• মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

সততাই সফল ব্যবসার মূল পুঁজি 'কসাই' জমিলার

  সুবল রায়, দিনাজপুর প্রতিনিধি

০১ জুলাই ২০১৯, ১৩:২৩
দিনাজপুর
জমিলা বেগম

কসাই কথাটি বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে কোন পুরুষের ছবি। কিন্তু কসাই যদি হন নারী তাহলে একটু অবাক করে দেয়ার মতই হবে। আর যদি হয় সফল নারী কসাই, প্রতিদিন জবাই হয় ২ থেকে ৩টি গরু। যার মাংস নেয়ার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসেন, তাহলে তো বিষয়টি বিস্ময়েরই হবে। 

কসাইয়ের তকমা লাগিয়ে প্রায় ২০ বছর ধরে মাংস বিক্রি করে চলেছেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ঝাড়বাড়ি এলাকার জমিলা বেগম। স্থানীয়রা বলছেন, তার ব্যবসার বড় পুঁজি সততা। 

দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের ঝাড়বাড়ি গ্রামের জাকির হোসেনের মেয়ে জমিলা বেগম। ১৯৮৫ সালের দিকে বগুড়া জেলার ছ’মিল বন্দর এলাকার রফিকুল ইসলামের সাথে বিয়ে হয়, যিনি পেশায় কসাই ছিলেন। সেখানে রফিকুলের ব্যবসায় লোকসান হলে ২০০০ সালের দিকে স্বামী ও ছেলেসহ বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। 

বাড়ির পার্শ্বেই ঝাড়বাড়ি বাজারে স্বামীসহ মাংসের দোকান দেন। এ সময়ে স্বামী ব্যবসার আড়াই লাখ টাকা নিয়ে নিরুদ্দেশ হন। পরে নিজেই দোকানের হাল ধরেন, হয়ে যান কসাই আর পাশে থেকে মাকে সহযোগিতা করেন ছেলে জহুরুল হক। 

গরু কেনা, জবাই দেয়া, মাংস কাটা, ওজন দিয়ে বিক্রি করা সবই করেন জমিলা বেগম। ব্যবসার পুঁজির পাশাপাশি যোগ করেন সততা। হাড় ছাড়া স্বাস্থ্যসম্মত সঠিক ওজনে মাংস বিক্রি করায় তার দোকানে প্রায় ভিড় লেগেই থাকে।
 
জমিলা বেগমের মাংস নিতে জেলার কাহারোল, বীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, পঞ্চগড়সহ দূর-দূরান্তের ক্রেতারা আসেন। ক্রেতা ও স্থানীয়দের মতে-সততাই তার ব্যবসার বড় পুঁজি। 

জমিলা বেগম জানান, সংসার বাঁচাতে এই পথে আসা। প্রথমে তার চলার পথটি মসৃণ ছিল না। নানাভাবে সমস্যায় পড়েছেন, তবে ক্রেতাদের সহযোগিতায় নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন। নিজের অর্থ না থাকলেও ব্যবসা করার জন্য অনেকেই টাকা ধার দিয়ে সহযোগিতা করেন। 

বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়ামীন হোসেন জানান, জমিলা বেগমের বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। 

জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোর্ষেদ আলী খান জানান, নানান প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে নারী উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠা ও নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করায় তাকে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানসহ জয়ীতার সম্মাননা দেয়ার কথা জানিয়েছেন। 

জমিলার ছেলে জহুরুল ইসলাম মায়ের সাথে ব্যবসায় নিয়োজিত, প্রতিদিন বিভিন্ন বাজারে গিয়ে ক্রয় করেন গরু। যেগুলো জবাই করে বিক্রি করে মা জমিলা বেগম। আর জমিলার মেয়ে সোহাগী বর্তমানে ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী।

ওডি/আরবি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড