• শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০, ২৭ চৈত্র ১৪২৬  |   ৩৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা ও ভিশন ২০২১-৪১

  ফারজানা ববী

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬:৫০
ফারজানা ববী
ফারজানা ববী

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল ক্লাসরুম স্থাপন ও মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে পাঠদান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন-২০২১, ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। 

প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে শিক্ষার প্রথম ধাপ। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো তাদের শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল ম্যাটারিয়াল ব্যবহার করে থাকে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে পুরো প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে ৭টি বিদ্যালয়ের ২৩ শিক্ষক দিয়ে পাইলট আকারে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম কার্যক্রম শুরু করা হয়। 

এ প্রোগ্রামের উদ্যোগে সারাদেশে প্রথম ধাপে ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়। এই ধারাবাহিকতায় ল্যাপটপ মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর দেয়া হয় প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আইসিটি বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। 

বর্তমানে বাংলাদেশে ৬৫৫২৯টি বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর প্রদান করা হয়েছে এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে কমপক্ষে ২ জন শিক্ষককে আইসিটি বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে এবং বিভিন্ন পিটিআইগুলোতে এই প্রশিক্ষণটি চলমান রয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে একটি কক্ষকে ডিজিটাল ক্লাসরুম হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। মাল্টিমিডিয়ার ব্যবহার ও ডিজিটাল পাঠভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি করে তা শ্রেণিতে উপস্থাপনের ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি স্লাইডের পর স্লাইড দেখার কৌতূহলী ভাব বেড়েছে। অসংখ্য ছবি ও উদাহরণ দিয়ে দুর্বোধ্য পাঠকে সহজবোধ্য করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিজেরাও এ সরঞ্জামাদি ব্যবহারের মাধ্যমে দক্ষ হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াভীতি দূর হয়ে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হচ্ছে। সারা বিশ্বকে যেন মুহূর্তের মধ্যে শিক্ষার্থীদের সামনে হাজির করা যাচ্ছে। এইভাবে শিক্ষার্থীদের শিখন যোগ্যতাগুলো অর্জিত
ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন হচ্ছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ডিজিটাল ক্লাসরুম ও মাল্টিমিডিয়ার ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুপারিশ সমূহ :

• সকল আইসিটি প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষকগণকে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ প্রদান।

• প্রতিটি বিদ্যালয়ে ডিজিটাল ক্লাসরুমের জন্য একটি করে নতুন কক্ষ বরাদ্দ ও তৈরি করা।

• যে সকল বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম নিরাপত্তা প্রহরী নেই সেই সব বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়ার নিরাপত্তা রক্ষা ও চুরি রোধের জন্য দপ্তরি নিয়োগ করা।

• যে সকল বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া নষ্ট হয়ে গেছে তা তালিকা প্রাপ্তির প্রেক্ষিতে ঠিক করানোর ব্যবস্থা করা ও মেরামত সংক্রান্ত বাজেট প্রদান।

• আইসিটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকগণের ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও পাঠদানের তথ্য প্রতি মাসে পিটিআই/ইউআরসি/টিআরসিতে প্রেরণ।

• নিয়মিত ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে পাঠদান করা শিক্ষককে ‘ধন্যবাদ চিঠি’ প্রেরণ বা বাৎসরিকভাবে যে শিক্ষক সবচেয়ে ভালো কাজ করেছে তাকে উৎসাহমূলক পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান।

• যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল যন্ত্রপাতি ব্যবহারে এগিয়ে থাকবে তাদের উৎসাহ প্রদান ও পুরস্কৃত করা।

• প্রতিটি বিদ্যালয়ে মডেম প্রদান।

• প্রতি বছর ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও ব্যবহারের ওপর প্রথমত ক্লাস্টার ও পরবর্তীতে উপজেলা ও জেলা ভিত্তিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।

• প্রতিদিন দুই/তিনটি করে মাল্টিমিডিয়ায় ক্লাস পরিচালনা বাধ্যতামূলক বা ক্লাস রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করা।

ফারজানা ববী
সহকারী ইন্সট্রাক্টর
উপজেলা রিসোর্স সেন্টার,
সদর, গাজীপুর।

ওডি/এসএস

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড