• বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

চাপের মুখে জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৫ অক্টোবর ২০২১, ১৭:০৬
চাপের মুখে জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন (ছবি : রয়টার্স)

গেল কয়েক সপ্তাহ যাবত একের পর এক দ্বিধা-দ্বন্দ্বে থাকার পর অবশেষে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৬ এ অংশগ্রহণের জন্য ঘোষণা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ঠেকাতে নতুন চুক্তির জন্য দর কষাকষি করতেই মূলত আগামী মাসে গ্লাসগোতে বসছেন বিশ্ব নেতারা। গত সেপ্টেম্বর মাসে আয়োজনটি বয়কটের ইঙ্গিত দিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কয়লা এবং গ্যাসের বড় উৎপাদক অস্ট্রেলিয়া। জলবায়ু ইস্যুতে জোরাল পদক্ষেপ গ্রহণের চাপে রয়েছে তারা। অর্গানাইজেশন ফর ইকোনোমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) হিসাব অনুযায়ী- অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ু নীতি এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিমাণ বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট।

শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন সাংবাদিকদের বলেছেন, গ্লাসগো সম্মেলনে আমার উপস্থিতি নিশ্চিত করছি, অংশ নিতে আগ্রহী হয়ে আছি। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন।

এর আগে সম্মেলনে উপস্থিতির প্রতিশ্রুতি না দেওয়ায় জলবায়ু কর্মীদের সমালোচনার মুখে পড়েন স্কট মরিসন। বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক বিরক্তিও প্রকাশ করে যুক্তরাজ্য। স্কট মরিসনের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন প্রিন্স চার্লস।

আরও পড়ুন : আফগান মসজিদে বোমা হামলায় নিহত ১৬ (ভিডিয়ো)

বিশ্লেষকদের মতে, স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শহরে আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে কপ-২৬ সম্মেলন। ২০১৫ সালের প্যারিস সম্মেলনের পর এটাই হতে যাচ্ছে সর্ববৃহৎ বড় জলবায়ু সম্মেলন।

সম্মেলনে নিজের অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে করোনা চ্যালেঞ্জের কথা বলেন স্কট মরিসন। তিনি বলেন, কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থাপনা নিয়ে এরই মধ্যে চাপে রয়েছেন তিনি। কিন্তু এখন কোয়ারেন্টিনের প্রয়োজনীয়তা অবসানের পরিকল্পনা সাজানো শুরু করেছে ক্যানবেরা।

বিশ্বের বহু রাষ্ট্র ২০৫০ সাল নাগাদ কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। ২০০৫ সালে দেশটি ২০৩০ সাল নাগাদ ২৬ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। যদিও এটি খুবই কম বলে বারংবার সমালোচিত হয়ে আসছে।

আরও পড়ুন : সিডনিতে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন প্রত্যাহার

বিশেষজ্ঞরা বলছেন- অস্ট্রেলিয়ার ২০৩০ সাল নাগাদ ৪৭ শতাংশ কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রয়োজন, যদি তারা জাতিসংঘের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখতে চায়।

কয়লা চালিত বিদ্যুতের ওপর ব্যাপক নির্ভরতার কারণে মাথাপিছু হিসেবে বিশ্বের অন্যতম বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশ অস্ট্রেলিয়া। দেশটির রক্ষণশীল সরকার গত কয়েক মাস ধরেই জলবায়ু নীতি পরিবর্তনে দেশি-বিদেশি চাপের মুখে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে- আগামী সপ্তাহে তারা আরও বেশি কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দেবে।

আরও পড়ুন : ইয়েমেনে সৌদির বিমান হামলায় নিহত ১৩৪

শুক্রবার স্কট মরিসন বলেন, সম্মেলনে অংশগ্রহণ ইস্যুতে নিজের অবস্থান চূড়ান্ত করে ফেলবে সরকার। আমরা এসব ইস্যু নিয়ে এরই মধ্যে কাজ করে যাচ্ছি। অস্ট্রেলিয়ার বহু প্রান্তিক এলাকা কয়লা, গ্যাস এবং কৃষি কাজের ওপর নির্ভর করে।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড