• রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

জাকাত সম্পর্কে যাবতীয় যা কিছু (পর্ব- ১)

  ধর্ম ডেস্ক

১৩ মে ২০১৯, ১৫:০১
যাকাত
ছবি : প্রতীকী

যাকাত বিষয়ে অনেকের অনেক প্রশ্ন থাকে। সেসব প্রশ্নের মাসআলাগুলো চলুন জেনে নেওয়া যাক- 

জাকাতের নেসাব : 

যদি কারো নিকট-

(১)সাড়ে সাত তোলা পরিমান স্বর্ণ থাকে অথবা 
(২)সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা থাকে অথবা 
(৩)সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার যে কোন একটির মূল্যের সমপরিমান টাকা-পয়সা বা ব্যবসার মাল থাকে অথবা 
(৪)যাকাতযোগ্য চারটি (স্বর্ণ, রুপা, টাকা-পয়সা ও ব্যবসার মাল) সম্পদই থাকে যার সমষ্টিগত মূল্য উপরোক্ত পরিমান সোনা বা রুপার যে কোন একটির মূল্যের সমপরিমান হয় অথবা 
(৫) যাকাতযোগ্য যে কোন তিনটি বা দুটি সম্পদ থাকে যার সমষ্টিগত মূল্য উপরোক্ত পরিমান স্বর্ণ বা রুপার (সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা) 

যেকোনো একটির মূল্যের সমপরিমান হয়, তবে সে নেসাবের মালিক হিসেবে ধর্তব্য হবে এবং বছরান্তে তার উপর যাকাত ফরজ হবে।

মাসআলা- যেমন ধরুন, কারো কাছে ১০ ভরি স্বর্ণ আছে। এটা নিসাবের পরিমানের থেকে বেশি, তাই তাকে যেইভাবে হিসাব করতে হবে- 

১০ * প্রতি ভরি স্বর্ণের বর্তমান বাজার মূল্য * ০.০২৫ = যেই টাকা আসবে, সেই পরিমান টাকা তাকে যাকাতের খাতগুলোতে ব্যয় করতে হবে।

অনুরূপভাবে রূপার বা ক্যাশ টাকার যাকাত হিসাব করতে হবে (মোট মূল্য * ০.০২৫ =...টাকা)।

যেমন: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি মূল্য হচ্ছে ৪৫,৮৯৭ টাকা। 

সে হিসেবে,

(১) ২০% মূল্য বাদ দিয়ে আপনার হাতে যে স্বর্ণ আছে তার বিক্রয় মূল্য = ৪৫,৮৯৭*০.৮০= ৩৬,৭১৮ টাকা।

(২) ২.৫% হারে ১ ভরি স্বর্ণের যাকাত আসবে = ৩৬,৭১৮ * ০.০২৫ = ৯১৮ টাকা (প্রায়)

যার কাছে সাড়ে সাত ভরির বেশী আছে, তিনি ৯১৮ এর সাথে মোট যত ভরি সেটা গুণ করলেই কত টাকা যাকাত দিতে হবে সেটা পেয়ে যাবেন। একই ভাবে রুপার যাকাত হিসাব করবেন।

মাসআলা- যেহেতু রুপার নেসাবের মূল্যমান স্বর্ণের নেসাবের মূল্যমান থেকে কম তাই শুধুমাত্র স্বর্ণ থাকার সুরত ব্যতীত বাকি সকল সুরতে রুপা দ্বারা নেসাব নির্ধারণ হবে। অর্থাৎ সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্য পরিমান সম্পদ থাকলে সে নেসাবের মালিক হবে।

মাসআলা- স্বর্ণ, রূপা ও নগদ টাকার নিসাব আলাদা আলাদা হিসাব করা হবে, একসাথে করে যাকাত দিতে হবে না। অর্থাৎ, কারো কাছে ৬ ভরি স্বর্ণ আর ৪৮ তোলা রুপা আছে, তাহলে তাকে দুইটার মূল্য যোগ করে একসাথে নিসাব হিসাব করে যাকাত দিতে হবেনা। কারণ, দুইটার নিসাব আলাদা, তাদের হিসাবও আলাদা হবে।

তবে স্বর্ণ + টাকা বা রুপা+টাকা মিলে নিসাব বা তার বেশি হলে যাকাত দিতে হবে।

যাকাত সংক্রান্ত জরুরী মাসায়েল :

যে সকল সম্পদের উপর যাকাত ফরজ হয়-

স্বর্ণ, রুপা, টাকা-পয়সা ও ব্যবসার পন্য এই চারটি জিনিষের উপর যাকাত আসে। কিছু জন্তুর উপরেও যাকাত আসে। তবে যেহেতু ঐ সকল জন্তুর উপর যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য প্রযোজ্য শর্তাবলী আমাদের দেশে সাধারণত পাওয়া যায় না তাই এখানে তা উল্লেখ করা হল না।

মাসআলা- স্বর্ণ/রূপা যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন তা যাকাতযোগ্য সম্পদ হিসেবে ধর্তব্য হবে। চাই তা বিস্কুট আকারে থাকুক বা মুদ্রা হিসেবে থাকুক বা অলংকার হিসেবে থাকুক বা পাত্র হিসেবে থাকুক।

মাসআলা- স্বর্ণ ও রুপা যদি খাঁটি না হয় বরং তাতে অন্য ধাতু মিশ্রিত থাকে তবে বেশি অংশ স্বর্ণ বা রুপা হলে তা পুরোটাই সোনা বা রুপা হিসেবে ধর্তব্য হবে। নেসাব পরিমান হলে যাকাত দিতে হবে। আর যদি খাঁদ বা অন্য ধাতু বেশি পরিমান হয় তবে তা ঐ অন্য ধাতু হিসেবে গন্য হবে। ব্যবসা ব্যতীত উক্ত ধাতুতে যাকাত আসবে না।

মাসআলা- স্বর্ণ/রূপা ব্যাতিত অন্যান্য ধাতুর অলংকার যত মূল্যবানই হোক না কেন ব্যবসার নিয়ত ব্যতীত তা যাকাতযোগ্য সম্পদ হিসেবে ধর্তব্য হবে না।

মাসআলা- ফসলী জমি, বাড়ি নির্মাণের জন্য ক্রয়কৃত জমি এবং এমনিতে ফেলে রাখা জমির উপর যাকাত ফরজ নয়। তবে এগুলো ব্যবসার উদ্দেশ্যে ক্রয় করলে যাকাত দিতে হবে যদি নেসাব পরিমান হয়।

মাসআলা- কারো একাধিক বাড়ি রয়েছে। তার উদ্দেশ্য হলো ভাড়া খাটিয়ে টাকা অর্জন। তবে উক্ত বাড়ীগুলোর মূল্যের উপর যাকাত আসবে না। তবে ভাড়া বাবদ অর্জিত টাকার উপর যাকাত আসবে যদি নেসাব পরিমান হয়। অনুরূপভাবে থাকার জন্য নির্মাণকৃত বাড়ির উপরেও যাকাত আসে না।

মাসআলা- মিল, কলকারখানা ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে যে সকল আসবাব রাখা রয়েছে সেগুলোর উপর যাকাত ফরজ নয়। কেননা এ সকল জিনিষ বিক্রি করা হয় না। তবে মেশিন থেকে উৎপন্ন পন্যের উপর যাকাত আসবে। অনুরূপভাবে কারখানায় যে সকল কাঁচামাল বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে তার উপরও যাকাত আসবে। যেমন গার্মেন্টস এ জামা-কাপড়, সুতা, বোতাম, চেইন ইত্যাদি। কাজেই এগুলোর উপর যাকাত আসবে।

মাসআলা- যে সকল যানবাহন ( রিক্সা, বাস, ট্রাক, লঞ্চ, জাহাজ ইত্যাদি ) ভাড়ায় খাটানো হয় অথবা উপার্জনের উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয় তার মূল্যের উপর যাকাত আসে না। বরং এগুলোর আয়ের উপর যাকাত আসবে। তবে এসব যানবাহন বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ক্রয় করে থাকলে এগুলোর মূল্যের উপর যাকাত আসবে। অনুরূপভাবে ব্যবহারের জন্য ক্রয়কৃত যানবাহনের উপর যাকাত আসবে না। চাই তা যত বেশি ও দামীই হোক না কেন।

মাসআলা- মোটা তাজাকরনের পর বিক্রির উদ্দেশ্যে যে জানোয়ার ক্রয় করা হয় তার মূল্যের উপর যাকাত আসবে।

মোট কথা এক্ষেত্রে মূলনীতি হল স্বর্ণ-রুপা,নগদ টাকা ও ব্যবসার মাল ব্যতিত যত সম্পদ রয়েছে তা যত বেশি দামী হোক না কেন তার উপর যাকাত আসে না। আর স্বর্ণ-রুপা ব্যতীত যে কোন সম্পদ যখন তা ব্যবসার উদ্দেশ্যে ক্রয় করা হয় যাকাতযোগ্য সম্পদ হিসেবে ধর্তব্য হবে।

চলবে... 

তথ্যসূত্র : মুফতী আবুল হুসাইন

ওডি/এনএম
 

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড