• শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

করোনার ভ্যাকসিন তৈরি হবার আগ পর্যন্ত কী করবে মানুষ?

  মাহবুব নাহিদ

১১ মে ২০২০, ২০:৪২
মাহবুব নাহিদ
মাহবুব নাহিদ

করোনা ভাইরাসের ব্যাপারটা এখন সবার কাছেই পরিষ্কার। করোনা ভাইরাসের এখনো কোনো ঔষধ নেই। ভ্যাকসিন তৈরি হতেও লাগবে বহুদিন। কিন্তু ঔষধ বা ভ্যাকসিন তৈরি হবার আগ পর্যন্ত কী করবে মানুষ? ভ্যাকসিন না আসলে কি মানুষ বাঁচবে না? সবাই মরে যাবে? করোনা আমাদের মেরে ফেলার কতটুকু শক্তি রাখে? এগুলো নিয়ে আমরা ভাবি না। আমরা আতঙ্কিত হওয়া নিয়েই ব্যস্ত হয়ে যাচ্ছি। আমরা নিজেরাও আতঙ্কিত হচ্ছি, মানুষের মাঝেও আতঙ্ক ছড়াচ্ছি। আতঙ্ক না ছড়িয়ে বরং সাবধান থেকে কিন্তু আমরা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারি। আমাদের নিজেদের হাতে অনেক কিছুই রয়েছে।

প্রথমত আমরা যদি বাহিরে না যাই, করোনার হেটে হেটে আমাদের ঘরে আসার ক্ষমতা নেই। আমরা যদি ঘর থেকে বাহিরে না বের হই তাহলেই তো অনেকটা সমাধান হয়ে গেল। আমাদের অনেক কাজেই বাহিরে বের হতে হচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বের হওয়াটা বাধ্যতামূলক। যেসমস্ত ক্ষেত্রে বের হওয়া বাধ্যতামূলক সেসব ক্ষেত্রে আমরা সতর্ক হতে পারি। যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে পারি। বিশেষ করে মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করে আমরা বাহিরে বের হতে পারি। বাহিরে থেকে কোনো কিছু নিয়ে আসলে, আসার সাথে সাথে আমাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

যেহেতু করোনা ভাইরাস মাটিতে অবস্থান করে, সেহেতু বাড়ির বাহিরে পা জীবানুমুক্ত করার জন্য ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। বাহির থেকে যা যা এনেছি সেগুলোকে জীবানুমুক্ত করতে হবে, নিজে সরাসরি গোছল করে ফেলতে হবে।

আমাদের অনেকেরই কর্মক্ষেত্রে যেতে হচ্ছে। যাদের যেতেই হচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু ঝুঁকির। এক্ষেত্রে নিজেকে মানুষের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি দরকার। সাথে সবসময় হ্যান্ড স্যানিটাইজার জাতীয় কিছু রাখতে হবে। কোনো কিছু স্পর্শ করার সাথে সাথে স্যানিটাইজার দিয়ে হাত জীবানুমুক্ত করে ফেলতে হবে। যথাসম্ভব বড় পোষাক পরিধান করা এক্ষেত্রে খুবই কার্যকরী।

আর যাদের বাহিরে যেতে হয় না, তাদের তো কোনো সমস্যাই রইল না। তারা বাড়িতে থাকবে, সাবধানে থাকবে, সতর্ক থাকবে। নিজেদের ঘরের সকল জিনিসপত্র জীবাণুমুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে গরম পানি দিয়ে বারবার ধৌত করা যেতে পারে জিনিসপত্র।

অনেকেই দুশ্চিন্তায় আছে যে দোকানপাট খুলে দেওয়া হয়েছে, মার্কেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে অনেকের মনেই দুশ্চিন্তা। কিন্তু একবার আমরা ভেবে দেখি যে আমরা নিজেরা যদি না যাই তাহলে সারা পৃথিবী খুলে দিলেও তো কোনো লাভ নেই। যদিও দোকানদাররা না যেয়ে হয়তো উপায় থাকবে না। তাদের এখন যেয়েও তেমন উপকার হবে না। কারণ ঈদের বেচাকেনার একটা বিশেষ প্রস্তুতি থাকে। সেই প্রস্তুতি তারা তো নিতে পারেনি। এখন দোকানে গিয়ে কী বিক্রি করবে তারা? দোকান না খুললে বরং যারা ভাড়া দোকান চালায় তারা কিছুটা ভাড়া মওকুফের জন্য বলতে পারতো। কিন্তু এখন এমন অবস্থা যে যেয়েও উপায় নেই, আর না যেয়েও লাভ নেই। উভয় সংকটে পড়ে গেছে তারা।

এবার আসা যাক, শারিরীক বিষয় নিয়ে। আমরা কিন্তু খাদ্যভ্যাস দিয়ে করোনাকে মোকাবেলা করতে পারি। এখন পর্যন্ত যত গবেষণা হয়েছে তাতে গরম পানি, কালিজিরা, মধু কিন্তু ভালোই কাজে দিয়েছে। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি উপকারে আসতে পারে গরম চা। আমরা জানি ৭০ ডিগ্রী তাপমাত্রায় ভাইরাস বাঁচতে পারে না। আর আমরা চা খাই সাধারণত ৮০-৯০ ডিগ্রী তাপমাত্রায়। আমাদের শুধু গরম পানি খেতে হয়তো সমস্যা হতে পারে কিন্তু চা খেতে তো কোনো সমস্যা নাই। যত বেশি বেশি গরম চা খাব ততোই আমাদের জন্য উপকারী। আর করোনা যেহেতু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর নির্ভর করে সেহেতু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এমন সব খাবার আমরা বেশি বেশি খেলে অনেকটা রেহাই পাব।

আসলে সমাধান সবসময় নিজেদের কাছেই থাকে। আমরা নিজেরাই ডেকে আনব আমাদের বিপদ, নিজেরাই পারব সাবধান থাকতে। নিজেকে নিয়ে সন্দেহ হলে অনেকে ডাক্তারের কাছে যেতে চায় না বা কাউকে বলতে চায় না। কিন্তু এই সময়ে কাজ করা অত্যন্ত ঝুঁকির হবে। কারণ এটা এমন এক রোগ যা শুধু নিজের ক্ষতি করবে না, করবে আশেপাশের সবার। আর অবশ্যই উপরওয়ালার কাছে চাইতে হবে যাতে তিনি মুক্তি দেন এই বিপদ থেকে।

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড