• রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৫ আশ্বিন ১৪২৭  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বায়ু দূষণ কি সিজোফ্রেনিয়ার কারণ হিসেবে কাজ করে?

২০ জানুয়ারি ২০২০, ০৮:৫১
সিজোফ্রেনিয়া
বায়ু দূষণ সিজফ্রেনিয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়; (ছবি- প্রতীকী)

মানসিক সমস্যাকে অনেক সময় ধরে অবহেলা করে এসেছেন বেশিরভাগ মানুষ। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই অবহেলার পরিমাণটা অনেক বেশি। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বর্তমানে বিশ্বে শুধু 'সিজোফ্রেনিয়াতেই ভুগছেন মোট ২০ মিলিয়ন মানুষ।

সংখ্যাটা যে উল্লেখযোগ্য তাই নয়, একই সঙ্গে ভয়াবহও। সিজোফ্রেনিয়া মূলত মানসিক সমস্যার বিভিন্ন ধাপের অন্যতম একটি ধাপ, যেখানে একজন মানুষ হ্যালুসিনেশন, অবাস্তব চিন্তা করা, আবেগীয় দিক দিয়ে দুর্বল হয়ে পড়া ইত্যাদি সমস্যায় ভুগে থাকেন। ধীরে ধীরে এই সমস্যাটি একজন মানুষকে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে অক্ষম করে তোলে।

অন্যদের চাইতে তুলনামূলকভাবে দ্রুত মৃত্যুবরণ করেন সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্তরা। তবে এই সমস্যাটির কারণ নিয়ে এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেননি চিকিৎসকেরা। জিনগত সমস্যা, পরিবেশের ভিন্নতা, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়া ইত্যাদিকে কারণ হিসেবে মনে করলেও সিজোফ্রেনিয়ার পেছনে আরও নানাবিধ কারণ আছে বলে মনে করেন চিকিৎসকেরা।

তবে এ সংক্রান্ত গবেষণা চলছে সবসময়। আর সেই গবেষণার একটি নতুন অংশ হিসেবেই এবার ডেনমার্কের আরহাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক জানিয়েছেন যে, শিশুকালে পরিবেশ দূষণের সংস্পর্শে ছিলেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে সিজোফ্রেনিয়া বেশি দেখা যায়। আসলেই কি তথ্যটি সত্যি?

বায়ু দূষণ বনাম মানসিক সমস্যা

বায়ু দূষণের ফলে আমাদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসার এবং হাঁপানির মতো সমস্যা দেখা যায়। এছাড়াও এটি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করে বলে মনে করছেন একদল গবেষক। এক্ষেত্রে ডেনমার্কের ২৩,৩৫৫ জন মানুষের ওপরে গবেষণা চালান এই গবেষক দল। এই ব্যক্তিদের মধ্যে রাখা হয় ১৯৮১ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত জন্ম নেওয়া সবাইকে।

১০ বছর বয়সের পর থেকে দেখা হয় যে তাদের মধ্যে সিজোফ্রেনিয়ার কোনো লক্ষণ এসেছে কি না। এক্ষেত্রে তাদের জেনেটিক ডাটাও সংগ্রহ করেন তারা। পুরো দলের মধ্য থেকে ৩,৫৩১ জন পরবর্তীতে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হন।

এতে দেখা যায় যে, যেসব ব্যক্তি ছোটবেলা থেকে অন্যদের চাইতে বেশি পরিবেশ দূষণের শিকার হয়েছেন, তাদের সিজোফ্রেনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা তত বেড়ে গিয়েছে। স্বাভাবিক মানুষের চাইতে এক্ষেত্রে দূষণের মুখোমুখি হওয়া মানুষের মধ্যে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পরিমাণ থাকে শতকরা ২০ শতাংশ বেশি।

এর অর্থ হলো, আপনার যদি স্বাভাবিকভাবেই সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ২ শতাংশ থাকে, তাহলে বায়ু দূষণের শিকার না হলে এই সম্ভাবনা ২ শতাংশের অনেক কমে যায়।

শুধু সিজোফ্রেনিয়া নয়, বায়ু দূষণের ফলে মানুষের মধ্যে- হতাশা, মানসিক উদ্বিগ্নতা, সাইকোসিস, এমনকি আত্মহত্যার প্রবণতাও বেড়ে যায়।

বায়ু দূষণের পেছনে এক্ষেত্রে যে কারণগুলো সবচাইতে বেশি কাজ করে সেগুলো হলো-

১। প্রতিনিয়ত অনেক বেশি ও দ্রুত নগরায়ন হওয়া। মূলত, নগরায়ন নেতিবাচক কিছু নয়। তবে অনেক দ্রুত ঘটলে এর সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া সবার জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ে।

২। যানবাহনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। একটি স্থানের যানবাহনের একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা থাকে। যদি কোনো স্থানের মোটরচালিত যানবাহনের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বেড়ে যায় সেক্ষেত্রে বায়ু দূষিত হয় অনেক বেশি পরিমাণে।

আরও পড়ুন- আপনার পাশে থাকা মানুষটিই ‘সিজোফ্রেনিয়ায়’ আক্রান্ত নন তো?

৩। নগর পরিকল্পনার অভাব। একেকটি স্থানের বায়ু দূষণ একেক কারণে হয়। কখনো গৃহস্থালির কারণে, কখনো প্রাকৃতিক সমস্যা যেমন- অগ্ন্যুৎপাত, কখনো যানবাহন ইত্যাদি এর পেছনে কাজ করে। কারণ খুঁজে বের করে সেই অনুসারে নগর পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।

এক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতনতা গড়ে তোলা এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়াটা বায়ুকে বিশুদ্ধ রাখার জন্য প্রয়োজন।

বায়ুদূষণ খুব একটা হেলাফেলা করার মতো বিষয় নয়। প্রতি বছর প্রায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ বিশ্বব্যাপী শুধু বায়ু দূষণের জন্য মারা যায়। আর মানসিকভাবে এটি আমাদের প্রভাবিত করে, হতাশার দিকে ঠেলে দেয় অনেক বেশি পরিমাণে।

তাই, শুধু নিজেকে নিয়ে নয়। পরিবেশ নিয়েও সচেতন হোন। বায়ু দূষণের হাত থেকে পরিবেশকে মুক্ত করুন। তাহলে যেমন পরিবেশ সুন্দর থাকবে, তেমনই আপনিও সুস্থ থাকবেন।

সূত্র- মাউন্ট এলিজাবেথ হসপিটাল, আরবান ডিজাইন মেন্টাল হেলথ ইত্যাদি

ওডি/এনএম

স্বাস্থ্য-ভোগান্তি, নতুন পরিচিত অসুস্থতার কথা জানাতে অথবা চিকিৎসকের কাছ থেকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ পেতেই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যার পরামর্শ দেবার প্রচেষ্টা থাকবে আমাদের।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড