• রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দুঃস্বপ্ন দেখলে করণীয়

  ধর্ম ও জীবন ডেস্ক

৩০ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:০১
দুঃস্বপ্ন
ছবি : প্রতীকী

অনেক সময় আমরা ঘুমের ঘোরে দুঃস্বপ্ন দেখে আঁতকে উঠি। আসলে দুঃস্বপ্ন দেখলে ভয় পাবার কিছু নেই।সুন্নাহ অনুসারে আমল করলে কোনো ক্ষতি হবে না ইনশাআল্লাহ। চলুন জেনে নিই দুঃস্বপ্ন দেখলে আমাদের কী করণীয়। 

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ এমন স্বপ্ন দেখে, যা সে অপছন্দ করে, তখন সে যেন তার বাম দিকে তিনবার থুথু নিক্ষেপ করে এবং আল্লাহর নিকট তিনবার শয়তান হতে আশ্রয় চায় ও পার্শ্ব পরিবর্তন করে।’ [সহিহ মুসলিম, মিশকাত : ৪৬১৩]

অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলবে, স্বপ্নটি (খারাপ হলে) কারও নিকট প্রকাশ করবে না। তাহলে সেই স্বপ্ন তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আর খারাপ স্বপ্ন তো শয়তানের পক্ষ থেকে আসে।’ [সহিহ বুখারি, মুসলিম, মিশকাত : ৪৬১২]

অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘সে তখন উঠে দুই রাকাত (নফল) সালাত আদায় করবে।’ [তিরমিযি : ২২৮০]

তাহলে হাদিসের আলোকে আমাদের করণীয় হলো :

১. দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে উঠলে বাম পাশে তিনবার থুথু ফেলব। এটি প্রতীকী থুথু; মুখ ভর্তি করে থুথু ফেলতে হবে না। অনেকে ভয় পেলে নিজের বুকে যেভাবে থুথু দেয় মোটামুটি সেভাবে। তবে ভয় পেলে বুকে থুথু মারার কাজটি অর্থহীন।

২. তিনবার ‘আউযু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম’ পড়ব।

৩. যে পার্শ্বে ঘুমাচ্ছিলাম সেটি পরিবর্তন করব। ডানে থাকলে এবার বামে শোব, বামে থাকলে ডানদিকে কাত হয়ে শোব। 

৪. দুঃস্বপ্নটি কারও নিকট বর্ণনা করব না; তবে স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে প্রয়োজনে কোনো বিজ্ঞ আলেমের দারস্থ হওয়া যেতে পারে।

৫. সম্ভব হলে উঠে দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করব।

৬. ঘুমের পূর্বে কিছু যিকর করে ঘুমাব। যেমন : আয়াতুল কুরসি, সুরা ফালাক-নাস-ইখলাস, ঘুমের দুয়া ইত্যাদি।

৭. ওযু করে ঘুমাব।

বোবায় ধরলে করণীয় : 

সাধারণত দুই অবস্থায় বোবা ধরে। এক. কেউ একা ঘুমালে এবং দুই. চিৎ হয়ে ঘুমালে। তবে, সবসময় এমনটিই হয় ব্যাপারটা তেমন নয়। অনেক সময় দুজন থাকলেও বোবা ধরে। এটাকে কেউ কেউ সাময়িক কোনো রোগ বা শারীরিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন আবার অনেকেই দুষ্ট জিনের কথা বলেন। মূলত: দুটোই হতে পারে। এজন্য উত্তম হবে, ঘুমানোর পূর্বে সুন্নাহসম্মত আমলগুলো করা। যেমন: ওযু করে ঘুমানো, আয়াতুল কুরসি, সুরা ফালাক, সুরা নাস, সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত ইত্যাদি তিলাওয়াত করে, ঘুমের দুয়া পড়ে, যিকর করতে করতে ডান কাতে ঘুমিয়ে যাওয়া। দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এ আমলগুলো করে ঘুমালে ইনশাআল্লাহ, বোবা ধরার সমস্যা থাকবে না।

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড