• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

‘জীবাণুযুদ্ধে’ জয়ী হওয়ার পথে গবেষকরা, পথ দেখাচ্ছে এভিগান

  স্বাস্থ্য ডেস্ক

০৬ এপ্রিল ২০২০, ২২:১৪
জীবাণু
প্রাণঘাতী করোনা জীবাণুর মাইক্রোস্কোপিক ছবি (ফাইল ছবি)

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জীবাণু অস্ত্রের সবচেয়ে বড় প্রয়োগ দেখা গিয়েছিল। ঠিক এর পরপরই পাগলাটে হয়ে ওঠা জীবাণু দাবানলের মতো ছড়িয়ে মানুষকে বধ করতে শুরু করে। ‘স্প্যানিশ ফ্লু’ নামে পরিচিত ওই সময়ের মহামারিতে প্রাণ হারিয়েছিল ৫ কোটি মানুষ। এবারেও যে পাগলাটে ‘করোনা ফ্লুর’ দাপটের পেছনে তেমন কোনো কারণ নেই, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। কারণ নানা রকম আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও আইনকানুন উপেক্ষা করেই বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো আড়ালে থেকে জীবাণু অস্ত্রের পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে পিছিয়ে নেই।

তবে উল্টো দিক থেকে আশা জাগানো দিকটি হলো- এমন জীবাণু অস্ত্র বশ মানানোর গবেষণাও বিশ্বজুড়ে তীব্র গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই দায়িত্বে নিয়োজিত গবেষকেরাই এখন নিঃশব্দে কাজ করে চলেছেন করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ বধের উপায় খোঁজার চেষ্টায়। তাদের সেই দৌড় সময়ের বিরুদ্ধে শোনালেও সাফল্য অর্জন থেকে খুব বেশি দূরে নেই তারা। জাপানের সাম্প্রতিক কিছু আবিষ্কার ও উদ্ভাবন সেই বার্তাই দিচ্ছে আমাদের।

করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় ওষুধের প্রয়োগগত সাফল্যের প্রথম খবরটি এসেছিল চীন থেকে। চীনে ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় জাপানের ফুজি ফিল্ম হোল্ডিং গ্রুপের একটি কোম্পানির আবিষ্কার এভিগানের ব্যবহার অনেক রোগীকে রোগমুক্ত হতে সাহায্য করে। ফলে চীনে এখন করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় এভিগানের প্রয়োগ অব্যাহত আছে।

মূলত এভিগান তৈরিই হয়েছিল সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার চিকিৎসার জন্য। করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এর ব্যবহারিক সাফল্য অনেকটা কাকতালীয় মনে করছে ওষুধের উদ্ভাবক কোম্পানি। তবে এর রাসায়নিক উপাদানে কিছুটা রদবদল করে এটাকে করোনা ভাইরাস চিকিৎসার উপযোগী করে তোলার জন্য কোম্পানির গবেষকেরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত সপ্তাহে ১৯ জন রোগীর ওপর এর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষা সফল প্রমাণিত হলে জাপান সরকার এর ব্যবহারের অনুমতি দেবে। সে ক্ষেত্রে করোনা ভাইরাস বধ করতে জাপান নিশ্চিতভাবে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।

জাপান সরকার অবশ্য ইনফ্লুয়েঞ্জার মোকাবিলার জন্য এভিগান মজুত করে রেখেছে। সরকারের বর্তমান মজুত দিয়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৭ লাখ রোগীর চিকিৎসা সম্ভব। এমতাবস্থায় জাপান সরকার বলছে, অন্য কোনো দেশ করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় ব্যবহার করার জন্য এভিগান পাওয়ার অনুরোধ জানালে তারা বিনা মূল্যে তা সরবরাহ করবে।

এ দিকে, সম্প্রতি জাপানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, করোনা বিস্তারের মুখে সরকার এভিগানের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে নির্দেশ দিয়েছে। ফুজি ফিল্মও চাহিদা পূরণ করতে আউটসোর্সিংয়ে করার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখছে।

আরও পড়ুন : সাড়ে ৫০০ কোটি বছরের পুরনো পদার্থ মিলল পৃথিবীতে!

ফুজি ফিল্মের পাশাপাশি দেশের অন্য কয়েকটি ওষুধ কোম্পানি, সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং দেশের নেতৃস্থানীয় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরাও করোনার ওষুধ নিয়ে গবেষণা করছেন। পাশাপাশি প্রচলিত আরও কয়েকটি ওষুধের কার্যকারিতাও যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

এমন একটি ওষুধ হচ্ছে তেইজিন ফার্মা লিমিটেডের সাইক্লোসোনাইড, আলভেসকো নামে যেটা বাজারজাত করা হয়। হাঁপানির চিকিৎসায় ব্যবহৃত এই স্টেরয়েড ইনহেলার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কয়েকজন রোগীর ওপর পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে এর সুফল সম্পর্কে জানতে পেরেছেন গবেষকেরা। ফলে এটাও করোনা ভাইরাস চিকিৎসার জন্য আরও বেশি কার্যকর করে তোলার গবেষণা অব্যাহত আছে।

ওডি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড