• বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ৬ কার্তিক ১৪২৮  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

উত্তপ্ত প্রেসিডেন্ট প্যালেস

‘বারাদারকে ঘুষি মেরেছিলেন হাক্কানি’

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:৪৫
‘বারাদারকে ঘুষি মেরেছিলেন হাক্কানি’
আফগানিস্তানের নতুন সরকারের উপ প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আবদুল গানি বারাদার ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রভাবশালী নেতা খলিল উর-রহমান হাক্কানি (ছবি : আল-জাজিরা)

যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্র আফগানিস্তানের নতুন সরকারের উপ প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আবদুল গানি বারাদারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছিলেন হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রভাবশালী নেতা খলিল উর-রহমান হাক্কানি। দেশটির প্রেসিডেন্ট প্যালেসে চলতি মাসের শুরুতে ঘটা কোন্দলে এমন অভিযোগ উঠেছে। খলিল হাক্কানি নতুন তালেবান সরকারের শরণার্থী বিষয়ক মন্ত্রী।

সম্প্রতি ভারতীয় মিডিয়া বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সরকার গঠন ইস্যুতে আলোচনার সময় বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে তালেবান নন এমন নেতা ও সংখ্যালঘু নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিসহ ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ একটি মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য চেষ্টা করেছিলেন বারাদার। আলোচনার এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্কের নেতা খলিলুর রহমান হাক্কানি তার চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে তালেবান নেতা বারাদারকে ‘ঘুষি’ মারেন।

এ সময় তাদের অন্য সমর্থকরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সে ঘটনায় কয়েকজন প্রাণ হারান এবং কিছু লোক আহত হন। এতে বারাদার আহত না হলেও তিনি তাৎক্ষণিক রাজধানী ছেড়ে কান্দাহারে চলে যান। পরবর্তীকালে তিনি নিহত হয়েছেন বলে খবরও ছড়িয়ে পড়ে। যদিও সম্প্রতি তিনি এক ভিডিয়ো বার্তায় ভালো আছেন বলে বিশ্ববাসীকে জানিয়েছেন।

আফগান ভূখণ্ডে তালেবান সরকারের ‘মধ্যপন্থি’ নেতা হবেন মোল্লা আবদুল গানি বারাদার, এমন প্রত্যাশা ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের। যদিও সরকার গঠন ইস্যুতে কাবুলের প্রেসিডেন্ট প্যালেসে নাটকীয় গোলাগুলির ঘটনার পর হাক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে বারাদারের ক্ষমতার লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে আখুন্দকে তালেবান সরকারের প্রধানমন্ত্রী করার বিষয়টিকে একটি সমঝোতার বিষয় বলে জানা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২০ সালে তালেবান নেতা বারাদারই সর্বপ্রথম যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছিলেন। এর আগে তালেবান নেতাদের পক্ষ থেকে কাতারের শান্তি চুক্তিতেও স্বাক্ষর করেন তিনি। এছাড়া ১৫ আগস্ট তালেবান বাহিনীর কাবুল দখলের সময় রক্তপাতহীন লড়াই, আফগান দোভাষীসহ সবাইকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণাসহ বেশ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন : অর্ধেক ভোট পেয়েই নির্বাচনে পুতিনের দলের জয়

২০১৬ সালে হাক্কানি নেটওয়ার্ক তালেবান বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়। ৭ সেপ্টেম্বর তালেবানের নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার যে তালিকা প্রকাশ করা হয় এতে তাদের বাইরে কেউ নেই। আর যারা আছেন, তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশই পশতুন নৃগোষ্ঠীর। হাক্কানি পরিবারের সদস্যরা চারটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। এমনকি এফবিআইয়ের তালিকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সিরাজ উদ্দিন হাক্কানি হয়েছেন তালেবান সরকারের ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তালেবানের বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, দ্বন্দ্বের অন্যতম কারণ হলো- সরকারের কাঠামো নিয়ে বারাদার অসন্তুষ্ট। এছাড়া তালেবান বাহিনী আবারও ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার পেছনে কার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি, সেটা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

বারাদারের সমর্থকরা মনে করেন, তার মতো ব্যক্তিরা; যারা সে সময় কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছিলেন, তাদের কারণেই তালেবানের ‘জয়’ হয়েছে। অপর দিকে হাক্কানি নেটওয়ার্কের সদস্যদের দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াইয়ের মাধ্যমে তালেবানের জয় নিশ্চিত হয়েছে।

আরও পড়ুন : আফগান নারীদের ঘরে থাকার নির্দেশ

উল্লেখ্য, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল গত ১৫ আগস্ট তালেবান দখলে নেওয়ার তিন সপ্তাহ পর সম্প্রতি নতুন সরকার ঘোষণা করে কট্টর ইসলামিক সংগঠন তালেবান। দায়িত্বপ্রাপ্তরা এখনো শপথগ্রহণ না করলেও তারা এরই মধ্যে কাজে নেমে পড়েছেন।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড