• বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বয়স ৩৯, সন্তান সংখ্যা ৪৪!

  ভিন্ন খবর ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৫৩
সন্তান
সন্তানদের একাংশের সঙ্গে মারিয়াম; (ছবি- ইন্টারনেট)

সন্তান জন্ম দেওয়া যে কোনো মায়ের জন্যই আনন্দের বিষয়। প্রথমবার তিনি যখন মা হয়েছিলেন তখন যমজ সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। আর তাতে বেশ খুশিও হয়েছিলেন। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, বরং শুরু। এরপর টানা চার বার যমজ সন্তানের জন্ম দেন মারিয়ম। ততদিনে অবশ্য কিশোরী থেকে যুবতী হয়ে উঠেছিলেন তিনি। আর সে সঙ্গে এও বুঝে গিয়েছিলেন যে কোথাও কোনো একটা বড় সমস্যা রয়ে গেছে। 

অভাবের সংসার, এভাবে দ্রুত পরিবারের সদস্য সংখ্যা বাড়ায় অভাব অনটন ও অশান্তি ক্রমশ বেড়েই চলছিল। সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে তাই চিকিৎসকের কাছে ছুটেন মারিয়াম। চিকিৎসক জানান, তার ডিম্বাশয়ের আকার বেশ বড়। সে সঙ্গে তিনি অত্যন্ত ফার্টাইল। কিন্তু কোনোরকম গর্ভনিয়ন্ত্রক ওষুধ কিংবা অস্ত্রোপচার করতে পারবেন না তিনি। কারণ তা তার জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। 

পুরো বিষয়টি নিয়ে স্বামীর সঙ্গে আলোচনা করেন মারিয়াম। তাকে বোঝানোর চেষ্টাও করেন। কিন্তু তার কথায় কান দেননি তিনি। ফলে যা হলো তা আরও ভয়াবহ। এরপর চারবার একসঙ্গে তিন সন্তান ও পাঁচবার একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম দেন মারিয়াম। 

বর্তমানে মারিয়ামের বয়স ৩৯ বছর। সব মিলিয়ে তার জন্ম দেওয়া সন্তানের সংখ্যা ৪৪, যার মধ্যে বেঁচে রয়েছে ৩৮ জন। আড়াই বছর আগে অন্য নারীকে বিয়ে করে মারিয়ামকে ত্যাগ করেছেন তার স্বামী। আর তাই এই আড়াই বছর ধরে ৩৮ সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব একাই সামলে যাচ্ছেন স্বামী পরিত্যক্তা ‘সিঙ্গল মাদার’ মারিয়াম নবট্যানজি। 

আফ্রিকার উগান্ডার বাসিন্দা মারিয়াম। মাত্র ১২ বছর বয়সেই বিয়ে হয়েছিল তার, স্বামীর বয়স ছিল ৪০। বর্তমানে স্বামী পরিত্যক্তা এই নারী বাস করছেন উগান্ডার কামপালার উত্তরে ৫০ কিলোমিটার দূরে একটা ছোট গ্রামে। ৩৮ সন্তানকে নিয়ে সংসার তার। স্বামী বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পর মারিয়ামের দাদি তাকে এখানে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। 

ছেলে মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন তিনি। নানা উপায়ে চালান সংসার। অভাব আর অনটন তার নিত্য সঙ্গী। তাই মাছ, মাংস সেভাবে কপালে জোটে না বললেই চলে। তবে প্রতিদিন প্রায় ২৫ কেজি ভুট্টা লাগে মারিয়ামের সংসারে। 

মারিয়ামের প্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানরা উপার্জনের চেষ্টার পাশাপাশি ঘরের কাজেও মাকে সাহায্য করে। কে কোন দিন কোন কাজ করবে তা রুটিন করে দেওয়ালের একপাশে টাঙিয়ে রেখেছেন মারিয়াম। 

বর্তমানে তার একটিই চাওয়া। আর তা হলো নিজের সন্তানদের সুখী দেখা। আর তাই, শারীরিক সমস্যা, সমাজ আর দরিদ্রতাকে সঙ্গী করে একক মাতৃত্বের লড়াই আজও অব্যাহত রেখেছেন এই নারী।

ওডি/এনএম 

আপনার চোখে পড়া অথবা জানা অন্যরকম অথবা ভিন্ন স্বাদের খবরগুলোও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড