• বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

নিঃশব্দ আহামদের পাঁচটি কবিতা

  নিঃশব্দ আহামদ

১৩ জুন ২০১৯, ১১:০৯
কবিতা
ছবি : প্রতীকী

তৃষ্ণার কাছে জল


সন্ধ্যার কোনো আকাশে ঝুলে আছে এই পরোয়ানা, যেখানে থেমে গেছে নিঃশ্বাস-আমি আর এগোতে পারিনা , ক্লান্ত পা -কে যেনো রেখে গেছে আমায়-এই নীরবতায় তুমি ঠিক লুকিয়েছিলে কি কান্না, নাকি আমার নামে   প্রার্থিত হাত-

সন্ধ্যার বাসে,তুমি নিয়ে যেতে পারো আমায়,এই যে কান্না ভেজা চোখ,সুনসান বদ্ধ ঘর
যেখানে আমার আস্তিনে কাঁটা দিয়ে উঠছে কফিন পেরেক,যেনো এতোটুকু সময় পর,জটলা হয়ে গেলো
অকস্মাৎ কোনো মৃত্যু-

অনেক পরে একটা দীর্ঘ সময় শেষে,ছবি জীবনের গল্প
কৃতিত্ব মুখস্থ করে কোনো সিনেমা ঘর-
অতঃপর ঘুমের ভেতর ছুটে গেলো কোনো অদূরের পথ,
চোখপাশে হাত রেখে যে স্মরণে আসে আমার এই মুখ
যেনো আমি ফিরে আসি,এভাবে সমস্তকাল, নদীরূপী চোখ -

ঠিক কখনো এমনো সন্ধ্যা এলে,অথবা মৃত্যুর মতো রাত,আমার-ডেকে দিও একবার,তৃষ্ণার কাছে তুমি যে আমার শেষ জল। এঁকে সব অন্তিম ক্ষণ৷প্রিয়তমা আমার।

 

যেসব সকাল আক্ষেপভারি


কপাট খোলার কড়া নেড়ে নেড়ে আড়ষ্ট আমি বসে থাকি, তালাবদ্ধ সব ঘরে রেখে গেছে ঘুম-আমি শুধু আওড়ায় ,আয় ঘুম, গভীর কোনো ঘুম-সাগ্রহে কোনো ঘরে খুলে গেলে কপাট, আঁকড়ে থাকি চৌকাঠ-

মানুষের চোখে অপেক্ষা খুঁজে,কেঁদেছি ,অনেক অনেক কান্নার ভেতর মনে হতো যেনো মরে যাচ্ছি,তবু এতোটুকু অপেক্ষা,আমাকে ছুঁয়ে গেলে-সব ঘরে আলোর উল্লাস দ্যাখি, যেনো নেভানো হয়নি কোনো বাতি এতটা রাত,
বেঁচে আছি রোজদিন, এতটা অপেক্ষার ভেতর৷

ঠিক যদি কোনো সন্ধ্যায়, পেয়ে বসে ভয়-
আমি আর নানাবিধ ভাবনার ভেতর কাঁদছি না, না কোনো ঘর ফেরা-আকস্মিক ঝড় কবলের মতো বুকের ভেতর গোঙানি রেখে লুটে যাচ্ছে দেহ, অতলে -নিমজ্জিত অন্ধকারে আমার অনন্ত ফ্যাকাসে চোখ৷

আর কোনো অপেক্ষা নেই, দীর্ঘ ঘুমের ভেতর খবরদারি রেখে স্থির এইসব রাত-সকালের কোনো মাঠে হাঁটবে না আর নিঃশব্দের কোনো ত্রস্ত পা।

 

যে সব জপমালায় ফুরিয়েছে পথ


প্রিয়, যে সাধনায় নামবে না কোনো অশ্রু কিংবা এতোটুকু বিষাদ রেখাপাত অধরে তোমার,আমি তার ই জপমালায় বেঁধেছি আমার আকুল সমস্ত স্বর-অন্তঃস্থ যে সব ভাষা নির্বাক আওড়ে গেছি হাঁটতে হাঁটতে, নীরব সন্ধ্যায়, যখন মেঘও বৃষ্টির আনাগোনার মতো কান্নাভারি সমস্ত আকাশ, হয়তো আমি এই জলোচ্ছ্বাস চোখে রেখে গেছি নির্মল একটা রাত৷যেখানে উল্লসিত কটিদেশে তোমার গান হয়ে ফিরে স্বস্তি সম্ভার।

প্রিয়, আমার এই একখানা জীবন,যেখানে চোখজোড়ায় ঘোরগ্রস্ত মৃত্যু এঁকে একাকার, আমিও আমার অন্তর্লোক, অথচ আমি অতি সাধারণ এবং তোমার অধর ছুঁয়ে যে হাসির বিদ্যুৎ ছড়িয়ে যায় কোনো আনন্দ দেহময়, তারই স্পর্শের কাছে খুঁজে এতোটুকু ঘ্রাণ; মুহূর্তেই যেনো রচিত হয়ে গেছে এই সত্য, এখানে ই আমার থাকার ছিলো অনন্তকাল।

প্রিয়, এই যে ভোর রাতে কুয়াশা জলে ধুয়ে গেলে তমিস্রার চাদর, কি এক শুচিতা নিয়ে আসে অদুর থেকে উষ্ণ হাওয়া, জেগে গেলে আমার ঘুমতৃষ্ণার চোখ-
কেমন কেঁপে উঠে, অবিশ্রান্ত আমার আর নেই যেনো এতোটুকু আর ধৈর্য, হাতে হাতে জড়ালে, আমাদের বুক দেশে যেনো যেনো জমে যেতো পারতো বিলম্বিত সকাল।

 

রাতদেশে ঘুম মৃত্যু


কেমন রক্তবর্ণ চোখ, বসে যাওয়া কোটর, এই যে দৃশ্যের কাঁচ-বিদ্রূপ করে ফিরে-ঠিক কি যেনো হয়েছিলো প্রশ্নে অথবা দুঃখ করে ফেরে কোনো অদৃশ্য মুখ-কি এমন পরিতাপে এমন হয়-ক্ষুৎপিপাসাতেও দেখিনা এমনো রূপ।

আসলে আমি না সমস্ত রাত বুকে করেছি বিচরণ বিন্যস্ত অন্ধকারে,আলো থেকে ছায়ার শেকড়ে-কেমন বাইরমুখো এক জোড়া চোখে ফুটে আনন্দ,আমি থমকে থমকে তবু খুঁজে গেছি আলো,ক্লান্তি ভারে ন্যুব্জ যখন নিথর শরীর।

আর আমি দ্যাখেছি, প্রেমিকার চোখে কেবল বিভ্রম হয়ে ফিরছে এই যে সমূহ প্রেম, কিংবা খুব বেশি বাঁকা এ পথ, নয় তো দিন সব কেমন কালো আচ্ছাদনে ঢেকে দিয়ে যায় যাবার কাল, ছুঁয়ে যাবার কাল।

আমি চাতুর্যটায় বেড়ে উঠছি রোজ, কারও চোখের কাছে সেঁটে আছে আমার অভিনয় মুখ আর এই যে আমি এই রাত শরীরে সন্ধান করে করে অনন্ত রূপ, তুলে নেবো মৃত্যু, যখন তোমার চোখে সেজেছে অন্য আলোক নগর৷

এই আলো, বাতাস, মৃত্তিকা বুক-উল্লসিত রবে পাঠিয়েছে আহবান, রাতদেশে-কোনো কোনো ইচ্ছামৃত্যুর আগে যেমন মৃত্যু ঘটে চোখের, পা আর ছুঁয়ে যাবেনা সে পথ-রাত্রির আগেই হয়ে গেছে সকালের মৃত্যু৷

তবু নিঃশব্দ এ আকুলতায় রোজদিন নিভৃতাচার যে চোখের জলে ভিজে প্রেমিকা তোমার বুক, সেখানেই এঁকে গেছি আমার বারংবার মৃত্য শোক।

 

নির্জীব শরীর এক


কারণে অকারণে প্রকম্পিত আমার ভেতর, একটা ভয়ের মতো আকস্মিকতা এঁকে নিঃসাড় চারিপাশ;চিৎকার হয়ে ফিরছে কোথাও পাখিডানার মতো ঝাপটিয়ে উড়াল আকাশ, গোপন কোনো স্রোতের মতো তলিয়ে যেতে থাকে মৃত্যুমুখী বয়েস।

প্রতিটি নিঃস্বরতার ভেতর কাঁপা ওষ্ঠাধরে জিইয়ে থাকে
মৎস্য চোখ, প্রয়াত কোনো উল্লাসের মতো সমুদ্রচারী প্রকটতা এক সাঁতরে ফিরছে ঢেউডাকা সৈকত৷
 
একা হতে থাকি, আরও আরও একা
কোলাহল পাশে শুধু ভয়-
এই সন্ধ্যা, এই যে ঘর-মূর্ছনা তূলে পরস্পর৷

ভুলেছি যতো পথ, এখানে ই ছিলো দিগন্তজোড়া ঘাস
জীর্ণ ছায়াপাশ রেখে হারিয়ে গেছে আমার সব দিন
অতঃপর এখানেই নক্ষত্র তলে গুমোট রাত
বরফ প্রপাত তলে শুয়ে থাকে নির্জীব শরীর এক।

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড