• সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

শাওয়াল মাসের সিয়ামে করণীয় গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় (পর্ব- ৩)

  ধর্ম ডেস্ক

০৮ জুন ২০১৯, ১২:৩৬
শাওয়াল
ছবি : প্রতীকী

রমজানের বিদায়- 

হে অপরাধী গুনাহগার (আমরা সকলেই গুনাহগার) তোমার পাপের কারণে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। তোমার মতো কত পাপীকে রমজানের এ দিনগুলোতে কত মানুষকে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। তাই তোমার রবের ব্যাপারে সুধারণা কর, তাঁর কাছে তাওবা কর। কেননা নিজেকে নিজে ধ্বংসকারী ব্যতীত অপর কাউকে আল্লাহ ধ্বংস করেন না। কবি বলেছেন :

তুমি গুনাহের রোগে রোগাক্রান্ত হলে রাতের অন্ধকারে হাত তুলো। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। তোমার গুনাহের চেয়ে তাঁর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া অধিক মারাত্মক অপরাধ।

যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেতে চায় তার উচিৎ জাহান্নাম থেকে নাজাতের যেসব উপায় আছে সেগুলো অনুসরণ করা। আবু কিলাবা রহ. জাহান্নাম থেকে মুক্তির আশায় তার এক সুন্দরী দাসীকে রমজানের শেষ দিনে মুক্ত করে দেন।

সুতরাং রমজানে সায়িমকে ইফতার করানো, অধীনস্ত কর্মচারীর কাজ হালকা করে দেওয়া, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহা এর সাক্ষ্য দেওয়া এবং ইসতিগফার পড়া জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায়।

তাওহীদের কালেমা গুনাহকে নিঃশেষ করে দেয়। তাওহীদের কালেমা উচ্চরণকারীর পূর্বের ও পরের গুনাহ অবশিষ্ট থাকে না। এ কালেমা জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করে। যে ব্যক্তি এ কালেমা সকাল সন্ধ্যা পাঠ করবে আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবেন। যে ব্যক্তি এ কালেমা ইখলাসের সাথে অন্তর থেকে বলবে আল্লাহ তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিবেন।

ইসতিগফারের কালেমা ক্ষমা পাওয়ার অন্যতম উপায়। কেননা ইসতিগফার মানে ক্ষমার দো‘আ। সাওম অবস্থায় ও ইফতারের সময় সায়িমের দো‘আ আল্লাহ কবুল করেন। হাসান রহ. বলেন, তোমরা অধিক পরিমাণে ইসতিগফার করো। কেননা তোমরা জানো না কখন রহমত নাযিল হয়। লুকমান আলাইহিস সালাম তার সন্তানকে বলেছেন : হে আমার প্রিয় সন্তান! তুমি তোমার যবানে ইসতিগফার চালু রাখো।

কেননা আল্লাহর কাছে এমন কিছু সময় আছে যে সময় দো‘আকারীর দো‘আ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। কোনো এক লোক বলেছেন : ইবলিশ শয়তান বলে, আমি গুনাহের দ্বারা মানুষকে ধ্বংস করেছি, আর তারা আমাকে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও ইসতিগফার দ্বারা ধ্বংস করেছে। সব ভালো আমলের উত্তম পরিণাম হলো ইসতিগফার। ইসতিগফারের দ্বারাই সালাত, হজ, কিয়ামুল লাইল ও সব ধরণের মজলিশ শেষ কর।

মজলিশ যদি আল্লাহর যিকিরের হয় তাহলে ইসতিগফার তাতে সীলমোহরের কাজ করবে, আর যদি মজলিশে কোনো ভুল-ভ্রান্তি হয়ে থাকে তাহলে ইসতিগফারের দ্বারা তার কাফফারা হয়ে যাবে। এমনিভাবে ইসতিগফারের দ্বারাই রমজানের সাওম পালন সমাপ্তি করা উচিত।

আগের পর্ব পড়তে- শাওয়াল মাসের সিয়ামে করণীয় গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় (পর্ব- ২)

উমার ইবন আব্দুল আযীয বিভিন্ন জায়গায় এ ফরমান জারি করেন যে, রমজান মাস, সদকা ও সদকা ফিতর ইসতিগফারের মাধ্যমে শেষ করা। কেননা সদকা ফিতর সায়িমের সাওমের ভুল-ত্রুটি ও অনর্থক কথা ও কাজ থেকে পবিত্রতা। আর ইসতিগফার সায়িমের অনর্থক ও অশ্লীল কাজের কাফফারাস্বরূপ।

উমার ইবন আব্দুল আযীয তার এক চিঠিতে লেখেন, তোমাদের পিতা আদম আলাইহিস সালাম যেমন বলেছেন তোমরাও সেভাবে বলো,
﴿رَبَّنَا ظَلَمۡنَآ أَنفُسَنَا وَإِن لَّمۡ تَغۡفِرۡ لَنَا وَتَرۡحَمۡنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ٢٣﴾ [الاعراف: ٢٣]     

“হে আমাদের রব, আমরা নিজদের উপর যুলুম করেছি। আর যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদেরকে দয়া না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।” [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ২৩] আল্লাহর নবী নূহ আলাইহিস সালাম যেভাবে বলেছেন তোমরাও সেভাবে বলো,

﴿وَإِلَّا تَغۡفِرۡ لِي وَتَرۡحَمۡنِيٓ أَكُن مِّنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ٤٧﴾ [هود: ٤٧] 

“আর যদি আপনি আমাকে মাফ না করেন এবং আমার প্রতি দয়া না করেন, তবে আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব”। [সূরা হূদ, আয়াত: ৪৭]

মূসা আলাইহিস সালাম যেভাবে বলেছেন তোমরাও সেভাবে বলো,

﴿رَبِّ إِنِّي ظَلَمۡتُ نَفۡسِي فَٱغۡفِرۡ لِي١٦﴾ [القصص: ١٦] 

‘হে আমার রব, নিশ্চয় আমি আমার নফসের প্রতি যুলুম করেছি। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন”। [সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ১৬]

যুন নূন যেভাবে বলেছেন তোমরাও সেভাবে বলো,
﴿لَّآ إِلَٰهَ إِلَّآ أَنتَ سُبۡحَٰنَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ ٱلظَّٰلِمِينَ٨٧﴾ [الانبياء: ٨٧] 

“আপনি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। আপনি পবিত্র মহান। নিশ্চয় আমি ছিলাম যালিম।” [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৮৭]

সাওম জাহান্নাম থেকে রক্ষার ঢালস্বরূপ। অনর্থক কথাবার্তা সে ঢালকে নষ্ট করে দেয় আর ইসতিগফার সে জ্বলন্ত ঢালকে রক্ষা করে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাইলাতুল কদরে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহাকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন। 

সুতরাং মুমিন রমজানে সাওম ও কিয়ামুল লাইলে কঠোর পরিশ্রম করে। রমজান শেষ হওয়ার উপক্রম হলে এবং লাইলাতুল কদর আসলে সে শুধু আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করে, যেমনিভাবে অল্প আমলকারী অপরাধের জন্য ক্ষমা চায়।

চলবে...

লেখক : মুরাদ বিন আমজাদ, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুসলিম উম্মাহ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

ওডি/এনএম

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড