• মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ফেল্ট কুইন থেকে টিপের কারিগর সুমাইয়া সায়েদ

১০ এপ্রিল ২০১৯, ১৫:০০
আরটোপলিস
সুমাইয়া সায়েদের হাতে বানানো আরটোপলিসের কিছু পণ্য 

গল্পটা একজন 'ফেল্ট কুইন’-এর। তিনি ফেল্ট দিয়ে কীভাবে কীভাবে যেন গল্প সাজিয়ে ফেলেন। কখনও বানান ফেল্টবুক, কখনও বা ফিঙ্গার পাপেট, আবার কখনও বা বাচ্চাদের মাথার ক্লিপ। এ ছাড়াও সবচেয়ে মজার বিষয় তার ফেল্টের গল্প সেজে ওঠে নারীদের কপালে। কপালের টিপ থেকে শুরু করে গলার মালা সব জায়গাতেই তিনি ফেল্টের ব্যবহারকে দিয়েছেন একটি ভিন্ন মাত্রা। তিনি কাজ করেন তার মনের খেয়ালে। নিজের কাজের স্বকীয়তাকে তিনি এমনভাবে বেঁধে রেখেছেন যে যারা তাকে চেনেন এবং জানেন তারা অন্য কোথাও তার কাজ এক নজর দেখলেই চিনে ফেলতে পারেন। বলছিলাম অনলাইনে কাজকে অন্য মাত্রায় তুলে ধরা 'আরটোপলিস' পেইজের কর্ণধার সুমাইয়া সায়েদের কথা। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশোনা শেষ করে চাকরিজীবনে না ঢুকে সুমাইয়া হয়েছিলেন শখের ক্রাফটার। তার এই শখটাই আজ তার ব্যবসা। অনলাইনে একজন ব্যবসায়ী তিনি। 

সুমাইয়া জানিয়েছেন কীভাবে আরটোপলিসের যাত্রা শুরু হলো, কীভাবেই বা অনলাইনে এত অল্প সময়ে পরিচিত হয়ে উঠলেন তিনি। আর নিজের কাজ নিয়ে জানা-অজানা অনেক তথ্য জানানোসহ উঠতি উদ্যোক্তাদের জন্য দিয়েছেন কিছু পরামর্শ। 

আরটোপলিসের শুরুর গল্পটা জানতে চাই।

আরটোপলিসের শুরুটা একটা গল্পের মত। অনেক ছোটবেলা থেকেই ক্রাফটিংয়ের ওপর একটা ঝোঁক ছিল। তখন আমি হ্যান্ডমেইড কিছু জিনিস বানাতাম। সে সময় অনলাইন কোনো কিছুতে নিজের কাজ প্রকাশ করার মতো উপায় ছিল না। কারণ তখন ফেসবুকের মত জনপ্রিয় কোনো মাধ্যম তৈরি হয়নি। সে ধারাটাই বজায় ছিল ছাত্রজীবনে থাকা অবস্থাতেও। সে সময় একজনের পরিচিত একটা দোকানে আমার হাতে বানানো কিছু জিনিস আমি দিতাম। তারা সেগুলো সেল করতেন বেশ ভালো মুনাফায়। কিন্তু আমি পেতাম নামমাত্র একটা মূল্য। সে সময় আমার ভাবনায় এলো আমার কাজগুলো কীভাবে সরাসরি সবার কাছে পৌঁছানো যায়। এই ভাবনাও খুব বেশি দূর এগোয়নি। এরপর আমি দেশের বাইরে চলে যাই। সেখানেও যে কিছু করেছি তাও নয়। কিন্তু এরই মধ্যে ঘুরে ফেলেছি বেশ অনেকগুলো দেশ। ধারণা পেয়েছি অনেককিছুর। দেশে যখন ফিরে আসি তখন আমার ছেলের বয়স দুই বছর আর মেয়ের বয়স তিন মাস। দেশে ফিরেও কখনো বাইরে গিয়ে চাকরি করব তেমনটা অনুভব করিনি। ২০১৬ সালে ছেলের জন্মদিনের সময় আমি নিজেই ওর বার্থডে ডেকোরেশনের কাজ করি। ডেকোরেশনের কাজের বেশিরভাগই ছিল ফেল্ট ফেব্রিক দিয়ে করা। সবারই আইডিয়াটা খুব ভালো লাগে। তখনই একজনের আইডিয়াতে সবার সাথে নিজের কাজ শেয়ার করতে শুরু করলাম আরটোপলিস।

আরটোপলিস

দুই সন্তানের সাথে ঘরোয়া মুহূর্তে সুমাইয়া সায়েদ 

দেশে এসে কাজ বুঝতে কোনো সমস্যা হয়নি? 

দেশে এসে কাজ শুরুতে প্রথমে আমাকে অনলাইন মার্কেটটা আগে বুঝতে হয়েছে। তার চাইতেও কঠিন ছিল মার্কেটটা গ্র্যাব করা। কারণ এখানে সরাসরি প্রোডাক্ট না দেখে অনলাইনে একজন সেলারকে বিশ্বাস করা কিছুটা কঠিন। তবে একবার সেই বিশ্বাস অর্জন করতে পারলে ব্যবসা নিয়ে আর বেশি ভাবতে হয় না। আমার বেলাতেও তাই হয়েছে। প্রথমে কিছুটা কঠিন মনে হলেও এখন এ নিয়ে আর সমস্যা হয় না তেমন। 

আরটোপলিসের শুরু হয়েছিল ফেল্টের কাজ নিয়ে। কেমন সাড়া পেয়েছিলেন তখন? 

শুরুতে যখন ফেল্ট নিয়ে কাজ শুরু করলাম তখন ভেবেছিলাম বাচ্চাদের ভালো লাগবে এমন জিনিসই বেশি বানাবো। এর মধ্যে ছিল ফিঙ্গার পাপেট, চুলের ক্লিপ, ফেল্টবুক। এক কথায় কিডস বেজড ক্রাফট স্টাফ সব। সবকিছু ঠিকঠাক মতো চললেও মনে হচ্ছিল এই ফিল্ডটা সবার জন্য না। আর সব মায়েরাও এই জিনিসগুলো সব সময় কিনেন না। তখন ভাবনায় পরিবর্তন আনলাম। নিজের পছন্দের কিছু ম্যাটেরিয়াল দিয়ে একটু ভিন্ন কিছু বানানোর চেষ্টা করলাম। যেগুলো সচরাচর হয় না। ফেল্ট ফেব্রিকের সাথে কাঠের বিডস দিয়ে একটা ফিউশন আনার চেষ্টা করলাম। ঠিক এটাই যেন সবাই খুঁজছিল। এই ধারাটাই সবার পছন্দ হয়ে গেলো। জুয়েলারি আর গয়না দুইয়ের মাঝেই আমি ফেল্ট ফেব্রিক ব্যবহার শুরু করলাম। সবাই তখন বুঝতে পারলো আমার কাজ অন্যদের থেকে কিছুটা হলেও আলাদা। প্রতিটা প্রোডাক্টেই কালার কম্বিনেশনের জন্য অনেক আর্টিস্টের কাছ থেকেও আমি প্রশংসা পেয়েছি। এটা আসলেই কাজের জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা দেয়। 

এ মুহূর্তে অনলাইনে টিপের কারিগরের নাম জানতে চাইলে সেখানে সুমাইয়া সায়েদের নাম চলেই আসে। চলে আসে আরটোপলিসের নাম। কিন্তু ফেল্ট কুইন থেকে টিপ কারিগর এই যাত্রাটা কীভাবে শুরু হল? 

টিপ নিয়ে আসলে টুকটাক কাজ করছিলাম আগে থেকেই। কিন্তু শুধু টিপ নিয়েই একটা মেলায় যাওয়া, অথবা কোনও একটা উৎসব উপলক্ষে টিপের স্টল নেওয়া এই সাহসী পদক্ষেপটা আসলে নিতে পেরেছি আমার গ্রাহকদের অপরিসীম ভালোবাসা আর বিশ্বাসের জন্য। শুরু থেকেই তারা পাশে ছিলেন, তারা আমার কাজকে পছন্দ করেছেন, সমর্থন করেছেন এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমার জন্য। এরপর বলব 'মেয়ে নেটওয়ার্ক'-এর কথা। যারা না থাকলে আসলেই হয়ত আমি এতদূর আসতে পারতাম না। এখানে 'মেয়ে নেটওয়ার্ক' নিয়ে একটু বলি। মেয়েদের বন্ধুত্ব, ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্বের বিকাশ নিয়ে বাংলাভাষী নারীদের নিয়ে মিলেমিশে গড়ে ওঠা একটি অলাভজনক, স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক হচ্ছে 'মেয়ে'। এই গ্রুপেরই অনন্য একটি উদ্যোগ দেশীয় উদ্যোক্তাদের নিয়ে 'রাঙতা' মেলা। গত বছরই আমি প্রথম রাঙতা মেলায় যাই। সে সময় টিপ নেওয়া হয়নি। এরপরের বার ঈদের সময় আমি রাঙতা মেলায় টিপ নিয়ে যাই কিছু। সেখানে খুব ভালো সাড়া পাই। পরেরবার টিপ নিয়ে বড় পরিসরে কাজ করি। আর এর পরের গল্প তো সবার জানা। টিপের গল্প ছড়িয়ে গেলো সবার মাঝে। আর এবারের রাঙতা মেলায় আমি শুধু টিপ নিয়েই গিয়েছিলাম। এবং বরাবরের মতই সাড়া পেয়েছি দারুণ। 

এরপর অবশ্যই যার নাম না নিলেই নয় সেটি হচ্ছে পটের বিবি আয়োজিত 'পাবন' মেলার। সেখানেও টিপ নিয়ে গিয়েছিলাম। সেই টিপও আমাকে সাহায্য করেছে বেশ ভালো কিছু গ্রাহক পেতে। 

আরটোপলিস

সুমাইয়া সায়েদের হাতে বানানো আরটোপলিসের কিছু পণ্য 

টিপ নিয়ে এমন কোনো স্মৃতি যা কাজের উৎসাহকে বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ।

আমার কাছে মনে হয় কাজ করার সময় অথবা কোনো গ্রাহক সেটা কী ভেবে নিলেন সেটা মনে করলেই প্রতিটা টিপেরই আলাদা একটা করে গল্প আর স্মৃতি জমা হয়ে যায়। এমনকি আমার ছোট্ট তরু (সুমাইয়ার চার বছরের কন্যা) যদি কপালে একটি টিপ পরে ঘুরে বেড়ায় সেটিও আমার জন্য একটা গল্প। টিপের এমন খুব দামি একটা গল্প আমার ঝুলিতে জমা আছে। আমরা যারা ক্রাফটার বাসায় বসে কাজ করি তাদের হয়ত অফিসে যেতে হচ্ছে না কিন্তু নিজের ঘরে বসেই সেই কাজের জন্য প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়। আর হাতের কাজ যতটুকু না হয় তার চাইতে বেশি করতে হয় ব্রেইন স্টরমিং। সেই সময় মাথা ঠান্ডা রাখা খুব জরুরি। আর মাথা ঠান্ডা রাখার জন্য খুব সহায়ক নিজেদের পছন্দের গান। আমার বেলাতেও ঠিক এই কথাটাই খাটে। বাংলাদেশের খুব জনপ্রিয় একজন সঙ্গীতশিল্পী (সঙ্গত কারণেই তার নাম বলছি না) যার গান আমরা সবাই নিয়মিত শুনি, আমার বন্ধু ফোয়ারার (অনলাইনের জনপ্রিয় পেইজ পটের বিবির কর্ণধার) মাধ্যমে সুযোগ হয়েছিল তাকে টিপ উপহার দেওয়ার। সেই টিপ আমি বানিয়েছিলাম আমার সমস্ত ভালোবাসা দিয়ে। তার সাথে দেখা করে যখন আমি তাকে এই টিপ দিলাম আর তিনি আমার প্রশংসা করলেন-শুধু তাই নয় তিনি খুব আগ্রহ নিয়ে আমার বানানো টিপ পরলেন তখনকার সেই স্মৃতি আসলে ভুলে যাওয়ার মতো নয়। এই ভালোবাসাই আমাকে সাহায্য করেছে কঠিন রাস্তাগুলো পার হতে। 

এই যে অনলাইনে ব্যবসা করছেন, কখনো মনে হয়নি এটা অনেক বেশি কষ্টের কাজ। এটা বাদ দিয়ে চাকরি করাটাই ভালো? 

নাহ। কখনোই এমনটা মনে হয়নি। বরং আমি সব সময়ই চেয়েছি উদ্যোক্তা হতে। মাঝে একটা সময় আমি একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছি। কিন্তু সেটাও বেশিদিন করিনি। আর এখন যেহেতু আমার দুটি ছোট সন্তান রয়েছে তাদেরকে রেখে বাইরে গিয়ে চাকরির কথা আমি ভাবতেও পারি না। আমার বাবা-মা এখনও চাকরি করছেন। আর এ শহরে এখনও তেমন কোনো ভালো ডে কেয়ার সেন্টার নেই যেখানে আমি নিশ্চিন্তে সন্তান রেখে সারাদিনের জন্য বাইরে যেতে পারি। কাজেই বাইরে গিয়ে চাকরির কথাও ভাবি না এখন। আর এটাই আসলে আমার চাকরি, আমার ব্যবসা, আমার স্বপ্ন সব। হয়ত ঘরে বসে রিলাক্সে কাজ করছি কিন্তু গ্রাহককে তার পছন্দমত জিনিসটা পৌঁছে দেয়ার চিন্তা তো থাকেই। এটা কোনও অংশেই অফিসের কাজ থেকে কম না। আমি আমার স্কিল অনুযায়ী কাজ করছি। সেই সূত্রে আমার বেতনটাও তেমন হওয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি। বাসায় বসে কাজ করি বলে এটাকে ছোট করে দেখার কোনও অবকাশ নেই। 

আরটোপলিসের প্রতিটা জিনিসই অন্যদের থেকে কিছুটা আলাদা। এটা কীভাবে সম্ভব হলো?

আরটোপলিস বরাবরই ভিন্ন কিছু করতে চেয়েছে। সেই চেষ্টা থেকেই আমি ম্যাটেরিয়ালসের ব্যাপারে বরাবরই সচেতন থেকেছি। যখন যেখানে যে ম্যাটেরিয়ালটা ভালো লেগেছে আমি নিয়ে এসেছি। সেটা দেশেই হোক অথবা বাইরে। আর প্রতিটা কাজ নিয়ে আমি শুরুতে হোমওয়ার্ক করি। আমার কাজগুলো যেন অনলাইনে অন্যের সাথে মিলে না যায় সে চেষ্টা থাকে আমার সবসময়। আসলে রিস্ক ছাড়া কোনও কিছু সম্ভব না এটা আমি বিশ্বাস করি। তাই ম্যাটেরিয়ালসের ব্যাপারেও যে কোনো রিস্ক নিতে আমি রাজি। তাই হয়ত আরটোপলিসের চিত্রটা অন্যদের থেকে কিছুটা আলাদা। এছাড়াও অনলাইনে কিছু ম্যাটারিয়াল বিক্রেতা আছেন যারা ভিন্ন রকম কিছু আনলে আমাকে সবার আগে জানান। এখানেও আমার স্বকীয়তা রয়ে যায়। 

আরটোপলিস

সুমাইয়া সায়েদের হাতে বানানো আরটোপলিসের ব্যাগ এবং ফেল্টবুক 

যদি উদ্যোক্তা সুমাইয়াকে না দেখে অন্য কোনও পেশায় সুমাইয়াকে দেখতাম তাহলে কোন পেশায় দেখার সম্ভাবনা ছিল?

আমার বাবা-মা দুজনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। আমার দাদাও শিক্ষক ছিলেন। এমনকি আমার জীবনসঙ্গী তিনি নিজেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবেই কর্মরত আছেন। এই পুরো শিক্ষক পরিবারের মাঝে বড় হওয়া, এখনও সেই আবহেই থাকা-সব মিলিয়ে মনে হয় সুমাইয়া যদি উদ্যোক্তা না হতো তাহলে হয়ত শিক্ষকতা পেশাকেই বেছে নিত। 

আরটোপলিসের তো সুযোগ আছে কয়েকজনকে কাজে নিয়োগ দিয়ে কাজের পরিসর বাড়ানোর। তাহলে সেটা কেনো করছেন না? 

আসলে সুযোগ থাকা মানেই যে সেটা করে ফেলা এমন নয়। এখানে বিশ্বাস অনেক বড় একটা জায়গা। খুব ভালো করে কাউকে না চিনে আমি তাকে আমার কাজের জন্য নিয়োগ দিতে পারব না। আমার বাচ্চারা এখনও অনেক ছোট। সেরকম পরিচিত না হলে অথবা আমি কাজ করে কমফোর্ট ফিল না করলে কখনই আমি অন্য কাউকে আমার সাথে কাজে নিয়োগ দেই না। আমার আসলে কাজের পরিসর এত দ্রুত অনেক বড় করার খুব একটা ইচ্ছে নেই। যতটুকুই করি তাতে যেন নিজস্বতার সাথে সাথে গুণগত মান বজায় থাকে সেটার দিকে লক্ষ্য রাখি। 

আরটোপলিস

সুমাইয়া সায়েদের হাতে বানানো আরটোপলিসের কিছু পণ্য 

নতুন ক্রাফটারদের জন্য কোনো সাজেশন যদি দেয়ার থাকে-

আমি নিজে যে অনেক বড় ব্যবসায়ী বিষয়টা এমন নয়। তবু যতটুকু এতদিনে জেনেছি, শিখেছি তার অভিজ্ঞতা থেকেই কিছু কথা বলি। ২০১৬ সালে যখন আরটোপলিসের যাত্রা শুরু হয় তখন আমি নিজেও জানতাম না আমার কাজ আমি কোথায় দেখাব, কাদের দেখাব। কারণ একটা কথা আমি জানতাম- অনলাইনে অনেকেই বন্ধু হবে না। মানুষ চিনে নেওয়া শিখতে হবে। নিজেদের কাজ কোথায়, কাদের কাছে গেলে গ্রহণযোগ্যতা পাবে সেটা জানতে হবে। 

আমি নিজে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে পারি। আর আমি জানি আমার লিমিটেশন কোথায়। প্রত্যেক ক্রাফটারকেই সেটা আগে জানতে হবে। আমার নিজের কাছে যে জিনিসটা ভালো লাগছে সেটা সবার কাছেই লাগবে এটা নয়। এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া শিখতে হবে। 

আর সবচেয়ে জরুরি নিজের শক্তির জায়গাটা সম্পর্কে জানা। ক্রাফটার যে কাজটা সবচেয়ে ভালো পারেন সেটা নিজের মধ্যে ধারণ করতে হবে। এছাড়াও চিনতে হবে সহ-উদ্যোক্তাদের। কে কেমন কাজ করছেন সে বিষয়ে জেনে রাখতে হবে। অন্যের সাথে নিজের কাজের ভিন্নতা বজায় রাখতে হবে। সকল কাজ দেখেশুনে করতে একজন ক্রাফটারের অন্তত দুই বছর সময় নেওয়া উচিত। 

সর্বশেষ এবং অনলাইন-ক্রাফটিং জগতে সবচেয়ে জরুরি বিষয় গ্রাহকের বিশ্বস্ততা অর্জন করতে হবে। এটা তার বানানো পণ্য দিয়েই হোক অথবা ব্যবহার দিয়েই হোক সবার আগে বিশ্বাসের জায়গাটা শক্ত করে নিতে হবে। 

আরটোপলিসের ভাবনাটা খুব ছোট একটা জায়গা থেকে শুরু হলেও অল্প সময়ে অনেক কিছু শিখেছেন সুমাইয়া। অনলাইনে ব্যবসার বিস্তৃতি, বিশ্বাসের ক্ষেত্র সব জায়গাকে এখন তিনি খুব সুন্দরভাবে গুছিয়ে তুলতে শিখে নিয়েছেন। তার এই যাত্রা অব্যাহত থাকুক। তিনি আরও অনেকদূর এগিয়ে যান। তার জন্য রইলো অনেক শুভকামনা। 

আরটোপলিস পেইজের লিংক: Artopolis

ওডি/এএন 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড