• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ৪৮তম প্রয়াণ দিবস

  ফিচার ডেস্ক

২৮ অক্টোবর ২০১৯, ১২:৩২
ছবি
ছবি : বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান

হামিদুর রহমান। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশ সরকার চরম সাহসিকতা ও অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় তাদের মধ্যে তিনি একজন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে শহীদ হওয়া হামিদুর রহমান সাতজন বীর শ্রেষ্ঠ পদকপ্রাপ্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। তিনি ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন । আজ তার ৪৮তম প্রয়াণ দিবস। 

বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খর্দ্দো খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আক্কাস আলী মণ্ডল এবং মায়ের নাম মোসাম্মাৎ কায়মুন্নেসা। ১৯৭০ সালে হামিদুর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।  তার প্রথম ও শেষ ইউনিট ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে চাকরিস্থল থেকে নিজ গ্রামে চলে আসেন তিনি। বাড়িতে মাত্র একদিন থেকেই মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য চলে যান সিলেট জেলার শ্রীমঙ্গল থানার ধলই চা বাগানের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত ধলই বর্ডার আউটপোস্টে। তিনি ৪ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন। 

১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে হামিদুর রহমান ১ম ইস্ট বেঙ্গলের সি কোম্পানির হয়ে ধলই সীমান্তের ফাঁড়ি দখল করার অভিযানে অংশ নেন। ভোর চারটায় মুক্তিবাহিনী লক্ষ্যস্থলের কাছে পৌঁছে অবস্থান নেয়। সামনে দুই প্লাটুন ও পেছনে এক প্লাটুন সৈন্য অবস্থান নিয়ে অগ্রসর হতে থাকে শত্রু অভিমুখে। শত্রু অবস্থানের কাছাকাছি এলে একটি মাইন বিস্ফোরিত হয়। মুক্তিবাহিনী সীমান্ত ফাঁড়ির খুব কাছে পৌঁছে গেলেও ফাঁড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত হতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর মেশিনগানের গুলিবর্ষণের জন্য আর অগ্রসর হতে পারছিল না। অক্টোবরের ২৮ তারিখে ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও পাকিস্তান বাহিনীর ৩০-এ ফ্রন্টিয়ার রেজিমেন্টের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাধে। 

এই যুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ১২৫ জন মুক্তিযোদ্ধা অংশ নিয়েছিল। মুক্তিবাহিনী পাকিস্তান বাহিনীর মেশিনগান পোস্টে গ্রেনেড হামলার সিদ্ধান্ত নেয়। গ্রেনেড ছোঁড়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় হামিদুর রহমানকে। তিনি পাহাড়ি খালের মধ্য দিয়ে বুকে হেঁটে গ্রেনেড নিয়ে আক্রমণ শুরু করেন। দুটি গ্রেনেড সফলভাবে মেশিনগান পোস্টে আঘাত হানাতে সক্ষম হন, কিন্তু তার পরপরই হামিদুর রহমান গুলিবিদ্ধ হলেও মেশিনগান পোস্টকে অকার্যকর করে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে পরাস্ত করে সীমানা ফাঁড়িটি মুক্তিযোদ্ধারা দখল করতে সমর্থ হলেও হামিদুর রহমান বিজয়ের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেনি। ফাঁড়ি দখলের পরে মুক্তিযোদ্ধারা এই সূর্যসন্তানের লাশ উদ্ধার করেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড