সাদাত, রাশেদদের গল্প আমরা কম-বেশি সবাই জানি। তবে এটা অস্বীকার করা যাবে না যে, দেশের একটা বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী আজও হতাশায় দিন পার করছে। বিজয়ের এ মাসে একজন তরুণ হিসেবে প্রত্যাশা করি, দেশটা যেন বেকারত্বের গ্লানি থেকে মুক্তি পায়।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী তিতলি দাস বলেন, দেশের অগ্রযাত্রায় তরুণদের ভূমিকা বরাবরই ব্যাপক প্রাধান্য পেয়েছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে, নিপীড়িতকে বিচার পাইয়ে দিতে, এমনকি নিজেদের অধিকারকে বাস্তবায়নে তরুণরা সর্বদাই হয়ে উঠেছে বজ্রকণ্ঠী। প্রিয় স্বাধীনতা আমাদের দিয়েছে আত্মসম্মান বোধ সম্পন্ন জাতি হিসেবে বেঁচে থাকার দুর্লভ সুযোগ। যা যে কোনো জাতির জন্যই বহু কাঙ্ক্ষিত, বহু মূল্যবান। বিজয়ের এই মাসে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে তরুণ সমাজের হাত ধরে তাদের শক্ত সামর্থ্যবান কাঁধে দেশের উন্নয়নের ভার প্রদান করা এবং দেশের সকল নাগরিকের উচিত দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার মন্ত্রে বলিয়ান হওয়া।

আরও পড়ুন : ‘চিরকুট লিখে আত্মহত্যা বন্ধ হওয়া জরুরি’

অন্যদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ আহমেদ বলেন, পাকিস্তান সরকারের পরাধীনতার অবসান ঘটিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর দোরগোড়ায় বাংলাদেশ। দুঃখিনী মায়ের কোল ছেড়ে স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে আনতে ঘর ছাড়া হয়েছিল হাজারো তরুণ। তাদের রক্তে রঞ্জিত আমাদের লাল সবুজের পতাকা। স্বাধীনতা মানে শুধু একটি রাষ্ট্র বা একটি সরকার ব্যবস্থা নয় বরং দেশকে পৃথিবীর বুকে সমৃদ্ধির সুবর্ণ শিখরে আরোহণ করা। যেখানে তরুণদের ভূমিকা ও কৃতিত্ব অনস্বীকার্য। সজীব ও তরুণ মস্তিষ্কের লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজন শুধু সুন্দর প্ল্যাটফর্ম ও সুস্থ মস্তিষ্কের বসবাসযোগ্য সমাজচিন্তা। নতুবা ইন্টারনেটের অপব্যবহার এবং ফেসবুক ও মোবাইল আসক্তিতে বিলীন হয়ে যাবে তারুণ্যশক্তি, মেধাশূন্য হয়ে পড়বে সমাজ ও সভ্যতা।

এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার বলেন, এবারের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ তার স্বাধীনতার ৪৯তম বছর অতিক্রম করতে চলেছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বর্তমান তরুণ সমাজের নানাবিধ চিন্তা রয়েছে। তবে একজন তরুণ সমাজের প্রতিনিধি হয়ে আমার মনে হচ্ছে আমরা আজ কেবল নিজেকে নিয়ে, নিজের উন্নতি, নিজের ক্যারিয়ার- এসবের ভাবনাতেই মগ্ন। আমাদের অধিকাংশের চিন্তা আজ যেন সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি আমাদের জন্য কোনো এক যুদ্ধ অপেক্ষা কম নয়। কিন্তু আজকের এই যুদ্ধ জয়ের জন্য যেই মনোবল, যেই উদ্দীপনা, যেই সচেতনতা আমাদের দরকার, আমার মনে হয় আমাদের অধিকাংশেরই তা নেই। চাইলেই বর্তমান তরুণ সমাজ নিজেদের শক্তিশালী প্লাটফর্ম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দ্বারা আজকের এই কঠিন পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে সকলকে সচেতন করতে পারে, চাইলেই নিজেদের চিন্তা-ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ঘরে বসে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য নানাবিধ উন্নয়ন কাজ করতে পারে। স্বাধীন দেশের উত্তরসূরি হয়ে আমরা যাতে আমাদের পূর্বসূরিদের আত্মত্যাগ ভুলে না যাই এবং তা উজ্জ্বলভাবে যাতে পরের প্রজন্মে স্থানান্তরিত করতে পারি সেই প্রত্যাশায় রইল। সর্বোপরি যদি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নিজেদের গড়ে তুলতে পারি তবে আমরা বদলে দিতে পারি আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ প্রতিচ্ছবি।

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড