• বুধবার, ০৩ জুন ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

২৮ ঘণ্টা পর রাজশাহীর সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

ট্রেন চলাচল
রাজশাহী রুটের রেল চলাচল শুরু। (ছবি : দৈনিক অধিকার)

দীর্ঘ ২৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাজশাহীর সঙ্গে সাড়া দেশের ট্রেন যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) রাত পৌনে ১০ টার দিকে সর্বশেষ বগিটি তুলে নেওয়ার মাধ্যমে উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি টানে রেল কর্তৃপক্ষ। এরপর প্রায় পৌনে একঘণ্টা যাবত মেরামত শেষে লাইন ট্রেন চলার উপযোগী করা হয় বলে জানিয়েছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলের প্রধান প্রকৌশলী আফজাল হোসেন।

রেলের এ কর্মকর্তা বলেন, 'বৃষ্টি ও রাতের কারণে দুর্ঘটনা কবলিত এলাকায় পুরোপুরি লাইন মেরামত করা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার (১২ জুলাই) সকাল থেকে মেরামত কাজ আবারও শুরু হবে। এর আগ পর্যন্ত এ এলাকায় সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলাচল করতে পারবে।'

পশ্চিমাঞ্চল রেলের এ প্রধান প্রকৌশলী আরও বলেন, 'রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়া রাজশাহীগামী ট্রেন ছেড়েছে। আর রাজশাহীতে ঢাকার উদ্দেশ্যে পদ্মা এক্সপ্রেস ছেড়ে যাবে রাত সাড়ে ১১টায় এবং ধূমকেতু এক্সপ্রেস রাত ২টায়। এই দুইটি ট্রেনের মধ্যে পদ্মা এক্সপ্রেসের রাজশাহী থেকে ছাড়ার নির্ধারিত সময় ছিল বিকাল ৪টায় এবং ধূমকেতু রাত ১১টা ২০ মিনিটে।'

এর আগে গত বুধবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তেলবাহী একটি ট্রেনের ৮টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। মূলত এর পরপরই রাজশাহীর সঙ্গে গোটা দেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর রাজশাহী থেকে বিভিন্ন রুটে অন্তত ১০টির বেশি আন্তঃনগরসহ সবগুলো লোকাল ট্রেনের যাত্রা বাতিল ঘোষণা করে রেল কর্তৃপক্ষ।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম বলেন, 'তেলবাহী এই ট্রেন লাইনচ্যুতের ফলে যেসব ট্রেনের যাত্রা বাতিল হয়েছে তার যাত্রীদের টিকিটের মূল্য ফেরত দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আমরা প্রায় সাত হাজার যাত্রীকে ২৬ লাখ টাকারও বেশি ফেরত দিয়েছি।'

এ দিকে বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক খন্দকার শহীদুল ইসলাম। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, 'লাইন সংস্কার কাজে নিয়জিত প্রকৌশলীর গাফলতির কারণে রাজশাহীতে তেলবাহী ট্রেনটি দুর্ঘটনা কবলে পড়েছে।'

প্রাথমিক তথ্যের বরাতে খন্দকার শহীদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এও বলেছিলেন, 'লাইন সংস্কার চলছিল। পুরাতন স্পীয়ার পরিবর্তন ও পাথর দিচ্ছিল। তবে যারা সংস্কার কাজ করছেন তারা স্লীপারের সঙ্গে লাইন আটকানো কয়েকটি পিন (ডগস্পাইক) খুলে রেখেছিল। পাথর ফেলের কারণে সেটি ঢেকে যায়। এ কারণে সেটি কারও নজরে না পড়ায় ভয়াবহ এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।'

তিনি আরও জানান, তেলবাহী ৩১টি বগি নিয়ে ট্রেনটি যাচ্ছিল। প্রতিটি বগিতে রয়েছে ৫০ হাজার লিটার তেল। প্রতি বগির ওজন ৫০ টন। পিন খোলা থাকায় অতিরিক্ত চাপে লাইন সরে যাওয়ায় ঘটনাটি ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুন :- পদ্মা সেতু নির্মাণে 'কল্লা লাগবে' : গুজব ছড়ানোয় কিশোর গ্রেফতার

অপর দিকে তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুতের ঘটনায় সংস্কার কাজে নিয়োজিত সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রশিদকে এরই মধ্যে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে বিভাগীয় ট্রান্সপোর্ট কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনকে প্রধান বানিয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। যাদের পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড