• শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০, ২৭ চৈত্র ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

স্নেহ-ভালোবাসা পাওয়া ছোটদের অধিকার

  মুনশি আমিনুল ইসলাম

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৭:১২
ইসলাম
ছবি: প্রতীকী

শিশু-কিশোরদের মন খুবই সরল, কোমল ও পবিত্র। মহানবি (সা.) শিশুদের মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন। যে কোনো শিশুকে তিনি নিজের সন্তানের ন্যায় আদর-সোহাগ করতেন। শিশুদের কোনো ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন না করে তাদের সঙ্গে সব সময় ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা দানের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের প্রতি স্নেহ প্রদর্শন করে না এবং বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে না, সে আমাদের কেউ নয়।’ (আত-তিরমিজি, হাদিস নং : ১৮৪২, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৫৫)

একবার আকরা ইবনে হাবিস (রা.) রাসুলুল্লাহর (সা.) কাছে এসে দেখতে পেলেন, তিনি তাঁর দুই নাতি ইমাম হাসান ও হুসাইনকে চুমু দিচ্ছেন। তিনি নবিজিকে (সা.) বললেন, আপনি আপনার মেয়ের ছেলেদের চুমু দিচ্ছেন? আল্লাহর শপথ, আমার দশ দশটি সন্তান রয়েছে, এদের কাউকেই আমি কোনো দিন চুমু দেইনি। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন, ‘আল্লাহ তোমার অন্তর থেকে রহমত ছিনিয়ে নিয়েছেন, তাতে আমার কী দোষ?’ (সহিহ বুখারি :৫৫৩৯, খণ্ড : ১৮, পৃষ্ঠা :৪০৪)

মক্কা বিজয়ের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন বিজয়ী বেশে মক্কা নগরীতে প্রবেশ করেন, তখন উটের ওপর তাঁর সঙ্গে ছিল এক শিশু এবং এক কিশোর। শিশুটি ছিল রাসুলুল্লাহর (সা.) বড় মেয়ে জয়নবের (রা.) শিশুপুত্র আলী (রা.) ও কিশোরটি ছিল উসামা (রা.)। নবি নন্দিনী ফাতিমার (রা.) শিশুপুত্র হাসান ও হুসাইনকে (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) যে কত গভীর ভালোবাসতেন, ইতিহাসে এর বহু ঘটনা উল্লেখ আছে। রাসুলুল্লাহর (সা.) এ শিশুপ্রীতি কেবল নিজ পরিবারের বা অতি প্রিয় সাহাবিদের শিশুর মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং সব শিশুর ব্যাপারেই তাঁর ছিল সমান দরদ। নবিজি (সা.) শিশুদের কান্না শুনতে পেলে নামাজ সংক্ষিপ্ত করতেন এবং বলতেন, ‘আমি নামাজ দীর্ঘায়িত করার ইচ্ছায় দাঁড়াতাম; কিন্তু যখন কোনো শিশুর কান্না শুনতাম, তখন সংক্ষিপ্ত করতাম..।’ (সহিহ বুখারি :৮২১, খণ্ড :৩, পৃষ্ঠা :৩৭৭)

মহানবি (সা.) শিশুদের গভীরভাবে ভালোবাসতেন, যে কোনো শিশু পেলে তাকে জড়িয়ে ধরতেন ও আদর-স্নেহ করতেন। তিনি মুসলিম-অমুসলিম সব শিশুকেই ভালোবাসতেন। ইরশাদ করেছেন, ‘প্রতিটি নবজাতকই জন্মলাভ করে ফিতরাতের উপর। এরপর তার মা-বাপ তাকে ইয়াহুদি বা খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজারি রূপে গড়ে তোলে।’ (সহিহ বুখারি : ৪৪০, খন্ড ২, অধ্যায় ২৩)

অতএব, ছোটদের প্রতি বড়দের প্রথম করণীয় হলো তাদের স্নেহ করা। কথায় কথায় তাদের ধমক দেওয়া ও তিরস্কার করা উচিত নয়। ছোটদের ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা উচিত। প্রথম পর্যায়ে দু’একবার নম্রভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার পর তাতে কাজ না হলে তখন কঠোরতা গ্রহণ করলে অসুবিধা নেই।

  • ছোটদের সাধ্যের বাইরে তাদের কাছ থেকে কাজ নেওয়া যাবে না। তাদের আরাম, নিদ্রা প্রভৃতির প্রতিও খেয়াল করা চাই।
  • কখনো ছোটদের প্রতি অতিরিক্ত রাগ বা ক্ষোভ প্রকাশ করলে বা শাসন করলে পরবর্তী সময়ে তাদের মন খুশি করে দেওয়া দরকার। তবে কোনো শিশুকে এতটা নৈকট্য প্রদান করবে না বা এতটা প্রশ্রয় দেবে না, যাতে সে মাথায় চড়ে যায়।
  • ছোটদেরও সত্য কথা বলার অধিকার রয়েছে, কাজেই ছোটদের কেউ কোনো ন্যায়ের কথা বললে তাকে খারাপ মনে করার অবকাশ নেই। অবশ্য আদব রক্ষা করে না বললে তার জন্য স্বতন্ত্র উপদেশ দেওয়া যেতে পারে।
  • ছোটদের হেয় করা যাবে না। কেননা, ছোট হওয়া সত্ত্বেও তার মধ্যে এমন কোনো বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে, যা তার (বড়দের) মধ্যে নেই।
  • নিজেরা শরিয়তসম্মত কাজ করে ছোটদের জন্য শিষ্টাচারের মডেল হতে হবে।
  • ছোটরা যদি অধীনস্থ হয়, তাহলে তাকে শরিয়ত মোতাবেক গড়ে তোলা এবং পরিচালনা করা বড়দের দায়িত্ব।

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড