• মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

করোনাকালীন ইদ ও আমাদের করণীয়

  মো. রাহাত খান

২৩ মে ২০২০, ২১:৩৫
রাহাত খান
ছবি : সংগৃহীত

প্রতি বারের মতোই ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে ধর্মীয় ভাব ও গাম্ভীর্য নিয়ে এসেছে ইদ-উল-ফিতর। তবে এমন ইদ হয়তো ১৯৭১ এর পরে এই দেশে আমরা নতুন প্রজন্ম কখনো দেখিনি। ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে রক্ত দিয়ে কেনা আমাদের এই স্বাধীনতা আজ অদেখা শত্রু করোনাভাইরাসের হাতে বন্দী। 

স্বাধীন হয়েও পরাধীনতার স্বাদ আমরা পাচ্ছি। তবে এটা কোনো জাতীয় সমস্যা নয় বরং বৈশ্বিক সমস্যা। আর এই যুদ্ধ থেকে উত্তরণের একটাই পথ আর সেটা হলো সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং বা সামাজিক দূরত্ব। 

কি অদ্ভুত তাই না! পৃথিবীর সকল যুদ্ধ দলগতভাবেই জয় হয়েছে। আর করোনা যুদ্ধ জয় হবে দল ছাড়া। তবে বিপদে ডরে না বীর, বুক চিতিয়ে লড়ে। এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে যথাযথ ধর্মীয় ভাব ও গাম্ভীর্য নিয়েই এবারের ইদ-উল-ফিতর উদযাপন করতে হবে। 

এখন আসুন মূল আলোচনায় আসি। আমারা জন্মগতভাবেই একটু আবেগী আর পরিবর্তনকে মেনে নেবার প্রবণতাও একটু কম। ফলে আমরা চাই জীবন যেন একই ভাবে চলে। কিন্তু জীবনের বাস্তবতাই হচ্ছে জীবন তার নিজের গতিতে চলে আমাদের কাজ হচ্ছে ওর সঙ্গে তাল মেলানো যদি আমরা দীর্ঘ মেয়াদে টিকে থাকতে চাই। 

আজ জীবনের অস্তিত্ব যেখানে হুমকির সম্মুখীন সেখানে আনন্দ-ফুর্তি একটা বিলাসিতা বৈ আর কিছু নয়। আমরা কি পারিনা একটি ইদের আনন্দকে উৎসর্গ করতে, আগামী অনেকগুলো ইদের আনন্দকে নিজেদের মাঝে ভাগাভাগি করার প্রয়াসে? 

এখন আসুন জেনে নেই ইসলামে ইদ উদযাপনের ধরন কী।

১) গোসল করে নামাজে যাওয়া (মুয়াত্তা ইমাম মালিক)
২) সুন্দর কাপড় পরিধান করা, কিন্তু সিল্কের কাপড় না পড়া (বুখারী ২/৬৯)। রাসূলুল্লাহ (সা.) কখনো
কখনো আতর, সুরমা ও মাথায় তেল ব্যবহার করতেন।
৩) হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া (তিরমিযী ৫৩০)
৪) ঈদের নামাজের ঠিক আগে বা পরে কোনো নফল নামাজ না পড়া (বুখারী, মুসলিম, ইবনে মাজাহ,
আহমাদ, আবু দাউদ)
৫) মসজিদে ইদের নামাজ না পড়ে ঈদগাহে পড়া (বুখারী)
৬) একপথে ইদের নামাজ পড়তে গেলে, নামাজ শেষে আরেক পথে ফেরত আসা (আহমাদ, ইবনে মাজাহ)
৭) কিছু খেয়ে ইদ-উল-ফিতরের নামাজ পড়তে বের হওয়া, রাসূলুল্লাহ (সা.) বেজোড় সংখ্যায় খেজুর খেয়ে
বের হতেন। আর, ইদ-উল-আযহার নামাজে রাসূলুল্লাহ (সা.) নামাজ না পড়ে কিছু খেতেন না। (তিরমিযী
৫৪২-৫৪৩)
৮) তাকবীর বলতে বলতে নামাজে যাওয়া এবং নামাজ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত পড়া। তাকবীর : আল্লাহু
আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।
(সিলসিলাহ আল সাহিহাহ ১/১৭১) (তথ্য সংগ্রহের উৎস, কোরআন ও হাদিস-প্রিয় বাণী সহজ
ভাষায়)। 

এ থেকে বোঝা যায় যে, বন্ধুদের সঙ্গে অযথা রাস্তায়, পার্কে, অথবা বাইকে আড্ডা দেওয়া, ঘোরাঘুরি করা এটা ইদের সুন্নাতি উদযাপন নয় বরং মানসিক প্রশান্তির জন্য। তাহলে আবারও সেই কথাই প্রযোজ্য যে, জীবনের অস্তিত্ব যেখানে হুমকির সম্মুখীন সেখানে এ ধরনের মানসিক প্রশান্তি এবারের ইদের জন্য একটা বিলাসিতা।

এবার আসুন কিছু অপ্রিয় সত্যি কথায়। ধরুন আজ যদি পরিবারের কেউ হাসপাতালে অসুস্থ থাকতো কিংবা এ রোজায় সৃষ্টিকর্তা না করুন পরিবারের কাউকে হারিয়ে ফেলতাম তাহলে কি এভাবে ইদ উদযাপনের কথা ভাবতে পারতাম যদি অবস্থা স্বাভাবিক ও হতো। 

আরও পড়ুন : করোনা কালের অবসর, ধর্মীয় শিক্ষার বৃহৎ পরিসর

এখন যাবো চিন্তার আরও গভীরে। ১৯৭০-৭১ এ সেই প্রজন্মের তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী, আবাল বৃদ্ধ বণিতারা কিভাবে ইদ করেছিলেন! অথবা ভাবুন তো যদি আমাদের জন্ম হতো আফগানিস্তান, ইরাক, কিংবা সিরিয়াতে তাহলে যুদ্ধবিগ্রহ জাতি হিসেবে কিভাবে ইদ পালন করতাম! আসুন আমাদের জীবনযাপনের মাঝে একটু যৌক্তিকতা সমন্বয় করি। এই বিষয়গুলো একটু উপলব্ধি করে হলেও একটু সংযমের সঙ্গে এবারের ইদ আমরা উদযাপন করি। 

মহান স্রষ্টা আমাদের বাঁচিয়ে রাখলে এমন অনেকগুলো ইদ আমরা বিগত ইদগুলোর মতো উদযাপন করতে পারবো। আসুন আমরা ধৈর্য্য ধরে, ঘরে থেকে এবারের ইদটি উদযাপন করি। আমাদের সচেতনতাই পারে আমাদেরকে অনাগত সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দিতে। স্বাধীন দেশে আবারও স্বাধীনতার স্বাদ পেতে। পরিশেষে এই বলে শেষ করতে চাই, ইসলামে ধৈর্য্যের বিষয়ে সুবিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

‘নিশ্চয় সকল মানুষ ক্ষতিগ্রস্ততায় নিপতিত। তবে তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।’ সূরা নং – ১০৩, আল-আসর” 

আসুন এবারের ইদটি আমরা আলোচ্য সুরাতুল আসরের শেষ আয়াতের আলোকে ধৈর্য্যের সঙ্গে বাসায় নিরাপদ দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে উদযাপন করি। মহান স্রষ্টা আমাদের আগামী ইদগুলোকে আবারও আগের মতো স্বাভাবিকভাবে পালনের তৌফিক দিন।

লেখক : শিক্ষক ও গবেষক, সিটি বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড