• শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মোটরবাইকে নারী : গল্পটা অনেকদিনের

  সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি

১৬ জুলাই ২০১৯, ১৪:২৬
বাইক
নারী বাইক রাইডার্স; (ছবি- রিফাত)

আরও অনেক কিছুর মতোই সমাজে এখনো নারীদের বাইক চালানোর ব্যাপারটি ট্যাবু হিসেবেই রয়ে গিয়েছে। একটা সময় মোটরবাইক নয়, মানুষ বেশি অভ্যস্ত ছিল বাইসাইকেলে। আর সেসময় এই বাইসাইকেলকে বাহন হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করে নারী। 

নারী অধিকার নিয়ে সবসময় কাজ করে যাওয়া সুজান বি অ্যান্থনি লিখেছিলেন যে, অন্যান্য ব্যাপারগুলোর চাইতে নারীদের মধ্যকার আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলতে যে জিনিসটি সবচাইতে বেশি কাজ করেছিল, সেটি হলো বাইসাইকেল। কিন্তু এই তুমুল জনপ্রিয় বাইসাইকেল কখন মোটরসাইকেলে পরিণত হলো? চলুন, জেনে নেওয়া যাক- 

শুরুটা যেমন ছিল- 

১৮৮০ সাল পর্যন্ত নারীদের মধ্যে বাইসাইকেল ছিল অসম্ভব জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। তবে পরিবর্তন আসা শুরু করে ১৮৮৫ সালের দিকে। এই সময় গোত্তেলিব ডেলমার বাইসাইকেলের সাথে ইঞ্জিন যুক্ত করেন। অবশ্য সেটা ঠিক এখনকার মতো মোটরসাইকেল ছিল না। কারণ, তখন দুটি চাকার বদলে বাইকে ছিল সাহায্যকারী আরও দুটি চাকা। ভারসাম্য বজায় রাখতে এমনটা করা হয়েছিল। তবে মোটরবাইক হিসেবে মোটেই খারাপ ছিল না সেটি। প্রতি ঘন্টায় ১২ মাইল যেতে সক্ষম ছিল এই মোটরবাইক। 

জনপ্রিয়তা যখন তুঙ্গে- 

ধীরে ধীরে ইঞ্জিনের বাইসাইকেল জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। ইতিহাস অনুসারে, প্রথম দুই চাকার মোটরসাইকেল চালু করা হয় ১৮৬৯ সালে। সেসময় এই মোটরসাইকেল তৈরি করেন ম্যাসাচুসেটসের সিলভেস্টার রোপার। এরপর আর বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি। মাত্র দুই যুগের মধ্যেই মোটরসাইকেল প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করা শুরু হয়। 

আপনি বর্তমানে যে বাইকগুলোকে দেখছেন, তেমন বাইক, ওরিয়েন্ট-অ্যাস্টার, প্রথম নির্মাণ করে ম্যাসাচুসেটসে অবস্থিত ওয়াল্টহামের মেটজ কোম্পানি। এসময়কার অন্যতম আরেকটি বাইক ছিল স্প্রিংফিল্ডের হেন্ডি ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি। পরবর্তীতে অবশ্য এই কোম্পানির নাম বদলে ইন্ডিয়ান মোটরসাইকেল হয়ে যায়। 

১৯০২ সালে হার্লে ডেভিডসন নিজেদের প্রথম তিনটি মোটরসাইকেল বিক্রি করে। আর দ্রুতই সেই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়। মার্ভেল, অ্যাক্সেলসিয়র এবং হেন্ডারসন ছিল সেসময়কার বাইকের না। বাইসাইকেলের মতো মোটরসাইকেল চালানো শুরু করেন এসময় নারীরা। তাদের কাছে এই বাহনটি শুধু কম খরচের উপায় ছিল না। একইসাথে সময় বাঁচানোর জন্যও যথেষ্ট উপযোগী ছিল। নারী, নাকি পুরুষ- মোটরসাইকেল চালু হওয়ার প্রথমদিকে এই ব্যাপারটিও খুব একটা ভাবা হয়নি। 

১৯১৫ সালে ইন্ডিয়ান মোটরসাইকেল প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গা থেকে আরও একটু এগিয়ে আসে। ফ্রন্ট এবং রিয়ার শকস বাইকের ব্যবহার করে তারা। ফলে মোটরসাইকেলে ভ্রমণ বেশ আরামদায়ক হয়ে পড়ে। দূরের যাত্রাপথে বাহন হিসেবে মোটরসাইকেলকে বেছে নিতে শুরু করে মানুষ। ঠিক এই সময়েই নারীদের মধ্যে অ্যাভিস হচকিস মেয়ে এফি হচকিসের সাথে নিউ ইয়র্ক থেকে সান ফ্রান্সিসকো পর্যন্ত, প্রায় ৫,০০০ মাইল মোটরসাইকেলে ভ্রমণ করেন। 

পথটা কষ্টের- 

বাধা যে আসেনি তা কিন্তু একেবারেই নয়। বিশেষ করে নারীদের জন্য অনেকসময় বাইকে চড়াটা ছিল বেশ ঝামেলার। হচকিসদের পরের বছরই দুই বোন অ্যাডেলিন এবং অগাস্টা ভ্যান ব্যারেন ইন্ডিয়ান পাওয়ারপ্লাস বাইক কিনে প্রথম কেউ হিসেবে অসম্ভব চড়াই পার হন এবং দুই মাসে ৩,৩০০ মাইলের একটি আন্তঃ উপমহাদেশীয় যাত্রা শেষ করেন। কিছু কারণবশত এসময় তাদেরকে একবার অ্যারেস্ট করা হয়। 

১৯২০ সালে হার্লে ‘দ্য এনথুসিয়াস্ট’ নামক একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করে এবং সেখানে ভিভিয়ান ওয়েলসের ৫০০০ মাইলের একটি ভ্রমণের কথা জানায়। নারীদের মোটরসাইকেল রাইডার হিসেবে কাজ করার অগ্রদূত হিসেবে বেজি স্ট্রিংফিল্ড বা মায়ামির মোটরসাইকেল কুইনকেও প্রথম হিসেবে ধরা হয়। তিনি একাই দেশের বাইরে মোট ৮ টি ভ্রমণ শেষ করেন। 

বেজির জন্য অ্যাফ্রো-আমেরিকান এবং নারী হিসেবে লাইসেন্স পাওয়া এবং এই ভ্রমণ সম্পন্ন করা ছিল অসম্ভব কঠিন একটি ব্যাপার। তবে মোটরসাইকেল যে শুধু এমন ভালো কাজেই ব্যবহার করা হয়েছে তা নয়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ও এই বাহন ব্যবহার করা হয়। 

একটা সময় গিয়ে অবশ্য ধীরে ধীরে এই পথটা সহজ হতে শুরু করে। শুধু অন্যান্য দেশে নয়, বাংলাদেশেও এখন মেয়েরা মোটরসাইকেলে অভ্যস্ত হচ্ছেন। এমনকি পুরো ব্যাপারটিকে আরও স্বাভাবিক করে তুলতে এগিয়ে এসেছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানও। পুরুষের সাথে সাথে রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে মোটরসাইকেল চালক হিসেবে কাজ করছেন এখন নারীরাও। কিন্তু পথটা কি এতোটাই সহজ? 

সম্পূর্ণ নারী মোটরসাইকেল চালক নির্ভর এমনি একটি প্রতিষ্ঠান ‘ওবোন’এর রাইডার সুরাইয়া জানান- “প্রথমে সহজ ছিলো না। বাবা-মা, চারপাশের কেউই ভালোভাবে নেয়নি আমার মোটরসাইকেল চালানো। কিন্তু এখন ওরা জানে যে, আমি মেয়ে হয়েও পারি। মেয়েরাও পারে। মোটরসাইকেল চালানো নিয়ে মেয়েদের দিকে বাঁকা চোখে তাকানোর কিছু নেই।”

স্কুটিকেই প্রাথমিকভাবে নারীরা বেশি ব্যবহার করে থাকলেও পৃথিবীজুড়ে মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন অনেক নারী। মানসিক বাধা এখনো যে নেই তা নয়। তবে ধীরে ধীরে সেই বাধা অন্যান্য দেশের সাথে কমছে বাংলাদেশেও। 

পথটা কঠিন। তবে নারী, এই পথে চলাটা তোমার অধিকার। তাহলে, যাত্রাটা শুরু হোক!

সূত্র- এডুরাইট। 

ওডি/এনএম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড