• বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

হাতিরঝিল দেখলে ইউরোপে এসেছি মনে হয় : তথ্যমন্ত্রী  

  অধিকার ডেস্ক

২০ অক্টোবর ২০১৯, ১২:১১
হাছান মাহমুদ
আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ (ছবি : ফাইল ফটো)  

দেশে ই-সিগারেট বন্ধের বিষয়ে স্বাস্থ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। 

তিনি বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করেছে। এ দেশেও এটি বন্ধের বিষয়ে স্বাস্থ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রদর্শিত উপাত্ত অনুযায়ী ২০১৭ সালে দেশে ই-সিগারেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২ লাখ ছিল, যা এখনো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।’

জনসচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা এক্ষেত্রে বেশি কার্যকর হবে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।

শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে তামাকজাত নব্য পণ্য ব্যবহার রোধে ‘ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট ও বাংলাদেশ : বর্তমান প্রেক্ষাপটে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।  

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমি সারা জীবনে একটি সিগারেটও খাইনি, এমনকি একটি টানও দিইনি। সিগারেটের টানের মাহাত্ম্য আজও জানি না। আমার বন্ধুরা অনেক চেষ্টা করেছে। আমাকে একটা টান দেয়ানোর জন্য তারা অনেক চেষ্টা করেছে। তাদের কথা হলো- ‘খাবি না ঠিক আছে, কিন্তু একটা টান দিয়ে দেখ’। কিন্তু আমি চিন্তা করেছি-একটা দিলে দ্বিতীয়টা দেয়া হবে। এভাবে সিগারেট অভ্যাসে পরিণত হবে।

সিগারেট না খাওয়ার পিছনের কারণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, আমার মা মারা যান (আমার) ৭ বছর বয়সে। আমার বাবা খুব সিগারেট খেতেন। তিনি ছিলেন আইনজীবী। সম্ভবত আমার বয়স তখন ৮ বছর; ওই সময় বাবা ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন। ডাক্তার ওনাকে সিগারেট খেতে নিষেধ করেন। এরপর বাবা এসে আমাকে বললেন জীবনে কোনোদিন সিগারেট খাবি না। আমি বাবার ওয়াদা রক্ষা করেছি।

তিনি আরও বলেন, আমি তাস খেলা শিখিনি। ইচ্ছা করেই শিখিনি। শিখিনি এজন্য যে, আমাদের প্রজন্ম তাস খেলা খেলে প্রচুর সময় ব্যয় করত। চট্টগ্রাম শহরে আমি বড় হয়েছি। আমাদের বাসা যেখানে ছিল সেখান থেকে তিন কিলোমিটার দূরে মুসলিম হাইস্কুল। হেঁটে স্কুলে যেতাম। আমার কয়েকজন বন্ধু ছিল- যারা দস্যু উপন্যাসসহ এত উপন্যাস পড়ত, এত আসক্ত ছিল যে, স্কুলে যাওয়ার সময় তারা হাঁটতে হাঁটতে পড়ত। তাদের আমরা পাহারা দিতাম যাতে ফুটপাত থেকে পড়ে না যায়। আসার সময়ও তারা পড়তে পড়তে আসত। আমি উপন্যাস পড়তাম না। উপন্যাসের এমন আসক্তি দেখে আমি সেটা থেকে দূরে ছিলাম।

তিনি বলেন, ‘ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি আমাদের মানবিকভাবে উন্নত জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। এজন্য প্রয়োজন মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও মানবপ্রেমের বিকাশ। দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসলেই সঠিক পথে এগোনো সম্ভব।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনন্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। কবিতায় কুঁড়েঘর আছে, বাস্তবে নেই। খালি পায়ে মানুষ দেখা যায় না। সন্ধ্যায় একমুঠো বাসি ভাত আর কেউ চায় না। আকাশ থেকে হাতিরঝিল দেখলে মনে হয় ইউরোপের কোনো শহরে এসেছি।’

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুল মালিকের সভাপতিত্বে গোলটেবিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যারিস্টার শামিম হায়দার পাটোয়ারি এমপি। বক্তব্য দেন আয়োজক সংস্থা ইউনাইটেড ফোরাম এগেইনস্ট টোব্যাকোর মহাসচিব ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক খন্দকার আবদুল আউয়াল রিজভী, এপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী প্রমুখ। হার্ট ফাউন্ডেশনের এন্টি-টোব্যাকো প্রোগ্রাম অফিসার ডা. আহমাদ খাইরুল আবরার বিষয়ভিত্তিক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

ওডি/এআর 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড