• শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

স্মৃতির পাতায় ক্যাম্পাসের শীতের আড্ডা

  আবদুল্লাহ আল নোমান, নোবিপ্রবি

২৭ অক্টোবর ২০২০, ১৫:৩১
ক্যাম্পাসে শীতের আড্ডা
স্মৃতির পাতায় ক্যাম্পাসের শীতের আড্ডা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

শীত এলো তাইতো রসের হাড়ি খেজুর গাছে ঝোলে। এই রসেতে পিঠা হবে, ভাবতেই মন দুলে। মৃদু শীতে মৌসুমের শুরু, মধ্যখানে কনকনে শীত আর শেষে হাড় কাঁপানো শীতে বিদায় নেয় এই মৌসুম। প্রতিবার প্রকৃতির নিয়ম মেনেই তার নিজস্ব আবহ নিয়ে শীত আসে। উত্তরের হিমশীতল বাতাস, কুহেলিকায় ঘেরা সকাল আর ভেজা সবুজ ঘাস যেন মৌসুমের আগাম বার্তা দিতে থাকে।

হরহামেশায় শুনা যায় পাখির কলরব, থাকে কোলাহল মুক্ত প্রকৃতি। সাথে মানুষের ঠোঁট ফাটার মতো অমসৃণ ত্বক, গাছের পাতা ঝরে যাওয়া ও সকলের মাঝে পিঠা বানানোর প্রতিদ্বন্দ্বিতাই যেন শীতকালের চিরাচরিত বৈশিষ্ট্য। তবে নিজ গাঁও-গ্রাম ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শীতের আমেজ যেন আরও বিচিত্র রকমের। মৌসুম পরিবর্তনের ছোঁয়ায় ক্যাম্পাস সমূহও যেন সজ্জিত হয় নতুন রূপে।

তেমনি বৈচিত্র্যপূর্ণ শীতের মৌসুম উদযাপন করে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠানটি উপকূলবর্তী এলাকায় হওয়াতে এতে প্রবেশকালেই শীতের কনকনে হাওয়া শরীরে বয়ে যায়। মৌসুমের চিরাচরিত রূপ অনুযায়ী ভিন্ন সাজে ব্যতিব্যস্ত সকলেই হরেক রকম আড্ডায় মেতে উঠে। এজন্য কেউ বেছে নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি নিকেতনে অবস্থিত চায়ের দোকান। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে নানারূপ আড্ডায় মেতে উঠে শান্তি নিকেতন।

সন্ধ্যায় পুকুরপাড়ে দেখা মেলে আরেক শ্রেণির। তারা খড়কুটো একত্র করে সেখানে আগুন জ্বালিয়ে ভিন্ন আড্ডায় মেতে উঠে। সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক হলগুলোতে গেলে ব্যাডমিন্টন খেলায় মত্ত ছাত্র-ছাত্রীদের অন্য শ্রেণি পাওয়া যায়। এ সময়টা অনেকেরই কাটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে অবস্থিত টংগুলোতে চায়ের আড্ডায়।

এই মৌসুমে ক্যাম্পাসে কাটানো সময়ের ভিন্ন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া বলেন, ‘শীতের মৌসুমে আমার কাছে অন্য রকমের ভালো লাগা কাজ করে। খুব ভোরে ঘুম হতে জেগে শিশির ভেজা ঘাসের স্পর্শ নিতে মন সবসময় উদাসীন থাকে। কুয়াশায় ভেজা সকাল পেরিয়ে যখন মিষ্টি রোদের দেখা মিলে সেই সময়টাতে বন্ধুরা মিলে শহীদ মিনারের সম্মুখে আড্ডা দেওয়ার অনুভূতি সত্যি অসাধারণ।’

একই বিভাগের অন্য শিক্ষার্থী অলিন বলেন, ‘বৃত্তের ন্যায় গোল হয়ে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে সময় কাটানোর উপযুক্ত সময় শীতকাল। শীত এলেই অলসতা কেমন জানি বেড়ে যায় তাইতো ক্লাসের ফাঁকে পুকুর পাড় কিংবা শহীদ মিনারের সামনে পড়ন্ত বিকেল অথবা সকালের নরম রোদে আড্ডা দিতে খুবই ভালো লাগে। শীতের জন্য সকালের ক্লাসে উপস্থিত হওয়াটা অত্যন্ত বিরক্তিকর লাগে। সকালে ঘুম হতে উঠে আটটার ক্লাসের জন্য বাস ধরতে গিয়ে অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়। এভাবে অসংখ্য ক্লাস প্রায়ই মিস হয়ে যায়।’

আরও পড়ুন : গবির মাঠে নেই আগের সেই ছন্দ

অন্যদিকে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়াদুল ইসলাম জানান, ‘ক্যাম্পাসে শীত মানেই আলসেমি বেড়ে যাওয়া। প্রতিনিয়ত ক্লাসে উপস্থিত হতে ১০ মিনিট করে সময় নষ্ট হয়ে যায়। তবে শীতের আড্ডা দেয়াটা আসলেই উপভোগ্য। শীত মানেই নানা রঙের রঙ্গিন গরম কাপড়ে ক্যাম্পাসের চিরচেনা মুখগুলো পরিবর্তন হয়ে যায়। সন্ধ্যা হলেই পুকুর পাড়ে সকলে মিলে বারবিকিউ পার্টিতে খুবই মজা করি। রাতে গানের আসর জমাতে গিটারের তারের সাথে আমাদের গলার স্বরধ্বনি ক্যাম্পাসের দেয়ালজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার আনন্দ অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর।’

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801703790747, +8801721978664, 02-9110584 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড