• রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মসজিদ পরিচিতি

গম্বুজের ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যে সুসজ্জিত ওয়াজির খান মসজিদ

  ধর্ম ও জীবন ডেস্ক

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬:০২
ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের লাহোরে অবস্থিত মুঘল যুগের একটি মসজিদ- ওয়াজির খান মসজিদ। সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে ১৬৩৪ সালে এটির নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ১৬৪২ সালে নির্মাণ শেষ হয় বলে জানা যায়। মুঘল আমলের মসজিদসমূহের মধ্যে এটি সবচেয়ে সুসজ্জিত হিসেবে স্বীকৃত। মুঘল দরবারের প্রধান চিকিৎসক ইলামউদ্দিন আনসারি মসজিদ নির্মাণের আদেশ দিয়েছিলেন। তিনি ওয়াজির খান নামে পরিচিত ছিলেন। ওয়াজির খান পরবর্তীতে পাঞ্জাবের সুবেদার নিযুক্ত হন। তিনি লাহোরে আরও কিছু স্থাপনা নির্মাণ করেছিলেন।

ওয়াজির খান মসজিদ লাহোরের দেয়ালঘেরা শহরের ভেতরে শাহি গুজারগাহ সড়কের দক্ষিণে অবস্থিত। এই পথে মুঘল অভিজাতরা লাহোর দুর্গে যাতায়াত করতেন। এছাড়া মসজিদের সম্মুখে ওয়াজির খান চক অবস্থিত। ওয়াজির খান মসজিদ একটি বিশাল কমপ্লেক্সের অংশ হিসেবে গড়ে ওঠে। এই কমপ্লেক্সে ঐতিহ্যগতভাবে ক্যালিগ্রাফার ও বই বাঁধাইকারীদের জন্য দোকান বরাদ্দ করা হয়। মসজিদের প্রধান প্রবেশপথের সামনে শহরের চত্বর ছিল। মসজিদকে ঘিরে নির্মিত দোকানপাট থেকে প্রাপ্ত অর্থ মসজিদের জন্য ওয়াকফ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছিল।

সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে ১৬৩৪ বা ১৬৩৫ সালে মসজিদের নির্মাণ শুরু হয় এবং সাত বছর ধরে নির্মাণ কাজ চলে। ১৮৮০ এর দশকের শেষদিকে রুডইয়ার্ড কিপলিঙের বাবা জন লকউড কিপলিং সাবেক জার্নাল অব ইন্ডিয়ান আর্টে মসজিদের সজ্জা নিয়ে লিখেছিলেন। ব্রিটিশ পণ্ডিত ফ্রেড হেনরি এন্ড্রুজ ১৯০৩ সালে মসজিদের ভগ্নদশার কথা লিখেছেন।

মসজিদটি একটি উচ্চ ভিত্তির ওপর নির্মিত। এর মূল অংশটি ওয়াজির খান চকের দিকে উন্মুক্ত। মসজিদের বাইরের পরিসীমা হলো ২৭৯ ফুট (৮৫ মি) by ১৫৯ ফুট (৪৮ মি)। এর দীর্ঘ অংশটি শাহি গুজারগাহর সঙ্গে সমান্তরাল। মসজিদটি চুনাপাথর সহযোগে ইট দ্বারা নির্মিত। বিভিন্ন অঞ্চলের সজ্জা-শৈলী ব্যবহারের কারণে ওয়াজির খান মসজিদ বেশ সুপরিচিত। শাহজাহানের যুগে লাহোরে নির্মিত অন্যান্য স্থাপনায় কাশি-কারি শৈলী ব্যবহার হলেও ওয়াজির খান মসজিদের মতো ব্যাপক মাত্রায় আর কোথাও ব্যবহার হয়নি।

মসজিদটির অভ্যন্তরে ফ্রেসকোর সজ্জায় মুঘল ও স্থানীয় পাঞ্জাবি সজ্জার মিশ্রণ ঘটেছে। মসজিদের বাইরের অংশ পারস্য শৈলীর কাশি-কারি সজ্জায় সজ্জিত করা হয়। ভেতরের উঠানের দিকে থাকা বহির্ভাগ সমৃদ্ধ মোটিফে সজ্জিত। এতে ১৭শ শতাব্দীর পারস্যের ছাপ লক্ষ্য করা যায়। পারস্য রীতিতে ব্যবহৃত রঙের মধ্যে রয়েছে লাজভার্দ‌ (কোবাল্ট ব্লু), ফিরোজা, সাদা, সবুজ, কমলা, হলুদ ও বেগুনি। অন্যদিকে পারস্য প্রভাবিত মোটিফে ফুল, ফলের নকশা রয়েছে। মসজিদে সাইপ্রাস গাছের মোটিফ রয়েছে। এই মসজিদে প্রথম পারস্য রীতির মোটিফ ব্যবহৃত হয়েছিল।

ওয়াজির খান চকের দিকে থাকা বহির্ভাগ টাইল ও ক্যালিগ্রাফি দ্বারা শোভিত করা হয়েছে। এতে কুরআনের আয়াত, হাদিস, দোয়া ইত্যাদি উৎকীর্ণ রয়েছে। নামাজের মূল স্থানের ইওয়ানে কুরআনের আয়াত উৎকীর্ণ রয়েছে। ক্যালিগ্রাফার হাজি ইউসুফ কাশ্মিরি এগুলো উৎকীর্ণ করেছেন।

একটি বৃহদাকার ইওয়ান দিয়ে মসজিদটিতে প্রবেশ করতে হয়। ইওয়ানের দুই পাশে দুইটি ঝুলবারান্দা রয়েছে। ইওয়ানের উপর আরবিতে শাহাদাহ উৎকীর্ণ রয়েছে। ইওয়ানের পাশে থাকা প্যানেলে রয়েছে ক্যালিগ্রাফার মুহাম্মদ আলি কর্তৃক উৎকীর্ণ পার্সিয়ান কবিতা। ছোট প্রবেশপথ দিয়ে মসজিদের বাজারে অবস্থিত অষ্টভুজাকার চেম্বারে যাওয়া যায়।

নামাজের স্থানের মধ্যভাগে ৩১ ফুট উঁচু গম্বুজ রয়েছে। এর ব্যাস ২৩ ফুট। চারটি খিলান নিয়ে গঠিত বর্গাকার প্যাভিলিয়নের ওপর এটি অবস্থিত। এটি পারস্যের স্থাপত্য রীতি। নামাজের স্থানের বাকি অংশের উপর ২১ ফুট উঁচু ও ১৯ ফুট ব্যাস বিশিষ্ট গম্বুজ রয়েছে। এই গম্বুজগুলো লোদি যুগের শৈলীতে নির্মিত হয়। সর্বউত্তর ও সর্বদক্ষিণে চক্রাকার সিঁড়িবিশিষ্ট ঘর রয়েছে। এই সিঁড়ি দিয়ে ছাদে যাওয়া যায়। এখানের দেয়ালে আরবি ও ফার্সি ক্যালিগ্রাফি উৎকীর্ণ রয়েছে। প্রত্যেক দেয়ালে স্বতন্ত্র মোজাইকের নকশা দেখা যায়। গম্বুজের ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ইমাম প্রদত্ত খুতবা মসজিদের প্রাঙ্গণে শোনা যায়। সূত্র: উইকিপিডিয়া

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড