• শুক্রবার, ২১ জুন ২০১৯, ৭ আষাঢ় ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

শত বছরেও পূরণ হয়নি নওগাঁ-চাঁপাইবাসীর রেলের স্বপ্ন

  কাজী কামাল হোসেন,নওগাঁ

০৯ জুন ২০১৯, ১১:৪০
রেলপথ
সান্তাহার- রহনপুর রুটে রেলপথ ( ছবি : দৈনিক অধিকার )

নওগাঁর সান্তাহার থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রুটে রেলপথ চালুর বিষয়টি প্রথম আলোচনায় আসে ১৯১০ সালের দিকে। সে সময় প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে  তৎকালীন ইস্টার্ন বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ে একটি জরিপ পরচালনা করে। জরিপ দলের নেতা ডেলগ্রীন তার রির্পোটে অবিলম্বে এ রুটে রেলপথ নির্মাণের জন্য জোর সুপারিশ করেছিলেন।  কিন্তু  তারপর থেকে একাধিকবার প্রকল্পটি আলোচনায় আসলেও শতবছরেও সেটা আর আলোর মুখ দেখেনি। 

প্রকল্পটি দেশের উত্তরাঞ্চলের নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এ দুই জেলার মানুষের স্বপ্ন ও প্রাণের দাবি হলেও  গুরুন্তপূর্ণ দাবি বাস্তবায়নের জন্য কোনো সরকারই এগিয়ে আসেননি। উত্তরাঞ্চলের অবহেলিত জনপদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল সান্তাহার-রহনপুর রেল লাইন প্রকল্প।

জানা যায়, এই গণদাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৯১০ সালের দিকে তৎকালীন ইস্টার্ন বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ে একটি জরিপ পরচালনা করে। জরিপ দলের নেতা ডেলগ্রীন তার রির্পোটে অবিলম্বে এ রুটে রেলপথ নির্মাণের জন্য জোর সুপারিশ করেছিলেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্তির পর থেকে উত্তরাঞ্চলের জনগণের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের রেলওয়ে বোর্ড ১৯৬৩ সালে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষে পুনরায় কাজ শুরু করে। 

গঠিত জরিপ দলের তৎকালীন প্রধান আশরাফ আলী ডেলগ্রীনের রির্পোটের পক্ষে মতামত প্রকাশ করেন। আশরাফ আলী তার অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ১৯৪ পৃষ্টা লিখিত রির্পোটে প্রকল্পের একটি ব্লুপ্রিন্ট ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের গর্ভনরের নিকট হস্তান্তর করেন। কিন্তু যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও রেলওয়ে বোর্ড রহস্যজনকভাবে হঠাৎ করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

৬৬ মাইল দীর্ঘ বগুড়ার সান্তাহর-চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেলওয়ে প্রকল্পটি ব্রড ও মিটার গেজ দুধরনের লাইন নির্মিত হওয়ার কথা ছিল। নতুন এ রেলপথে ১১টি স্টেশন রাখার কথাও ছিল। স্টেশনগুলো হলো- সান্তাহার স্টেশন থেকে নওগাঁ শহর, হাঁপানিয়া হাট, হযরতপুর, জাহাঙ্গীরাবাদ, মহিষবাথান, নজিপুর, মধইল, সাপাহার, পোরশা উপজেলার সারাইগাছী বাজার, বেজোড়া, দাদপুর হয়ে রহনপুর স্টেশন। এছাড়া ট্রেন চলাচলের জন্য দুটি সেতু নির্মাণের প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার কথাও ছিল। সেতু দুটির একটি নওগাঁ ডিগ্রি কলেজের উত্তর ধারে ছোট যমুনা নদীর ওপর এবং অপরটি পত্নীতলার নজিপুর আত্রাই নদীর ওপর। 

স্বাধীনতার আগে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সংসদে সে সময়ের সাংসদ আবুল কালাম আজাদ ও মোজাফ্ফর রহমান চৌধুরী এ প্রকল্পটির কথা সংসদে উপস্থাপন করেছিলেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদের বাজেটে ফের সান্তাহার-রহনপুর রেলপথ প্রকল্পটি নিয়ে সেই সময় ব্যাপক আলোচনাও হয়েছিল। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উত্তরাঞ্চলের নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অবহেলিত জনপদ তথা বরেন্দ্র ভূমির আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। 

এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে অনগ্রসর এ জনপদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য যেমন ধান, আম, পাট, আখ, গম ইত্যাদি পরিবহনে মূখ্য ভূমিকা রাখতে পারবে এবং সেই সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি ঘটবে বলে নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাবাসী মনে করছেন। 

 

ওডি/ এফইউ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
SELECT id,hl2,parent_cat_id,entry_time,tmp_photo FROM news WHERE ((spc_tags REGEXP '.*"location";s:[0-9]+:"নওগাঁ".*')) AND id<>67794 ORDER BY id DESC LIMIT 0,5

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড