• মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

‘ডায়েরি’-এর ৯ম পর্ব

ধারাবাহিক উপন্যাস : ডায়েরি

  তাবাস্সুম মুন

১৬ জুলাই ২০১৯, ১৫:৩০
উপন্যাস
উপন্যাস ছবি : আপসারা ওরিন (নিশা)

ছেলেটা ভয়ে দৌড় দেয়। আর চাঁদ হা হয়ে দাড়িয়ে আছে। কি বললেন উনি। কেনো বললেন এই কথা।

আকাশ সবার সামনে থেকে চাঁদকে নিয়ে আসে। আকাশের রাগ তার চোখেমুখে ফুটে আছে। চাঁদ এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে। লোকটা এমন কেন কেনো বললো ওই কথাটা। আচ্ছা না জেনে আরেকজনকে বউ বানাইয়া ফেললো, আচ্ছা আমার তো কেউ থাকতেও পারে তাইনা। চাঁদ এর তাকানো দেখে আকাশ বলে, কি হলো এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো? 

চাঁদ বলে, ‘আসলে, আপনি ছেলেগুলোর সাথে এমন না করলেও পারতেন। আর আপনি এগুলো কি বললেন। কেনো বললেন। আপনি তো আমার বস।’

এই মেয়ে আমি তো তোমার বস তাইনা। তাহলে বস এখন তোমাকে আদেশ করছে চুপ থাকার জন্য। আর হুম, তুমি কোথাও পড়তে যাবে না। বাসায় আমি টিচার রেখে দিয়েছি।

- আল্লাহ কখন রাখলেন?

- এতো প্রশ্ন কেনো করো আমি বুঝিনা। আমি না তোমার বস, বসের উপর আবার কথা বলা চুপ করে বসো।

চাঁদ চুপচাপ বসে আছে। এভাবে কিছুদিন চলে যায়। চাঁদ আজও আকাশের বউ বলাটা ভুলতে পারছেনা। আকাশের বাসায় চাঁদ এর জন্য টিচার রাখা হয়েছে তাও আবার মেয়ে টিচার। চাঁদকে যখন মেয়েগুলো পড়ায় আকাশকে দেখলে মেয়েগুলো তার দিকেই তাকিয়ে থাকে তখন চাঁদ এর কোথা থেকে যে রাগ আসে যা পড়ার উপর ছাড়ে। রাগ উঠলেই রাত জেগে পড়ে যাতে কারো কথা মাথায় না আসে।

আকাশও খুব মজা পায়, চাঁদ যে আকাশের ভয়ে কিছু বলতেও পারেনা সইতেও পারেনা তা সে ভালো করেই বুঝে।

এদিকে চাঁদদের মহল্লায় এবার চাঁদ আর আকাশকে নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। চাঁদ এবয়সে একটা লোকের সাথে ঘুরে বেড়ায় যা কেউ মেনে নিতে পারেনা। এমনি তাদের ছেলেমেয়েও কিছু বললে চাঁদ এর উদাহরণ দেয় এই বলে যে, চাঁদ আপু তো দিব্বি প্রেম করতে পারে একটা ছেলের সাথে ঘুরতে পারে আমরা করলেই দোষ। কমিটিতে এ নিয়ে মিটিং ও বসেছে। সবাই চাঁদ আর আকাশকে নিয়ে খারাপ কিছু ভাবছে কিন্তু আকাশ যে চাঁদদের এতো উপকার করেছে কারো চোখে যাচ্ছে না।আজ সবাই মিলে ঠিক করেছে চাঁদ এর মায়ের কাছে যাবে।যেই বলা সেই কাজ। এখন কমিটির প্রায় সবাই চাঁদদের বাসায়। সবাই রীতিমতো অবাক আবার কিছুটা হলোও হিংসে করছে, কারণ চাঁদদের ঘরটা আগের থেকে অনেক ভালো দেখাচ্ছে। নতুন অনেক জিনিসই আকাশ কিনে দিয়েছে।

সুমন হলো কমিটির সভাপতি সে বলা শুরু করে, দেখুন ভাবি আপনাদের দেখে তো ভালোই মনে হচ্ছে। ঘরটারও ঠিকঠাক করেছেন দেখি। তা মেয়েকে দিয়ে তো ভালোই উপরে উঠছেন।

চাঁদ এর মা জ্যোৎস্না বেগম শাড়ির আচল দিয়ে ঘাম মুছে বলে, ভাই আপনারা তো সবই জানেন এ বিপদের দিনে চাঁদ একটা চাকরি পেয়েছে তাই আল্লাহর রহমতে ভালো আছি।

সুমন বলে, তা আপনার মেয়ে কি চাকরি পেয়েছে শুনি।

জোৎস্না বেগম বলেন, ও বললো একটা বড়ো কোম্পানির পি.এ এর চাকরি পেয়েছে। আপনারা হয়তো দেখেছেন ওর বসকে ছেলেটা অনেক ভালো। মেয়েটার খেয়াল রাখে অনেক এখন তো ওর বাবাও ভালো আছে।ওর মাথার ছায়া হয়ে আছে আকাশ।

শুনুন ভাবি আমরা তো যতটুকু জানি আপনার মেয়ে ওই ছেলেটার বাসায় যায় প্রতিদিন। এইটা কি ধরনের চাকরি।একটা মেয়ে সারাদিন একটা ছেলের বাসায় থাকে। 

চাঁদ এর মা সব জানেন কারণ চাঁদ বলেছে, আকাশের বাসার সবার দেখাশুনার কাজই করতে হয় তাকে তাইতো এই কাজটাকে আকাশ নিজেই পি.এ এর কাজ বলেছে। কারণ পার্সোনাল এসিস্ট্যান্ট এর কাজই বসের সব কাজের দেখাশুনা করা আর চাঁদ তো ওখানে ভালোই আছে খারাপ তো নেই। চাঁদ যখন আকাশের বাসায় চাকরিটা পায় তখনি তার মাকে বলে দেয় কারণ মেয়েটা বেশিদিন পেটে কিছু রাখতে পারেনা। চাঁদ এর মা সুমন সাহেবের কথার জবাবে বলেন, দেখুন ভাই ওর জবটাই এমন। আমি ওর মা হয়ে তো কোনো খারাপ কিছু দেখছিনা। আমার মেয়ে যথেষ্ট ভালো মেয়ে।

সুমন সাহেব এবার বলেন, জি তা তো দেখতেই পাচ্ছি বড়লোক ছেলে ধরে এখন আমাদের ছেলেমেয়েদের খারাপ বানাচ্ছে। ওর দেখাদেখি মহল্লায় ছেলেমেয়ে গুলো কারো কথা শুনছে না। তা আপনার মেয়ের কি তার সাথে কোনো সমর্পক আছে। এতো ডলাডলি ভালো না। আপনার মেয়কে সাবধান করে দিবে না কাজ করুক ঠিক আছে আমাদের গলিতে এমন মেলামেশা আমরা মানবো না।

চাঁদ এর মা রেগে বলেন, আমার মেয়ে কোনো খারাপ কাজ করতেছে না যে আপনারা কিছু বলবেন ওর নামে।

কমিটির সবাই হেসে বলে, এইটা খারাপ কিছু না। আপনার মেয়ে অবাধে বিয়ের আগে মেলামেশা করতেছে। হা হা হা। মেয়েও যেমন মাও তেমন।

মুখ সামলিয়ে কথা বলবেন। আমরা আপনাদেরটা কখনো খেয়েছি বা খাচ্ছি। আমার মেয়ে সম্পর্কে আর একটাও খারাপ কথা বলবেন না। বেরিয়ে যান। আপনাদের আসল রূপতো আমার স্বামীর অসুস্থ হওয়ার পর দেখেছি। আপনাদের ছেলেমেয়েদের সামলান তারা আমার মেয়েকে কম জ্বালাইছে যা আমি ভুলে যাবো। আপনাদের কমিটির বুড়ো জামালও তো কম কিসে সে কি কম করেছে। আমার এইটুকু মেয়েকে কম তো জ্বালায়নাই। আর আসছেন আমার মেয়েকেই বলতে। চলে যান এখান থেকে। আকাশ আর চাঁদ সম্পর্কে কিছু বলতে যাতে আর কোনোদিন না দেখি।

আনিস, সুমন একসাথে বলে উঠে, আপনাদের এই এলাকা ছাড়া করবো দেখে নিবেন। তারপর আপনাদের দুই মা-মেয়ের সাহস কিভাবে কমাতে হয় জানা আছে। আপনার ওই বেশ্যা মেয়েকে সামলিয়ে রাখবেন নয়তো খবর আছে।

সাহস কি করে হয় আমার মেয়েকে এতো খারাপ কথা বলার। আমি এখানে ভাড়া দিয়েই থাকি। জোৎস্না বেগম রান্নাঘর থেকে বটিটা হাতে নিয়ে তেড়ে আসে আর বলে,ওই বেশ্যার পোলারা এইদিকে আয় দেখ এই মা কি করতে পারে কখনো যদি দেখছি আমার ঘরের সামনে।

সবাই তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যায় চাঁদ এর মায়ের রাগ দেখে।

তিয়ান আর অরুনিমা খুব ভয় পায়। লোকগুলোকে তাদের মোটেও পছন্দ হয়নি। তাদের বোনের নামে এতো বাজে কথা তারা মানতে পারবেনা। আকাশ ভাইয়াকে জানাতেই হবে।

রাতে আকাশ চাঁদকে দিয়ে গেলে চাঁদ ভিতরে ঢুকার সাথে সাথে তিয়ান আর অরু তাকে আজকের সব ঘটনা বলে। তারপর মায়ের রুমে গিয়ে দেখে মায়ের চোখে পানি। চাঁদ মাকে জড়িয়ে ধরে বলে, মাগো কি শুনেছি এইসব। মা আমাকে মাফ করে দেও আমি আর বসের গাড়িতে করে আসবো না মাগো কথা বলো।

জোৎস্না বেগম চাঁদকে জড়িয়ে ধরে বলে, মারে আমি কি তোকে কখনো খারাপ বলেছি। এ এলাকায় হাজারে কি কোটিতে আমার মেয়ের মতো কেউ নেই। যে যাই বলুক আমার মেয়ে আমার কাছে সব। তোকে যদি আজ একটা বিয়ে দিতে পারতাম তবে আমি একটু নিশ্চিত হতাম। সবাই কেমন করে তোকে নিয়ে। আমি জানি আমার মেয়ে কোনো রাজকুমারীর থেকে কম না তাই তো কমিটির প্রায় সবাই তাদের ঘরের বউ করতে চায় তোকে তারা জানে আমি তোকে দিবোনা তাই এমন করে। কিন্তুরে মা তোর বয়স হচ্ছে তোর বাবাও কখন চলে যায় আমারও শরীর ভালোনা আমার একটা কথা রাখবি মা?

বলো মা তোমার কোনো কথা আমি ফেলবো না। তোমরা-ইতো আমার সব। আজ আমার জন্য তোমাকে খারাপ কথা শুনতে হয়েছে। দরকার হলে চাকরিটা আমি ছেড়ে দিবো। তুমি শুধু বলো কি করতে হবে।

- তাহলে বল রাখবি। প্রমিস কর?

- প্রমিস মা।

তোর দারওয়ান আঙ্কেল একটা ছেলের কথা বলেছেন সেই ছেলের নাম আরিফ সে নাকি তোকে দেখে পছন্দ করেছে। দারওয়ান আমাদের সমস্যার কথা বলায় সে বলেছে আমাদের দায়িত্ব নিবে। ছেলেটা নাকি অনেক ভালো। না করিস না মা। এরকম চাকরি আর কতদিন করবি সবাই ভালো চোখে দেখেনা আমি আকাশকে খারাপ বলছিনা কিন্তু একটা মেয়ে এভাবে চললে সবার চোখে লাগে। বল মা রাখবি।

চাঁদ একথা, শুনার সাথে সাথে চুপ হয়ে যায়। মনে হচ্ছে তার বুকে কেউ ছুরি দিয়ে আঘাত করেছে। ক্ষত-বিক্ষত হতে যাচ্ছে তার বুকের বা পাশটা। কি এক অজানা মায়া তাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে। সাথে সাথে আকাশের কথা মনে পড়ে যায়। হুম মায়াটা তো আর কেউ না আকাশই। তাকে ছাড়া অন্য কাউকে কিভাবে।

কিরে মা চুপ করে আছিস কেন। দেখ আকাশতো আমাদের কেউনা কতদিন আর করবে আমাদের জন্য এখন আরিফ ছেলেটা ভালো তোর সাথে আমরাও ভালো থাকবো আমাদের জন্য তোর চিন্তা করা তখন আর লাগবেনা। বল মা হ্যাঁ বল। আমি তোর নামে আর খারাপ কথা শুনতে চাইনারে। তুই বললে ছেলে তো মা বাবা নেই দাদি আছে সে দেখতে আসবে। না করিসনা মা আমি জানি তোর কোনো পছন্দ নাই। বল আছে নাকি বল মা।

চাঁদ কি বলবে এখন সে তো আকাশকে পছন্দ করে তাতো সে জানে আকাশ যে করে কিনা তা তো জানেনা। কিন্তু এতো বড়লোক আমার সাথে যায় না তার চেয়ে আমার পরিবারের যেখানে ভালো তাই হবে। চাঁদ বলে, না মা আমার কোনো পছন্দ নেই তুমি তাদের আসতে বলো।

জ্যোৎস্না বেগম তো মহা খুশি। চাঁদ মায়ের রুম থেকে সোজা নিজের রুমে চলে যায়। ফ্রেশ না হয়েই খাটে শুয়ে পড়ে। আজ তার খুব কষ্ট হচ্ছে। মাথাটা প্রচণ্ড ব্যথা করছে এমন ব্যথা তো আগে বেশি করেনি তখন ঔষধ খেয়ে ঠিক করেছে আজ কেনো এতো করছে তার। বুকেও ব্যথা করছে। মাকে কিছু বলা যাবেনা শুধু শুধুই চিন্তা করবে। চাঁদ এমনি নিজের অসুখের কথা কাউকে জানতেও দেয়না বুঝতেও দেয়না। মা মাঝে মাঝে বলে মেয়েটার এতো ধৈর্য আল্লাহ কোথা থেকে দিয়েছেন তিন-চারদিন জ্বর হলেও জানা যাবেনা যে তার কিছু হয়েছে কিনা।চাঁদ কোনোরকমে মাথায় পানি দিয়ে একটা ব্যথার ঔষধ খেয়ে নেয়। চোখ বন্ধ করার সাথে সাথে আকাশের চেহারা ভেসে উঠে। এ কতদিন এই রাগি চেহারাটা মনে গেঁথে গেছে। কিভাবে যে ভুলবে তাকে। কেনো এমন হতে গেলো। এখন চাঁদ ঠিকই বুঝতে পেরেছে, তার বান্ধবীরা কেনো ব্রেকআপের পর কান্না করতো সত্যি ভালোবাসাটা বড়ই অদ্ভুত। একে তো দুরেও সরানো বড় মুশকিল। চাঁদ না পেরে নিশিকে ফোন দেয়।

- হ্যালো নিশি।

- কিরে আমার কলিজাটা কেমন আছেরে। কিরে তুই কাঁদছিস।

- নারে। তারপর চাঁদ সব খুলে বলে নিশিকে।

- তুই আকাশ ভাইয়াকে তোর মনের কথা বল।

- নারে উনি অনেক করেছে আমার জন্য আর কষ্ট দিতে চাইনা।

- এমন করিসনা দেখ। আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে দেখ আরিফ ছেলেটা কেমন তারপর আমাকে জানা ঠিক আছে। শুন আমি নাহলে কাল আসতেছি তোর বাসায়।তুই চিন্তা করিসনা আমি আছি বাবুটা। এখন একটু ঘুমা সব ঠিক হয়ে যাবা।

চাঁদ সারাত ঘুমোতে পারেনি শেষ রাতের দিকে মাথা ব্যথায় ঘুমিয়ে পড়ে। আর আশিক তার নীলপরির কথা ভেবে ভেবে ঘুমাচ্ছে সেতো জানেনা তার পরীটার এই অবস্থা। ঘুমের মাঝেও চাঁদ এর চেহারা মনে করে মুচকি হাসে।


সকালে চাঁদ ভোরে উঠে যায়। জ্যোৎস্না বেগম তো সেই সকাল থেকে রান্না করছেন হরেক রকমের পিঠার আয়োজন চলছে। পাশের ফ্লাটের সাবিনা আন্টিও আছে যে চাঁদকে খুব ভালোবাসে। সেতো সব নিজে নিজে করছে। চাঁদ সকালেই রোকসানাকে ফোন দিয়ে বলে, সে তার পরিবারকে নিয়ে ঘুরতে গেছে। কারণ যদি বলে সে অসুস্থ তাহলে আকাশ এসে পরবে সে চায়না এইসব কিছু হোক। আকাশ চাঁদ আসবেনা শুনে কেমন জানি অস্থির লাগছে। তার কেনো জানি মনে হচ্ছে চাঁদ এইখানেই আছে। তিয়ান আর অরুণিমা মোটেও খুশিনা তারা তাদের আকাশ ভাইয়া ছাড়া কাউকে চায়না। কিভাবে তার ভাইয়ার সাথে যোগাযোগ করবে সেই চিন্তায় আছে কারণ ভাইয়ার নাম্বার শুধু আপুর কাছেই আছে আর আপুর ফোন কিভাবে নেওয়া যায় প্ল্যান করছে।আকাশ ভাইয়াকে সবটা জানাতেই হবে। কারণ তারা ঠিকই বুঝে আকাশ ভাইয়া যে তার আদারের বোনকে ভালোবাসে। কি আজব তাইনা ভালোবাসার মানুষগুলো ছাড়া ছোট মানুষগুলোও বুঝতেছে এই টোনাটুনির ভালোবাসার খবর কিন্তু টোনাটুনির খবর নেই।

আরিফ দেখতে আকাশের থেকে কোনো অংশে কম না। তার বাবা মা কেউ নেই শুধু দাদি আর ছোট একটা ভাই ছাড়া। আরিফ চাঁদদের পাশের গলিতেই নিজেদের বাসায় থাকে অফিসে যাওয়ার সময় চাঁদকে দেখে পছন্দ করে ফেলে। তাই দারওয়ান থেকে সব জেনেছে।

আরিফ তার দাদিকে নিয়ে এসে পড়েছে।জ্যোৎস্না বেগম তাদের স্বাগতম জানায়। নাস্তার পর্ব শেষ হলে চাঁদকে আনা হয়। চাঁদ আজ লাল পড়েছে। সে কখনোই সাজেনা কিন্তু মায়ের জোরাজুরিতে আজ সেজেছে। তার এতো দিনের স্বপ্ন সে সাজবে শুধু তার ভালোবাসার মানুষের জন্য কিন্তু আজ অন্যজনের জন্য সাজতে হচ্ছে। আজ বাবা কথা বলতে পারলে সব বলতো সে মনের কথা কিন্তু বাবাটাও আজ বিছানায়। তার যে এখন পৃথিবীর সবচাইতে গরীব মানুষ মনে হচ্ছে নিজেকে।

চাঁদকে বসার ঘরে বসালে চাঁদ আরিফের দিকে তাকায়। সে খুব অবাক হয় এই লোকটা তাকে পছন্দ করে। যার সাথে চাঁদ এর আগেও একবার দেখা হয়েছিলো। এই সেই চেহারা যা ভুলার মতো না। সেদিনের জন্য কতো চেয়ে ছিলো এই লোকটাকে ধন্যবাদ জানাতে কিন্তু সে আজ নিজেই এসেছে।

(চলবে...)

‘ডায়েরি’-এর ৮ম পর্ব- ধারাবাহিক উপন্যাস : ডায়েরি

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড