• রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কবি আল মাহমুদের সাথে কথোপকথন

  আমির সোহেল

১১ জুলাই ২০১৯, ১০:০০
কবিতা
ছবি : সোনালী কাবিনের কবি আল মাহমুদ

আল মাহমুদ। বাঙলা সাহিত্যের এক অনবদ্য নাম। ইচ্ছে ছিল তাঁর কবি হওয়ার, তাই হয়েছেন। মাত্র ষোল বছর বয়সে রাষ্ট্রভাষা বাংলার জন্য রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের লিফলেটে লেখার কারণে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় ঘর ছেড়েছিলেন, সেই অর্থে তারপর আর ঘরে ফেরা হয়নি তাঁর। ঘুরেছেন নানা পথে প্রান্তরে। শিখেছেন ও জেনেছেন অনেক কিছু। জাতীয় সংবাদপত্রগুলোতে লেখালেখির সূত্র ধরে ১৯৫৪ সালে তিনি ঢাকায় আসেন। তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘লোক লোকান্তর’ (১৯৬৩) প্রকাশের মাধ্যমে তিনি স্বনামধন্য কবিদের সারিতে মর্যদার সাথে অবস্থান করে নেন। কবিতা ছাড়াও তিনি কথাসাহিত্যে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। কাব্য ছাড়াও গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধে তাঁর মেধার প্রমাণ দিয়েছেন। গ্রামীণ জীবন, নদী ও নারী তাঁর লেখনির মাঝে সুনিপুণভাবে উঠে এসেছে। আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিতাস নদীর আবহাওয়ায় বেড়ে উঠেছেন তিনি। কবির সর্বাধিক আলোচিত কাব্যগ্রন্থ সোনালী কাবিন (১৯৬৬)। ১৯৮৬ সালে কবিতায় রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদক পান। এছাড়াও অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন। আল মাহমুদ একসাথে ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর চল্লিশের ওপর গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। বার্ধক্যেও চেতনায় ও মননে তিনি ছিলেন তারুণ্যে ঝিলমিল। ২০১৩ সালে জুলাইয়ের এগার তারিখ পাখির কবি ফুলের কবির ৭৮তম জন্মদিনে রাত ৯টার দিকে রাজধানী মগবাজারের বাসায় একান্তে কুড়ি মিনিট কথপোকথন করি। সেই কথপোকথনের মূল অংশ উপস্থাপন করছি।

কবিকে কেমন আছেন জিজ্ঞাসা করতেই তাঁর যৌবনে ভরপুর কণ্ঠে বলেন, আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। বললাম, আপনি কবি হতে চেয়েছেন কবি হয়েছেন, আপনি কি পরিতৃপ্ত? তিনি বলেন, আমি সংগ্রাম করেছি। ঢাকায় এসে নিজের অবস্থান তৈরি করেছি। কবিতা লিখেছি। কবি হিসেবে সবার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছি। এর চেয়ে কবি হিসেবে আর কি চাইতে পারি।

বললাম, শুনলাম আপনি মহাকাব্য লিখছেন, এখন কোন অবস্থায় আছে তা... বললেন, কিছুদূর এগিয়েছে লেখা। আমি এখন অন্ধ মানুষ। কিছু দেখি না। চাইলে আগের মতো সব পারি না। তবে আশাবাদী, ভালো কিছু হবে।

িআমিরছবি : কথাসাহিত্যিক আমির সোহেল এবং কবি আল মাহমুদ

জানতে চেয়েছিলাম, সৈয়দ নাদিরা মাহমুদ, যিনি ৫৫ বছরের সঙ্গি থেকে না ফেরার দেশে চলে গেলেন; কেমন অনুভব করেন তাঁকে? প্রশ্নটা শুনে তিনি আবেগ তাড়িত হয়ে পড়লেন, বললেন- তাকে তো ভুলতে পারি না। সে সব সময় ছায়ার মতো থেকে মায়া দিয়েছে। অনেক করেছে...

তাঁর মনের অবস্থা বুঝতে পেরে দ্রুত অন্য প্রসঙ্গ অবতারণা করলাম। বললাম, লেখক বা কবিকে লেখার জন্য পড়তে হয়, তো এই সময়ে আপনি কি পড়ছেন? বললেন, সুন্দর বলছ। লিখতে হলে পড়তে হবে, আমি এখন এডলফ হিটলারের একটি বই পড়ছি।

বললাম, আচ্ছা আপনার দৃষ্টিতে বর্তমানে কেমন কবি সাহিত্যিক উঠে আসছে, যাদের মহাকাল স্মরণ করবে? বললেন, উঠে আসছে অনেকে। অনেক তরুণ লেখকের লেখা পড়ি। আমি আশাবাদী। তবে বাকিটা মহাকালই বলে দেবে।

বললাম, যারা লেখালেখিতে আসছে, সেই তরুণ লেখকদের জন্য আপনার পরামর্শ কি? বললেন, তরুণরা উঠে আসুক। বাঙলা সাহিত্য আরও সমৃদ্ধ হোক এটাই চাই। তাই তরুণ যারা লেখালেখিতে আসছে তাদের প্রচুর পড়তে হবে। পড়ার বিকল্প নেই। সামনে যা পাবে তাই পড়তে হবে। দেশ বিদেশের সকল বই বেশি বেশি পড়তে হবে। তবেই মননের পরিপূর্ণতা আসবে। এছাড়া প্রকৃতির সান্নিধ্যেও যেতে হবে।

উল্লেখ্য, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড