• রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২০, ১ ভাদ্র ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

হাতির গায়ে শীতের জামা, মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত!

  সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি

১২ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:২৭
হাতি
ছবি : সম্পাদিত

শীত প্রায় চলেই এলো বলে। বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশে এই শীতে অবশ্য শুধু মানুষ নয়, ভোগান্তিতে পড়ছে নানাবিধ পশু-পাখিও। কিন্তু মানুষের কথা ছেড়ে বাকি প্রাণীদের দিকে আমাদের নজর দেওয়ার সময় কই? বিশেষ করে সেটা যদি হয় বিশালাকায় হাতি, তাহলে তো কথাই নেই। ‘ওরা নিজেরাই শীতে সামলে নেবে’ এমনটাই ভাবছেন তো? মাথুরার ‘ওয়াইল্ডলাইফ এসওএস এলিফেন্ট কনজারভেশন এন্ড কেয়ার সেন্টার’এর পার্শ্ববর্তী গ্রামের মানুষগুলো কিন্তু একেবারেই এমন ভাবছেন না।

শীতে তারা গরম কাপড় পরবেন, আর হাতিরা ঠান্ডায় জমবে? উঁহু, একদম না। তাই, নিজেরাই হাতিদের জন্য বিশাল বিশাল জামা বানাচ্ছেন তারা। পরিয়ে দিচ্ছেন হাতিদের। রাতের বেলা এই গ্রামগুলোতে বর্তমানে শীত প্রচণ্ড বেড়ে যাচ্ছে। প্রায় শূন্যের কাছাকাছি চলে যাচ্ছে। আর সেজন্যেই শীতের হাত থেকে হাতিদের বাঁচাতে উলের গরম জামা আর পায়জামা বানিয়ে হাতিদের পরিয়ে দিয়েছেন তারা।

উপরোল্লিখিত সেন্টারের শুরুটা হয়েছিল অবশ্য অবহেলিত হাতিদের জন্য। কোথাও না কোথাও তাদেরকে অত্যাচারের শিকার হয়ে হয়েছে। এমনিতেই তারা অনেক বেশি দুর্বল। আর সেই সময়ে শীতের এমন প্রচণ্ডতা তাদের জন্য আরও কষ্টকর অভিজ্ঞতা নিয়ে আসে বলে মনে করেন সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা। আর এই শীত থেকে তাই হাতিদের সুরক্ষা দেওয়াটাও মানুষের দায়িত্ব।

হাতিদের মধ্যে অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে আর্থ্রাইটিস হতে দেখা যায়। কখনো কখনো এই সমস্যা বেশ বেড়ে যায়। শীত তাই তাদের জন্য শারীরিকভাবে বেশ দুর্ভোগ নিয়ে আসে। বিশেষ করে, সেন্টারের হাতিগুলো আগে থেকেই দুর্বল হওয়ায় তাদের পক্ষে এই সমস্যার মোকাবেলা করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, ভাল্লুকের পাশাপাশি হাতিদের নিয়ে এই সেন্টারের কাজ শুরু হয় ২০১০ সালে। এখানে বর্তমানে মোট ২০টি হাতি আছে। এদের মধ্যে ১২ জন স্ত্রী হাতি এবং ৮ জন পুরুষ হাতি। এই হাতিদের প্রত্যেকের পেছনেই আছে হৃদয়বিদারক সব গল্প। কেউ বছরের পর বছর সার্কাসে কাজ করেছে, কেউ ভারী ভারী মাল বহন করেছে।

তবে বয়স হওয়ার সাথে সাথে তাদের সবাইকে ফেলে দিয়েছে মালিক। এই হাতিদের শেষ বয়সটা যেন একটু ভালো কাটে, সেজন্যেই এই সেন্টারে হাতিদের জন্য যথাযথ খাবার এবং পথ্যের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশাল প্রান্তরে হাতিদের উপযোগী গাছ রাখা হয়েছে। যেখানে কিছুটা হলেও প্রকৃতির সান্নিধ্যে যেতে পারবে এই প্রাণীরা। আছে ছোট ছোট পানির গর্ত। এতে গোসল করতে এবং সময় কাটাতে পারে হাতিরা নিজেদের মতো করে। বর্তমানে খুব ছোট আকারে হলেও ধীরে ধীরে সেন্টারকে আরও বাড়িয়ে তোলার ইচ্ছে আছে উদ্যোক্তাদের।

হাতিরাও এই ব্যবস্থায় বেশ খুশি। নারী, পুরুষ, বাচ্চা- সব রকমের হাতিরাই মহানন্দে মানুষের বানানো এই জামা পরছে। বাঁধা দিচ্ছে না তারা। আশপাশের মানুষগুলো তাদের ভালো ভেবেই যে কাজটি করছে, এটা যেন নির্বাক এই প্রাণীগুলোও জানে!

সূত্র- ওয়াইল্ডলাইফএসওএস, ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

ওডি/এনএম

jachai
nite
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
jachai

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড