• সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন

ফেসবুক কি সব হতাশার কারণ?

  সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি

২৭ জুলাই ২০১৯, ১৫:১০
ফেসবুক
ছবি : প্রতীকী

বর্তমানে আমরা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। আর এই মাধ্যমগুলোর ভেতরে যেটি আমাদের সবচাইতে বেশি প্রভাবিত করছে, সেটি হলো ফেসবুক। আড্ডা, পত্রিকা পড়া, কোনো ব্যাপারে মতামত প্রদান, কেনাকাটা করা- যেকোনো ক্ষেত্রে নেতিবাচক বা ইতিবাচক কার্যক্রমে আমরা ফেসবুককেই বেছে নিচ্ছি। যেন, সেটাই সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। 

কিন্তু আসলেই কি তাই? আপাতদৃষ্টিতে যে ফেসবুককে আমরা অসম্ভব ইতিবাচক কিছু বলে ভাবছি, সেটা আসলেই কি এমন? নাকি, আমাদের প্রতিদিনের বেড়ে ওঠা হতাশার পেছনে বড় ভূমিকা আছে এই মাধ্যমটির? চলুন, জেনে নেওয়া যাক!

সম্প্রতি একটি পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, ফেসবুকে যারা সক্রিয় না হয়েও উপস্থিত থাকেন, অর্থাৎ, কোনো কিছু পোস্ট না করে শুধু প্রতিটি জিনিস দেখে যান, তাদের মধ্যে হতাশার পরিমাণ অন্যদের চাইতে বেশি থাকে। সাধারণত, ফেসবুকে মানুষ তাদের সেরা সময়গুলোর ছবিই দেওয়ার চেষ্টা করেন। ভালো কিছুর কথা শেয়ার করেন। আর এতে করে সবার জীবনই নিজের থেকে বেশি ভালো মনে হয় ব্যবহারকারীদের। একটা পরোক্ষ তুলনা চলেই আসে। মনে হয়, সবাই ভালো আছেন। শুধু ব্যবহারকারী ব্যক্তিটিই ভালো নেই নিজের জীবনে। আর এই অনুভূতিই কষ্টের জন্ম দেয়। মানুষ হতাশ হয়ে পড়ে নিজের জীবন নিয়ে। 

‘বিহেভিয়ার এন্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় মোট দুটো প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয় এবং দুটো পরীক্ষা করা হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের হতাশাকে প্রভাবিত করে কিনা তা দেখার জন্য। 

প্রথম পরীক্ষায় দুটো গ্রুপে ভাগ করা হয় অংশগ্রহনকারীদের। ফেসবুক বা ওয়েবসাইটে নিজেদের দেখা প্রথম পাঁচটি পোস্ট দেখে কী মনে হয়েছে সেটা সাথে সাথে লিখে ফেলতে বলা হয় তাদের। মোট পাঁচ মিনিট এই কাজটি করেন তারা। 

এবার আসে দ্বিতীয় পরীক্ষার পালা। এখানে আরেকটি অংশগ্রহণকারী দলকে নিয়ে আসা হয়। এদের কাউকে ফেসবুক দেখতে দেওয়া হয়নি তক্ষুণি আগের দুইটি দলের মতো। এরপর এই তিনটি দলকেই বলা হয় আত্মবিশ্বাস সংক্রান্ত একটি প্রশ্নপত্রের সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দিতে। এতে করে দেখা যায় যে, যা অংশগ্রহণকারীরা ফেসবুক দেখে তারপর প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। 

অন্য দিকে তৃতীয় দলের মধ্যে এ সংক্রান্ত কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। যেহেতু আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ার সাথে হতাশার একটা বড় সম্পর্ক রয়েছে, তাই দুটো ব্যাপারকে একসাথে পাশাপাশি রেখে দেখলে সহজেই বোঝা যায় যে, ফেসবুকে আছেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে হতাশার পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। 

গবেষকেরা অবশ্য এই পর্যন্ত এসেই থেমে যাননি। তারা ৮০০ জন ভিন্ন ভিন্ন মানুষকে এই প্রশ্নপত্রের উত্তর দিতে বলেছেন। তাদের গবেষণার সাথে অন্যদের গবেষণাকেও মিলিয়ে দেখেছেন। অন্য গবেষকদের এ ব্যাপারে ভিন্ন মতামত থাকতেই পারে। পুরো ব্যাপারটি খতিয়ে দেখেছেন তারা। আর এই সবটার মাধ্যমেই তারা বুঝতে পেরেছেন যে, ফেসবুক ও হতাশার মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। আর এই সম্পর্কটা বেশ শক্ত। 

অবশ্য, আপনি যখন দেখবেন যে অন্য মানুষগুলো ছুটি কাটাচ্ছে, ঘুরছে বা দামি পোশাক পরছে, খুব ভালো কোনো খাবার খাচ্ছে- তখন আপনার ব্যাপারটি নিয়ে খারাপ না লাগলেও মনে মনে একটা তুলনা চলেই আসে। আপনি কত খারাপ আছেন সেটা মনে হয়েই যায়। অন্য পাশের মানুষটাও হয়তো অনেক বেশি ভালো নেই। তবে সেটা নিয়ে ভাবার অবকাশ পাবেন না আপনি।

এ দিক দিয়ে দেখতে গেলে, খুব জোরালোভাবে ফেসবুককেই মানুষের হতাশার একমাত্র কারণ বলা যায় না। তবে, আপনার হতাশার পেছনে যদি কোনো কারণ থেকে থাকে তাহলে সেগুলোর মধ্যে ফেসবুক অন্যতম একটি কারণ হিসেবে কাজ করবে, এটাও সত্যি। 

তাই, ফেসবুক নয়, বাস্তব জীবনে নিজে কতটা ভালো আছেন সেটা ভাবতে মনযোগী হোন। এতে করে শারীরিক ও মানসিক- দুইভাবেই সুস্থ থাকবেন আপনি।

সূত্র- রেডিফ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড