• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন

মিরপুর বস্তির সহস্রাধিক ঘর পুড়ে ছাই

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ আগস্ট ২০১৯, ২৩:০৭
মিরপুর
মিরপুরে বস্তিতে ভয়াবহ আগুন (ছবি : দৈনিক অধিকার)

রাজধানীর মিরপুর ৭ নম্বর ঝিলপাড়ের চলন্তিকা বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সহস্রাধিক ঘর পুড়ে ছাই হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখনো আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তবে আগুনের ভয়াবহতা কমে এসেছে।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) রূপনগর থানার পেছনে চলন্তিকা মোড়ে অবস্থিত বস্তিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার আগুনের সূত্রপাত হয়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বস্তিটি প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার লম্বা। এতে হাজার হাজার ঘর ছিল। এর প্রায় সবই পুড়ে ছাই হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে কেউ কেউ ধারণা করছেন, বস্তির কোনো ঘর থেকে রান্না করার সময় অসাবধানতাবশত আগুন লাগে। পরে তা দ্রুত পুরো এলাকায় ছড়িয়ে যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, আগুনের খবর শুনে বস্তির সব মানুষ আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন। অনেকে ঘরের মালপত্র সরানোর চেষ্টা করেও আগুনের উত্তাপের কারণে পারেননি। পরিবার সদস্যদের নিয়ে বের হতে গিয়ে অনেকেই আহত হন। তাদের অনেককে আশেপাশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেছেন স্বজনরা। কয়েকজন বস্তিবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘর থেকে বের হওয়ার সময় অনেককে পড়ে গিয়ে বা আগুনের আঁচে আহত হতে দেখেছেন তারা। এ সময় তীব্র ধোঁয়ার সৃষ্টি হওয়ায় অনেকে অসুস্থ হন। বস্তিটির বেশিরভাগ বাসিন্দা পোশাক শ্রমিক ছিলেন বলে জানিয়েছে অনেকে।

এ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ২৪টি ইউনিট কাজ করছে। তাদের সহযোগিতা করছে, পুলিশ ও ওয়াসা। ঈদের ছুটি থাকায় পোশাক কারখানার কর্মীরাও ছুটি কাটিয়ে এখনও বস্তিতে ফেরেনি।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে কী কারণে এই আগুনের সূত্রপাত, সেটি প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোশতাক আহম্মেদ বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আমরা সবাই মিলে কাজ করছি। এখনো কোনো নিখোঁজের খবর পাইনি। হতাহতের বিষয়ে এই মূহুর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না। 

স্থানীয় বাসিন্দা কবির বলেন, আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ায় ফায়ার সার্ভিসের লোকজন কেবল বাইরের দিকেই পানি দিতে পেরেছে। আগুনের তীব্রতা খুব বেশি ছিল, তাই তারা ভেতরের দিকে ঢুকতে পারেনি। এই বস্তির পাশের একটা মসজিদের ছয়তলা পর্যন্ত আগুন লাগে। মসজিদে আটকে পড়া মানুষদের পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে উদ্ধার করেছে।

সবুজ নামে স্থানীয় আরেকজন জানান, বস্তির সব ঘর বাঁশ-কাঠ-টিন দিয়ে তৈরি। এ কারণে আগুন একটার পর একটা বাড়ি গ্রাস করে। আর উত্তাপ এত বেশি হয়েছিল যে বস্তির মাঝখানে ফায়ার সার্ভিসের মানুষ তো দূরে থাক পানিও দিতে পারেনি।

ওডি/আরএডি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড