• রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বাবা-মা বাঁচলেও, বাঁচতে পারেনি রুশদী

  মনিরুল ইসলাম মনি

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:২৫
রুশদী
বাবা-মায়ের সঙ্গে রুশদী ও আগুন লাগা ভবন (ছবি : সংগৃহীত)

ভোর চারটা। সবাই যখন গভীর ঘুমে, ঠিক তখনই বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় রাজধানীর মগবাজারের দিলু রোডের ছয় তলা একটি বাড়ির বাসিন্দাদের। হঠাৎ লাগা আগুনে মুহূর্তের মধ্যেই ওই বাড়িটি পরিণত হয় নারকীয় যজ্ঞে। বাবা-মা বেঁচে গেলেও বাঁচতে পারেনি শিশু রুশদী (৫)। এ ঘটনায় মারা গেছেন আরও দুজন। তারা হলেন—ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আফরিন জান্নাত জ্যোতি (১৭) ও আব্দুল কাদের লিটন (৪৫)।

ওই বাড়ির বাসিন্দারা জানান, নিহত লিটন থাকতেন নিচ তলায় গ্যারেজের পেছনের কক্ষে। আর শিশু রুশদী থাকত তৃতীয় তলায়। রুশদীর বাবা শহীদুল ইসলামের (৪০) শরীরের ৪৩ শতাংশ আর মা জান্নাতুলের (৩৫) শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তারা এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। এছাড়াও আগুনে সৃষ্ট ধোঁয়ায় অসুস্থ ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সুমাইয়া আক্তার (৩০), মাহাদি (৯) ও মাহমুদুল হাসান (৯ মাস)।

স্থানীয়রা জানায়, বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৪টার দিকে ওই বাড়িটির নিচ তলায় আগুন লাগে। আগুন লাগার পর বাড়িটির কেয়ারটেকারের চিৎকার-চেঁচামেচিতে এগিয়ে আসেন স্থানীয়রা। আর বাড়ির বাসিন্দারা বাঁচার জন্য দিগ্‌বিদিক ছুটতে থাকেন। কেউ পাশের বাড়ির ছাদে লাফিয়ে পড়ে বাঁচার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ আবার সিঁড়ি দিয়েই নামেন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌনে এক ঘণ্টা চেষ্টার পর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। অগ্নিকাণ্ডে তিনজনের নিহত হওয়ার পাশাপাশি পুড়ে গেছে গ্যারেজে থাকা তিনটি প্রাইভেট কার ও দুটি মোটরসাইকেল। ছয় তলা ওই ভবনটির চতুর্থ তলা পর্যন্ত আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল।

বাড়িটির কেয়ারটেকার লুৎফর রহমান বলেন, আগুনে গ্যারেজের মিটার বক্স পোড়ার শব্দে আমার ঘুম ভেঙে যায়। আগুনের তীব্রতা দেখে আমি প্রথমেই বাইরে এসে চিৎকার করে বাসার সবাইকে নিচে নামতে নিষেধ করি। তবুও তিন থেকে চারজন সিঁড়ি দিয়ে নামেন। অনেকেই ছাদ দিয়ে পাশের বাসার ছাদে চলে যান।

আগুন লাগার কারণ জানতে চাইলে তিনি দৈনিক অধিকারকে বলেন, আমার ধারণা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুন লেগেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন যখন চার তলা পর্যন্ত, তখন অনেকেই ছাদ থেকে রশি বেয়ে অন্যপাশ দিয়ে নিচে নেমে আসেন।

অগ্নিকাণ্ড কবলিত বাড়িটির নিচ তলায় একটি জেনারেটর ছিল। যেটির জ্বালানি ছিল গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে। তবে আগুনে গ্যারেজের গাড়ি পুড়ে গেলেও গ্যাস সিলিন্ডারটি রয়েছে অক্ষত। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হলে ক্ষতির তীব্রতা আরও বাড়ত।

আরও পড়ুন : দুই মাসের বেশি জেল হবে না, থানায় বসেই হুমকি!

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উপপরিচালক আবুল হোসেনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস।

আবুল হোসেন দৈনিক অধিকারকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে, তবে প্রকৃত কারণ খুব দ্রুতই জানা যাবে।

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই বাচ্চু মিয়া বলেন, নিহতদের ময়না তদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আমরা দুজনের লাশ শনাক্ত করতে পেরেছি অপর একজনের পুরো শরীর পুড়ে যাওয়ায় তাকে চিহ্নিত করতে পারিনি। তবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত একজন তার মেয়ে বলে দাবি করেছেন। ময়না তদন্ত শেষে পরিচয় নিশ্চিত করে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

ওডি/এমআই/টিএএফ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড