• বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ওয়াদি আস সালাম : বিশ্বের বৃহত্তম কবরস্থান

  মোঃ সাইফুল ইসলাম

১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১১:৪০
ওয়াদি আস সালাম কবরস্থান
ওয়াদি আস সালাম কবরস্থান; (ছবি- ইন্টারনেট)

ওয়াদি আস সালাম কবরস্থান হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম কবরস্থান। এটি ইরাকের নাজাফ শহরে অবস্থিত। কবরস্থানটি ৯১৭ হেক্টর বা ১৪৮৫.৫ একর জমি জুড়ে বিস্তৃত। জানা যায়, এ কবরস্থানটি ১৪শ বছরের পুরনো। ওয়াদি আস সালামে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ লোকের কবর রয়েছে। এছাড়াও সেখানে প্রতি বছর শত শত লাশ কবর দেওয়া হয়।

আরবি শব্দ ‘ওয়াদি আস সালাম’ কথাটির অর্থ হচ্ছে ‘শান্তির উপত্যকা’। এই শান্তির উপত্যকায় বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব, ধর্মীয় বৃহৎ নেতা, আলেম, রাজনৈতিক নেতাসহ বহু সাধারণ লোকের কবর রয়েছে।

ওয়াদি আস সালামে হযরত হুদ (আঃ), হযরত সালেহ (আঃ) এর কবর রয়েছে বলেও জানা যায়। এছাড়াও এর কাছেই হযরত আলী (রাঃ) এর সমাধি রয়েছে। তাই শিয়া মুসলিমরা ওয়াদি আস সালামকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে সম্মান করে।

স্থানীয় মুসলিমরা মনে করেন এটি স্বর্গেরই একটি অংশ। তাই অধিকাংশ লোকই সেখানে কবরের জায়গা প্রাপ্তির আবেদন করেন। কবরস্থানটি সকলের জন্য উন্মুক্ত। সেখানে ধনী-গরিব, রাজনৈতিক অথবা ধর্মীয় নেতাসহ সমাজের সকল শ্রেণীর লোকের কবর দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। ওয়াদি আস সালামে শুধু ইরাকি নয়, বাইরের অনেক দেশ যেমন- ভারত, দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া, লেবাননসহ বেশকিছু দেশের লোকেদেরও কবর দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল।

ওয়াদি আস সালামের কবরগুলো পোড়া ইটের তৈরি। সেগুলোর অনেকগুলোয় প্লাস্টার করা আছে। আবার কোনো কোনোটি নাম ফলকও দেখা যায়। পারিবারিক কবর হিসেবে পুরো একটি কক্ষ তৈরি করা হয়। প্রতিটি কক্ষে ৩০-৫০ জনের মৃতদেহ রাখা যায়। সেখানে কিছু কিছু ভূগর্ভস্থ কক্ষও রয়েছে। যেগুলোতে মইয়ের সাহায্যে যাওয়া যায়। সাম্প্রতিক সময়ে নির্মিত কবরগুলোয় নির্মাণশৈলীতে আধুনিকতার ছোঁয়া পাওয়া যায়।

ইরাকের স্থানীয় লোকজন মনে করেন বিশ্বস্ত আত্মার শরীর যেখানেই সমাধিস্থ করা হোক, তাদের আত্মা এই ওয়াদি আস সালামে যায়। ২০০৩ সালে ইরাকে সংঘটিত যুদ্ধের ফলে এই কবরস্থানের জায়গা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। 

সে সময় আমেরিকানদের ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের কারণে প্রায় তিন বর্গমাইল জায়গা বৃদ্ধি পায়! যুদ্ধের সময় ইরাকের সৈন্যবাহিনী সেখানে আমেরিকান সৈন্যদের হত্যার জন্য ওঁৎ পেতে ছিল। জানা যায়, এখনো স্থানীয় দুর্বৃত্তরা অনেক সমাধিতে আত্মগোপনে থাকতে পারে।

সমাধিক্ষেত্রটি আমেরিকানদের হত্যাযজ্ঞের পর ২০০৬-০৭ সালে শিয়া ও সুন্নীদের সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ডের কারণে বৃদ্ধি পায়। সর্বশেষ ২০০৮ সালে ইরাকের সেনাবাহিনীর সাথে সংঘর্ষের কারণে কবরস্থানটির আয়তন বৃদ্ধি পায়।

বর্তমানে কবরস্থানটির আয়তন মন্থরগতিতে বাড়ছে। কবরস্থান মন্থরগতিতে বাড়ছে মানে অনাকাঙ্খিত মৃত্যু কমে গেছে। কমে গেছে বহিঃশত্রুর আক্রমণ। শান্তিপ্রিয় মানুষের তো এটিই বড় চাওয়া।

তথ্যসূত্র : ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।

ওডি/এনএম 

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড