• শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২০, ১৮ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

করোনা কালের অবসর, ধর্মীয় শিক্ষার বৃহৎ পরিসর 

  আব্দুল জব্বার

২০ মে ২০২০, ০২:০৯
আব্দুল জব্বার
আব্দুল জব্বার

চীনের অনলাইন ভিত্তিক বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান আলীবাবা ডট কম এর প্রধান নির্বাহী জ্যাক মা কিছুদিন আগে একটি বক্তৃতায় বলেছেন, 'এখন সময় শুধুই জীবন বাঁচানোর জন্য তাই লাভ -লোকসান নিয়ে চিন্তা না করে আপনি বেঁচে আছেন এটাই সব থেকে বড় মুনাফা সেটা ভাবুন।' আসলেই তাই জীবন কেন্দ্রিক সবকিছু। আপনি জীবিত আছেন তার মানে আপনাকে জীবনের তাগিদে সব কিছু করতে হবে। আর মরে গেলে তো সকল কিছুরই অবসান ঘটে যাবে। যদি মহামারির অবসান হওয়া পর্যন্ত এই পৃথিবীতে টিকে থাকি তাহলে আবার লাভ-ক্ষতির হিসাব মনোযোগ দিয়ে করব।

কোয়ারেন্টিন এর সময়ে যে যার যায়গা থেকে নিরাপদে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। ঘর কেন্দ্রিক জীবন কষ্টের হলেও এ মুহূর্তে আমরা সময়ের কাছে অসহায়। অবসরের এই সময় অনেকেই অনেক ভাবে ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছেন৷ যে যে ভাবে পারে তার ভালোলাগার ব্যাপারগুলো থেকে ভালোলাগা আদায় করে নিতে চেষ্টা করে যাচ্ছে৷ পছন্দের তালিকা করে অনেকেই যেমন বইয়ের পাতায় ডুব দিয়েছেন। যারা সিনেমা পাগল হয়েও ব্যস্ততায় সময় করে উঠতে পারেনা তাদের জন্য বিশাল অবকাশ হয়ে এসেছে করোনা৷ প্রিয় নায়ক, পরিচালক, নায়িকাদের সিনেমা গুলোতে ঢেরবেশি মজে আছেন তারা৷ এছাড়াও পরিবারকে সময় দেওয়া, গান-বাজনা, লেখালেখি, অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন কাজ, ছাদ কৃষি, বাগান করা, পছন্দের পশুপাখি পালন, কিংবা রান্নাবান্না শিখেও অনেকের সময় পাড় হচ্ছে।

সব কিছু ছাপিয়ে একটা ব্যাপার হয়তো অনেকের মাথায় আসেনি যে, ব্যস্ত জীবনের ব্যস্ততায় আমরা যারা ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ধর্মীয় ব্যাপারগুলো শিখতে-জানতে পারি না তাদের জন্য হোম কোয়ারেন্টিন সময় টা অনেক উপযুক্ত ও কার্যকরী। এক টানা এতদিন অবসর হয়তো আর কোন ভাবেই মিলবে না৷ রোজার মাস, সামনে ঈদের ছুটির দিন গুলোকে কাজে লাগিয়ে আমরা আমাদের ধর্মীয় শিক্ষার অভাব যতটুকু পারি পূরণ করার চেষ্টা করি।

মন থেকে একটু ভাবনা করে দেখি, মরণ নিশ্চিত জেনেও জীবনের জন্য, পরিবারের জন্য, দুনিয়ায় টিকে থাকার জন্য আমরা কতো সংগ্রাম, লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। নিজের মান-মর্যাদা বড় করতে প্রতিনিয়ত কষ্টের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছি। অথচ যেই শিক্ষাটা আমাদের সবার জন্য ফরজ করা হয়েছে সেটা নিয়ে আমাদের একটুও চিন্তা নেই! কি মুসলিম,হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান সকল ধর্মেই ধর্মীয় শিক্ষা শেখার উপর অনেক জোর দেওয়া হয়েছে। অথচ আধুনিকতার নামে আমরা সে শিক্ষা থেকে ক্রমেই দূর থেকে দূরে সরে যাচ্ছি।

দুনিয়া কেন্দ্রিক সকল বিষয়েই কোন না কোন ভাবে আমাদের উন্নতি হয়েছে, চার বছর আগে আমি চাকরি করতাম না এখন করি, দুই বছর আগে রোজারিও ভাইয়ের গাড়ি ছিল না এখন আছে। দশ বছর আগে সুমন চাকমা ক্লাস সেভেন এ পড়ত এখন সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। কয়েক মাস আগেও যোগেশ কাকার টিনের বাড়ি ছিল এখন তার ছয়তলা বাড়ি। অথচ আমি মুসলমান আমার সুরা ফাতিহা শিক্ষা চার বছর আগে যেমন ছিল এখনও তেমনি আছে। আমার ধারণা না শক্তিশালী বিশ্বাস রোজারিও, সুমন, যোগেশ (কাল্পনিক চরিত্র) দেরও তাদের ধর্মীয় শিক্ষার অগ্রগতি আমার মতই।

অথচ চাইলেই আমরা একটু কষ্ট করে আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক শিক্ষাটা শিখে নিতে পারি। আমরা যদি দিন দিন এভাবেই অবহেলা করে যাই, তাহলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ঠিক আমাদের মতই হবে। তাছাড়া সঠিকভাবে ফরজ শিক্ষায় শিক্ষিত না হয়ে পরকালে গেলে সেখানেও কঠিন জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাও এমন হয়েছে যে ধর্মীয় সিলেবাসটা বাদ গেলেই যেন তারা আরও আধুনিক হতে পারে। আমরা ভুলে যাই সৃজনশীলতার নামে আমরা নৈতিক অবক্ষয়ের তলানিতে চলে যাচ্ছি দিনকে দিন। ধর্মীয় রীতিনীতি থেকে আলাদা হয়ে সত্যিকারের মানুষ হওয়া কোন ভাবেই সম্ভব না।

রোগ থেকে মুক্তির জন্য আমরা যেমন কিছু টাকা খরচ করার বিনিময়ে সব দায়িত্ব ডাক্তারের উপর ছেড়ে দেই। ঠিক তেমনি কিছু টাকা খরচ করে ধর্মের সকল দায়িত্বও ধর্মগুরু দের উপর ছেড়ে দিচ্ছি। যত পাপ, যত খারাপ কাজ করি না কেন মাঝে মাঝে কিছু টাকা খরচ করার বিনিময়ে সব মোচন করার দায়িত্ব তো কিছু মানুষের আছেই! অথচ আমার মরণ যাত্রার সাথী কেবলই আমি একা।

করোনা'র অবসরে আমাদের ধর্মীয় শিক্ষার প্রস্তুতি হোক বৃহৎ পরিসরে। নিজে, পরিবারের সকলকে অত্যাবশ্যকীয় এ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে আমাদের সবার একটু উদ্যোগই হতে পারে অনেক কার্যকরী। একটা সময় ধর্মীয় শিক্ষা শিখতে অনেক কষ্ট করতে হলেও বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞানের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ঘরে বসে কম সময়ে খুব সহজেই এ শিক্ষা লাভ করতে পারি আমরা। বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম থেকে নিজেদের পছন্দ মতো, ওস্তাদ, বিজ্ঞ লোক থেকে বিনা খরচে শেখার সুন্দর সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে। আর যদি কারও পারিবারিক ভাবে শেখার ব্যবস্থা থাকে তবে আরও ভালো। এখন থেকে শুরু করলে যখন করোনা ভাইরাস বিদায় নেবে তখন আমরা জানলে ওয়ালা মানুষের কাছে সরাসরি তালিম, দীক্ষা গ্রহণ করতে পারব।

লেখক : গণমাধ্যমকর্মী
মতামত পাতায় প্রকাশিত লেখা একান্ত লেখকের মত। এর সঙ্গে পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতিমালার কোন সম্পর্ক নেই।
চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801721978664

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড