• রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৫ আশ্বিন ১৪২৭  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

গ্রন্থমেলা কথন

শেষ সপ্তাহে অমর একুশে গ্রন্থমেলা

  জোবায়ের মিলন

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:১৪
ছবি
গ্রন্থমেলার চতুর্দিকে পাঠক, লেখক, প্রকাশক, ভ্রমণ পিপাসুদের ভিড় (ছবি : দৈনিক অধিকার)

একদিন একদিন করে তৃতীয় সপ্তাহ পেরিয়ে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ শেষ সপ্তাহে পড়েছে। শেষ সময়ে চতুর্দিক থেকে মেলায় আসছে পাঠক, লেখক, প্রকাশক, ভ্রমণ পিপাসু, দর্শনার্থীরা। স্টলের পর স্টল সেজে বসেছে বই প্রকাশকেরা। তাতে পাঠকের, লেখকের, উৎসুক আগ্রহীদের অভাব নেই।

গতকাল একুশে ফেব্রুয়ারি থাকায় গেইট খোলার সাথে সাথে লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। মেলার বৃহৎ পরিসর ভরে ওঠেছে লেখক-পাঠকে। বাংলা একাডেমি উঠান থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পর্যন্ত জমজমাট গ্রন্থমেলা। যদিও এই বছর বাংলা একাডেমি অঙ্গন থেকে উদ্যানে সম্প্রসারণ করা হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। মেলার অনিষ্ট হলো বলে বলে কথার খই ফোটে। অগ্নি-আগুন কথা ঝরে। এখন সর্বাঙ্গে মেলা সম্প্রসারিত স্থানে। অনিষ্টের বদলে মেলা চলছে নিজস্ব ঢংয়ে। সেই সাথে লিটলম্যাগও বহেড়াতলা ছেড়া মূলধারার সাথে একাত্ম। বিস্তৃত মাঠে অমর একুশে গ্রন্থমেলা অর্থাৎ বইমেলা এখন বিশাল। তারপরও মেলায় লোক ধরে না।

এত লোক কোথা থেকে আসে! বইয়ের প্রতি এত লোকের টান! এত লোক বইয়ের সাথে যে কোনো ভাবেই আছে; ভাবতে অবাক লাগছে, কিন্তু আছে। চোখে দেখছি। সন্ধ্যার পরে গায়ে গায়ে গা লেগে চলছে পাঠকেরা, লেখকেরা, প্রকাশকেরা; প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো বইপ্রেমিকেরা; উৎসুকেরা। দেখা যায় ভিন্ন ভাষার বিদেশিদেরও। হন হন করে ছুটছে। হাতে বইয়ের ব্যাগ। মেলার মুখ দেখে বুঝার উপায় নেই এ গ্রন্থমেলা। মনে হয় উৎসব। এও সত্য, একুশে বইমেলা এখন আর শুধু লেখক বা পাঠক বা প্রকাশকের মধ্যে বৃত্তাবদ্ধ নেই। ছড়িয়ে পড়েছে সর্বসাধারণের মধ্যে।

সব ধরনের লোক এখানে আসে। সব পেশার, সব নেশার লোকও আসে। ঘুরে ঘুরে এসব লোকদের দেখি। দেখে দেখে পড়ি। শিশুরাও আসে মেলায়। গত কয়েক বছর থেকে শিশুদের জন্য নেওয়া হয়েছে আলাদা করে ভিন্ন রকম উদ্যোগ। অন্যদিন বিকাল ৩টা থেকে মেলার দুয়ার খুললেও শুক্র ও শনিবার শিশুদের জন্য অনন্য আয়োজন শিশু প্রহর-এর দরজা খোলে সকাল ১১টায়। চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত। এখানে থাকে শিশুদের বই, খেলার নানান ব্যবস্থাও। শিশু আর অভিভাবকদের কলতানে কলকল রব বয় মেলা অঙ্গনে। এ এক ঐশ্বরিক সৌন্দর্য। ফুলের কলির মতো ছোট ছোট শিশুদের কত রকম যে ওড়া-ওড়ি, ঘোরা-ঘুরি, দৌড়ো-দৌড়ি, আবদার, বায়না, মান, অভিমান, খিলখিল হাসাহাসি এক কোণে দাঁড়িয়ে এসব দেখি, ওদের দেখি।

রোজ রোজ শত নতুন বই প্রবেশ করে মেলার স্টলে স্টলে। মেলার একদিকে সে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অন্যদিকে ‘লেখক বলছি’ মঞ্চে লেখকে লেখকে কথা। আরেক দিকে মোড়ক উন্মোচন। অন্য দিকে জমা পড়া বইয়ের নাম ঘোষণা। কোণা কোণায় চলে আড্ডা। গরম গরম টুকটাক খাবারও পাওয়া যায় পূর্বদক্ষিণ কোণে। পশ্চিম দিকে। আছে বাংলা একাডেমির তথ্য কেন্দ্র। স্বল্প হলেও আছে নিরাপত্তাকর্মী। হেল্পডেক্স। কত মানুষের আনাগোনা বইমেলা জুড়ে। বড় বড় প্রকাশনীগুলো হিমশিম খেয়ে উঠছে ক্রেতা সামলাতে। ক্লান্ত বদন হলেও, তাদের ঠোঁটে খুশির হাসি। ছোট ছোট প্রকাশনীগুলো ধীরে-স্বস্তিতে বিক্রি করছে। চলছে সবকিছু মোটামুটি। প্রথম দিন থেকে বই বিক্রিলব্ধ অর্থের আয়ের সূচক ঊর্ধ্বমুখী। তা বাড়ছে ধীরে ধীরে। প্রতিদিনই মেলায় আসছে সদ্য পুষ্ট বই। পুরনো লেখকের সাথে নতুন লেখকের হচ্ছে সংযোগ। নতুনদের বইও চলছে মোটামোটি। কখনো কখনো লেখক কিনছে লেখকের বই, কখনো কখনো কনিষ্ঠ লেখক জ্যেষ্ঠ লেখকের হাতে নিজের বই উপহার করে দিয়ে করছে করমর্দন। চলতে চলতে অচেনা বন্ধু দেখা পাচ্ছে বন্ধুর, সংযোগহীন স্বজনের সাথেও দেখা হয়ে যাচ্ছে স্বজনের। সব মিলে একুশে বইমেলায় বইয়ের মহোৎসব। উৎসব জমেছে, জমে উঠবে আরও।

‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ এ যেন বাঙ্গালি সাহিত্যানুরাগের প্রাণ পেরিয়ে প্রাণান্তরের মিলন মেলা। ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ যেন সর্বস্থরের মানুষের আনন্দের মেলা। এ বড়ই আনন্দের। চলতি সময়ে সৃজনশীলতার বইয়ের ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ সাধারণের মধ্যে প্রবেশের যে শ্রম, যে পরিশ্রম তা প্রশংসার দাবি রাখে নিঃসংকোচে। একইভাবে ভয়েরও সংশয় কম নয়। মহৎ উদ্দেশ্যের যে কোনো কিছুই যখন হাতের মুঠো থেকে পুরো হাতে ছড়িয়ে পড়ে, বিস্তার লাভ করে, গণমানুষের কাছে চলে যায় তখন অনেক সময় শুভ দিকের সাথে সাথে আরও অনেক কিছুর সাথে নিয়ন্ত্রণের দিকটি হয়ে যায় কঠিন।

আরও পড়ুন : গ্রন্থমেলায় তাজবীর সজীবের দুটি গ্রন্থ ‘গণমাধ্যমের গন্তব্য’ এবং ‘অধিকার’

সে দিকটি হেলায় অবহেলা করা সমীচীন নয়। যারা কর্তা-কর্মে আছেন তারা দেখবেন, ভাববেন। চিন্তা করবেন। পরিকল্পনা সাজাবেন। সাফল্যের হাসির সাথে অসাফল্যের খুঁটিনাটিগুলোর নোট নেবেন- অধিক সাফল্যের জন্য। ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ দিনকে-দিন জাহির হোক, ছড়িয়ে পড়ুক, দেশ থেকে দেশে। তবে তা অবশ্যই আয়তন আর বিক্রিলব্ধ অর্থের হিসাবে নয়; মান ও গুণাগুণের বিশদ বিচারে। আমার প্রাণের মেলা, আমার সৃজনশীল বইয়ের মেলা, আমার ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ একুশের রঙ ধারণ করে বেঁচে থাকুক মানুষের মনে, প্রাণে।

ওডি/এসএন

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড