• বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

যেভাবে আত্মঅহংকারের কারণে মুহূর্তেই পতন ঘটেছিল ব্যাবিলনের

  ফিচার ডেস্ক ২২ মে ২০১৯, ১৫:২২

ব্যাবিলন
প্রাচীন ব্যাবিলন শহর; (ছবি- ইন্টারনেট)

প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ নগরী ছিল ব্যাবিলন। ১৭৭০ থেকে ৩২০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের সময় এটিই ছিল বিশ্বের সবচে বড় শহর। ব্যাবিলনকে ২ লাখেরও বেশি জনসংখ্যার প্রথম নগরী বলেও মনে করা হয়।

খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতকের কথা, ব্যাবিলন নগরীটি তখন সুরক্ষিত ছিল বিশাল আকৃতির এক প্রাচীরের আড়ালে। এই পুরো নগরী বেষ্টন করে ছিল ২ স্তরের প্রাচীর। এমনটা করা ছিল যেন প্রথম প্রাচীরের পতন ঘটলেও দ্বিতীয়টির মাধ্যমে শত্রুকে ঠাকানো যায়। গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাসের মতে এ দেয়ালগুলো ছিল ৩০০ ফুট উঁচু, ৮০ ফুট চওড়া ও ৫৫ মাইল জুড়ে বিস্তৃত। 

যদিও বর্তমানখানের ঐতিহাসিকদের মতে হেরোডোটাস এই মাপ বাড়িয়ে বলেছিল। তারা মনে করে- ব্যাবলনের প্রাচীরগুলো ছিল ৯০ ফুট উঁচু ও ১০ মাইল লম্বা। এ দুই দেয়ালের মাঝে ছিল পরিখা। যার ফলে শহরের ভেতর শত্রুপক্ষের প্রবেশ করা রীতিমতো অসম্ভব ছিল। 

প্রাচীন এ নগরীতে ছিল অসংখ্য ওয়াচ টাওয়ার। যেগুলোতে সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারার ব্যবস্থা থাকত। এছাড়াও শহরটির মাঝ দিয়ে প্রবাহিত ছিল ইউফ্রেটিস নদী। ফলে অবরুদ্ধ থাকাবস্থায় পানির সরবরাহ নিয়েও তাদের কোনো ভাবনা ছিল না। 

৫৩৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দের কথা। পারস্যের রাজা ২য় সাইরাস, যিনি ‘সাইরাস দ্য গ্রেট’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন, হুট করেই আক্রমণ করে বসেন ব্যাবিলনে। সাইরাসের এই আক্রমণকে অবশ্য পাত্তাই দেননি ব্যাবিলনের সৈন্যরা। তারা তখন ব্যস্ত ছিল ফসল কাটার উৎসবে। 

নিজেদের শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এতটাই আত্মতুষ্টিতে ছিলেন ব্যাবিলনের সৈন্যরা যে তাদের কাছে সাইরাস ছিল এক শিশু। কিন্তু চারদিকে প্রাচীর ঘেরা শহরের ভেতর বহমান ইউফ্রেটিস নদীর প্রবেশপথে গেট নির্মাণ করে রাখলেও এ দিকে বাড়তি আর কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাখেনি তারা। 

সৈন্যদের কেউ কখনো কল্পনাও করেনি যে পানির নিচে কেউ সেই গেট ভেঙে তাদের শহরে আক্রমণ চালাবে। পানির নিচে এত দীর্ঘ সময় কেউ দম আটকে রাখতে পারবে— এমনটাও মনে করেননি তারা। আর ঠিক সে জায়গা দিয়েই আক্রমণ করলেন সাইরাস। নদীর আশপাশে বিভিন্ন খাল ও অন্যান্য জলাশয় খনন করে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ব্যবস্থা করলেন তিনি। ফলে নদীতে পানির স্তর নিচে নেমে যায়। 

পানি কমার পরই দেখা মেলে গেটগুলোর। এরপর এক রাতে গোপন সৈন্যরা সেখানকার ফাঁকা জায়গা দিয়ে শহরে প্রবেশ করে মূল ফটকটি খুলে দেয়। ব্যস! মৌমাছির ঝাঁকের মতো দলে দলে সৈন্য ঢুকে পড়ে শহরে। 

পুরো ব্যাপারটি বুঝতে বেশ কিছুক্ষণ সময় লেগেছিল ব্যাবিলনের সৈন্যদের। ততক্ষণে আর কিছুই করার ছিল না। দিনরাত নাচগান ও মদের রাজ্যে ডুবে থাকায় সেভাবে প্রতিরোধও গড়তে পারেনি তারা। ফলাফলস্বরূপ, সাইরাস দ্য গ্রেটের সৈন্যদলের কাছে সে দিনই হেরে যায় তারা।

ওডি/এনএম
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড